এখনো অনেক কাজ বাকি, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ: কাদের

অনলাইন ডেস্ক : আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের নাম ঘোষণা করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর বিকেলে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি আমাদের নেত্রী, আমাদের অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা তিনি অপরিহার্য, আমরা কেউই অপরিহার্য নয়। আমি মনে করি সাধারণ সম্পাদক আমি নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু এই পদে আসার মতো আরও যোগ্য ব্যক্তি আওয়ামী লীগে আছে। কিন্তু করতে তো হবে একজনকেই সেই হিসেবে আমি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছি।’

নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার তো ফিরে আসারই কথা ছিল না। অলৌকিকভাবে আমি আপনাদের মাঝে ফিরে এসেছি। দেশবাসীর দোয়া এবং মমতাময়ী মায়ের মতো আমার নেত্রী পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সেই সময় সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে আমাকে সাহায্য করেছেন। আজকে আমার কলিগরা তারাও আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। আমার অবর্তমানে তারা দলকে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেননি। আমার অবর্তমানেও আওয়ামী লীগ সারা দেশে টিম ওয়ার্ক করে গেছে, সক্রিয় রেখেছে।’

কাদের বলেন, ‘এখনো অনেক কাজ বাকি। সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। আজকে আমাকে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত করার জন্য আমি আমার অভিভাবক আমাদের নেত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার অপরিসীম কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার আরেকজন শুভাকাঙ্খীকেও আমি কৃতজ্ঞতা জানাব, তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানাকে। আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাবো আওয়ামী লীগের প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কাউন্সলর যারা আজকে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের নেত্রীর মতো আমাকেও দ্বিতীয়বার নির্বাচিত করেছেন। আমাদের নেত্রী এবার নিয়ে নবমবার নির্বাচিত হয়েছেন। আমাদের নেত্রী যেতে চাইছিলেন। তিনি যেতে চাইলেও আওয়ামী লীগের কর্মীরা যেতে দেবেন না। ’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেটা করেছি, আপনারা লক্ষ্য করেছেন নির্বাচন কমিশন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে তিনবার করে কাউন্সিলদের বলেছেন আর কোনো প্রস্তাব আছে কিনা। প্রস্তাব না থাকাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। এরপর কাউন্সিলররাই আমাদের নেত্রী, আমাদের সভাপতিকে বাকি উপদেষ্টা কমিটি এবং আমাদের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছে। সেটা এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। আমাদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর কিছু নাম, বেশিরভাগ নাম তিনি প্রকাশ করেছেন। এবং আমাদের ওয়ার্কিং কমিটি এখনো পুরোপুরি রয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন উপদেষ্টা আরও ১০ জন বেড়েছে। সেই নতুন উপদেষ্টারাও যুক্ত হবেন। আমরা আশা করছি দুয়েক দিনের মধ্যেই কমিটি গঠনের কাজটা সমাপ্ত হলে আমরা সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু ভবনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবো। আমরা আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সমাধি টুঙ্গিপাড়ায় আমরা যাব।’

এর আগে, গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম দিনের সম্মেলন হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সভাপতি শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর