বিএনপির সময় ভারতে যাওয়া কেউ আসতে চাইলে ফিরিয়ে নেবো

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে ভয়ভীতির কারণে অনেকে ভারতে চলে যেতে পারে, তারা আসতে চাইলে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সমসাময়িক ইস্যুতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত সাহা বলেছেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে সে সময় কিছু লোক ভারতে মাইগ্রেশন করেছে। এ উত্তরে বিএনপি বলেছে, তাদেরকে একটা সন্ত্রাসী দল বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করেছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলছেন বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটি কি অসত্য? ২০০১ সাল থেকে যে মাইনরিটি পারসিকউশন এদেশে হয়েছে এটা কেবলমাত্র ৭১’র বর্বরতার সঙ্গে তুলনা হয়। কাজেই এখানে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কোনো উপায় নাই। বিএনপি যতোই সত্যকে চাপা দিতে চাক, আপনারা জানেন তখন কীভাবে মাইনরিটির উপর অত্যাচার হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। ওই অবস্থায় মাইনরিটিরা দেশ থেকে পলায়ন করাটাই স্বাভাবিক। অনেকেই জান-মালের নিরাপত্তার জন্য সেদিন পালিয়েছেন। মির্জা ফখরুল সাহেব যতোই সাফাই গান না কেন, যে সত্য দিবালোকের মত সত্য তা চাপা দিয়ে কারো কোনো লাভ নেই। সত্যের বন্যা অপ্রতিরোধ্য, এটা প্রকাশ হবেই।’

ড. গওহর রিজভী ভারতে বলেছেন যদি প্রমাণিত হয় বাংলাদেশ থেকে কোনো সময় লোক গিয়েছে তাদেরকে ফেরত আনা হবে এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফেরত আনার যদি প্রয়োজন হয়, এখন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে মাইনরিটি পারসিকিউশনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে অঞ্চলভিত্তিক দু’চার জায়গায় কিছু ঘটনা ঘটেছে। সেটা মাইনরিটি দেশ থেকে পলায়নের মতো বা দেশ থেকে নিরাপদ আশ্রয় নেয়ার জন্য কোনো কারণ সৃষ্টি করেনি।’

মাঝে মাঝে কিছু ঘটনা ঘটেছে যেমন- রংপুর, গোবিন্দগঞ্জ, রামু, নাসিরাবাদ, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। কাজেই তাদের দেশ থেকে চলে যাওয়ার কোনো কারণ সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করি।

বিএনপির আমলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের সময় কি সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে গেছে এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘সেই অবস্থায় যাওয়াটা খুব স্বাভাবিক। আমরা ছিলাম বিরোধী দল, আমরা সহানুভূতিশীল ছিলাম। অনেক জায়গায় নোঙর খানা করেছি, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া মোটামুটি সেভ জোন একেবারেই আ. লীগ অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে আমরা নোঙর খানা খুলেছি, ঢাকায়ও আমরা অনেককে আশ্রয় দিয়েছি। তখন ভয়ভীতির কারণে অনেকে চলে যেতে পারে। তারা আসতে চাইলে আমরা ফিরিয়ে নেব।’

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোকেই সামনের বছরের মূল চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামনের বছরের প্রথম কথা শৃঙ্খলা, দ্বিতীয় কথা শৃঙ্খলা এবং তৃতীয় কথা শৃঙ্খলা।’

এবছর সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কতটুকু সফল হয়েছেন- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘না, এখনো পারিনি এটা। অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যেহেতু আইন পাস করেছি, এটার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখনো আছে। বিআরটিএ-বিআরটিসিতে নতুন চেয়ারম্যান দেওয়া হয়েছে। নতুন কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছি, কিছু রিকমন্ডেশন আছে। টাস্ক ফোর্স এর মধ্যে একবার বসেছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নে বিআরটিএ’র কিছু কথা আছে। এনফোর্সমেন্টের বিষয় পুলিশের হাতে। সব মিলিয়ে আমরা এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু করব।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর