পদ্মা সেতুতে ১৯তম স্প্যান বসছে আজ

অনলাইন ডেস্ক: পদ্মা সেতুতে ১৯তম স্প্যান বসছে আজ। মাওয়া প্রান্তের ২১ ও ২২ নম্বর পিলারের ওপর ৪-সি নামে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের ধূসর রঙের স্প্যানটি বসানো হবে। বুধবার সকালে লৌহজংয়ের মাওয়ার কন্সস্ট্রাকশন ইয়ার্ড-১ থেকে ৪-সি নম্বর স্প্যান নিয়ে ভাসমান জাহাজ ‘তিয়ান-ই’ রওয়ানা দেবে বলে গতকাল নিশ্চিত করেছিল পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।এর মধ্য দিয়ে পদ্মা সেতুর দুই হাজার ৮৫০ মিটার অর্থাৎ প্রায় ৩ কিলোমিটার অবকাঠামো দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।

পদ্মা সেতুর প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির জানান, ১৯তম স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়েই বসানো হবে সেতুর ১৯তম স্প্যান। চলতি বছরে এ পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে ১২টি স্প্যান বসেছে। বুধবার আরও একটি স্প্যান বসতে যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, জাজিরা প্রান্তে ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটিতে (পিয়ার) ৪-সি নম্বর স্প্যান বসানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ২১ ও ২২ নম্বর খুঁটির কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টা দুই সময় লাগবে। পরে দুপুর একটা নাগাদ স্থায়ীভাবে বসানো হবে সেতুর ১৯তম স্প্যান ৪-সি।২০২০ সালের জানুয়ারি মাসেই শুধু চারটি স্প্যান বসানোর কথা রয়েছে।

এছাড়া ২৮ অথবা ২৯ ডিসেম্বর ‘৩এফ’ নম্বরের ২০তম প্যানটি মাওয়া প্রান্তের ১৮ ও ১৯ নম্বর খুঁটিতে বসার কথা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরেই সেতুর ১৪টি স্প্যান দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে।প্রকল্পের দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, ২০১৭ সালে একটি, ২০১৮ সালে ৫টি এবং ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত ১২টি স্প্যান বসেছে।এ মাসেই আরও ২টি স্প্যান বসতে যাচ্ছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি মাসের মধ্যেই মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩-এফ স্প্যান বসানোর সিডিউল রয়েছে। দেশে আসা ৩৩টি স্প্যানের মধ্যে মোট ১৮টি স্পেন বসানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রস্তুত রয়েছে পাঁচটি ও বাকি থাকবে ১০টি স্প্যান। যা পর্যায়ক্রমে দ্রুত বসানো হবে। তাছাড়া সেতুর রোডওয়ে স্ল্যাব ও রেলওয়ে স্ল্যাবসহ অন্যান্য কাজও সিডিউল অনুযায়ী চলছে।

দেশের সর্ববৃহৎ এ প্রকল্পটি নির্মাণ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড। তারা মূল সেতুর কাজ করছে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে সেতুর কাজ শুরু করা হয়। ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল সেতুটি কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

দ্বিতল এ সেতুর উপরিভাগ দিয়ে গাড়ি আর নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এসকে