ইরাকে আবার সহিংসতা, বিক্ষোভ-সংঘর্ষে নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক : ইরাকে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ৪ বিক্ষোভকারী এবং দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো বহু মানুষ।

কয়েক সপ্তাহের শান্ত অবস্থার পর সোমবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ও অন্যান্য শহরগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ওই সংঘর্ষ হয়।

নিরাপত্তা করমকর্তা এবং হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন, বাগদাদের তায়ারান স্কয়ারে দুই বিক্ষোভকারী গুলিতে এবং একজন গ্যাস ক্যানিস্টারে আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা গেছে। চতুর্থ বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে শিয়া শহর কারবালায়।

বিক্ষোভকারীদের ছুড়ে মারা পেট্রোল বোমা, পাথরের জবাবে পুলিশ টিয়ারগ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ওদিকে, ইরাকের বসরা শহরে বিক্ষোভ চলার সময় গাড়ির ধাক্কায় দুই পুলিশ নিহত হয়েছে। পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ এড়াতে চালক দ্রুত গাড়ি চালিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলেও কয়েকটি জায়গায় শত শত বিক্ষোভকারী টায়ার পুড়িয়েছে এবং নাসিরিয়া, কারবালা ও আমারাসহ প্রধান প্রধান নগরীর রাস্তাগুলো অবরোধ করেছে। প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহাদি ইরাকিদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নতুন সরকার ঘোষণাসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতি পূরণ করেননি বলে অভিযোগ করেছে তারা।

বাগদাদ পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া সব রাস্তাই আবার চালু করেছে বলে জানিয়েছে। তাহরির স্কয়ারে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, বাগদাদ থেকে দক্ষিণের শহরগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

গতবছর ১ অক্টোবর থেকে কর্মসংস্থান সংকট দূর করা, সরকারের দুর্নীতি বন্ধসহ সরকারি সেবার মান বাড়ানোর দাবিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদসহ বিভিন্ন শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। তারপর থেকে বাগদাদসহ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

২০০৩ সালে শাসক সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে ইরাকে এটিই সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ। প্রতিবাদ চলাকালে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেডের ব্যবহারে অস্থিরতার আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর