‘ভাসানচরে পাঠানো হচ্ছে না রোহিঙ্গাদের’

অনলাইন ডেস্ক : নির্যাতনের মুখে কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে নয় নিজ মিয়ানমারে পাঠানোর জোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে সাড়া না পাওয়ায় মূলত এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। তাদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সাময়িকভাবে ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের আলাপ আলোচনা চলছে। এখন আমরা ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছি না।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগেও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে আশ্রয় নিয়েছে। সব মিলিয়ে সাড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে।

২০১৮ সালে সরকার এই শরণার্থী শিবির থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শুরু থেকেই এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আসছে জাতিসংঘ।

আর গত ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠিয়ে সরকার সমালোচনার মুখে পড়তে চায় না বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তবে সেখানে বাংলাদেশের গৃহহীনদের পাঠানো উচিত বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী। আর সে পথেই সরকার হাঁটছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর