মনোনয়নপত্র জমা দিলেন আতিকুল-তাপস

অনলাইন ডেস্ক : আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএনসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেমের কাছে এই মনোনয়নপত্র জমা দেন আতিকুর আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাতেনের হাতে দলীয় সমর্থকদের নিয়ে এ মনোনয়নপত্র জমা দেন তাপস।

মনোনয়ন জমা দিয়ে আতিকুল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপ‌তি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা আমা‌কে আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী হি‌সে‌বে ম‌নোনয়ন দি‌য়ে‌ছেন। তার প‌রি‌প্রে‌ক্ষি‌তে আমি ম‌নোনয়ন জমা দি‌তে এসে‌ছি। আ‌মরা ম‌নে করি আসন্ন সি‌টি কর্পোরেশন নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হ‌বে। যে কোন নির্বাচ‌নে হার জিত থা‌কে। আমি আগে বি‌জিএমইএ এর প্রেসিডেন্ট ছিলাম। সেখা‌নে নির্বাচন করতে গি‌য়ে কোন সময় হে‌রে‌ছি, কোন সময় জি‌তে‌ছি, এটাই বাস্তবতা। আমরা কখ‌নো মাঝপ‌থে গি‌য়ে ইলেকশন বর্জন ক‌রি‌নি। সবাই‌কে অনু‌রোধ কর‌বো একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচ‌নে অংশ নেয়ার জন্য।

শহরবাসীর অভিযোগ রয়েছে ডেঙ্গু থেকে আপনি শহরবাসীকে মুক্ত করতে পারেননি। এ প্রসঙ্গে আতিক বলেন, ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল ওয়ার্মিং। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে ডেঙ্গু হচ্ছে। সবাই মিলে সেই ডেঙ্গু কি আমরা মোকাবেলা করতে যাচ্ছি। বছরের ৩৬৫ টা দিন যাতে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করতে পারি সে প্রক্রিয়াটা শুরু করেছি। আমি বিশ্বাস করি সকলের সহযোগিতায় মানুষকে আমরা ডেঙ্গু থেকে নিরাপদে রাখতে পারব।

আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পুরোটা সময় জুড়ে বিএনপি মাঠে থাকতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক মেয়র বলেন, আমরা বিশ্বাস করি আগামী ৩০ জানুয়ারি যে নির্বাচন হবে সেটি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। আমার বিশ্বাস সবাই ইলেকশনে আসবে। এখন প্রথম থেকেই যদি কেউ যদি বলেন আমরা মাঠে থাকতে পারবো না, আমার প্রশ্ন উনারা কিভাবে এটা বলেন।

ক্ষমতাসীন দল আসলে জনগণের ভোটে জিতে না, প্রশাসন আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভোটে তারা জেতে। এমন অভিযোগের জবাবে আতিক বলেন, আমরা অবশ্যই জনগণের ভোটে জিতবো। এ কারণে আমরা সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি। আমার সাথে ক্রীড়াবিদ এসেছে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রধান এসেছে আমাদের দল এসেছে সবাইকে নিয়ে এসেছি। একলা চলো রাজনীতি প্রধানমন্ত্রী আমাদের শেখান নাই।

ইভিএমে ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আস্তে আস্তে আমাদের ইভিএম এর দিকে যেতে হবে ‌বিভিন্ন উন্নত দেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। আমার বিশ্বাস ইভিএমের মাধ্যমে অনেক সুন্দর ভোট হবে।

আপনার সাথে মনোনয়ন জমা দিতে একটি বহর এসেছে। এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বাহিরে কোন স্লোগান কিংবা শোডাউন ছিলনা। আমি যেমন এসেছি বহু কাউন্সিলর প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে এসেছেন।

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আগামী বছর ঢাকাবাসীর জন্য একটি নবসূচনা আমরা করতে পারব। আমাদের অনেক করণীয় আছে। দীর্ঘদিন ঢাকাবাসী অবহেলিত-বঞ্চিত তাদের নাগরিক সেবা থেকে। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকাবাসী যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাদের সেবক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়, তাহলে নাগরিক মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম ও প্রধান কাজ। সকলেই নিয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

তাপস বলেন, আপনারা আমাকে পরীক্ষা করে দেখবেন। আপনাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত হলে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ইনশাআল্লাহ দ্রুত বাস্তবায়ন করব। আমি আশা করব ঢাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ঢাকাবাসীকে আরও বেশি সেবা দেয়ার ইচ্ছা থেকেই আমি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ ৩০ জানুয়ারি।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর