লিটার প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ টাকা

অনলাইন ডেস্ক : পেঁয়াজের বাজার এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। চালের দাম নিয়েও রয়েছে অস্বস্তি। এরই মধ্যে দাম বাড়লো সয়াবিনের তেলের। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। শুধু বোতলজাতই নয়, খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েলের দামও বেড়েছে লিটারে ৩-৫ টাকা। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডি, শুক্রাবাদ, মানিক নগর, কাওরান বাজার ও সেগুনবাগিচা এলাকার বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী গোলাম মওলা বলেন, ‘মিল মালিকরা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে পাইকারি ও খুচরা এই দুই পর্যায়েই ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘শীত বাড়লে সয়াবিনের চাহিদা বেড়ে যায়। কারণ, শীত বাড়লে পাম কম চলে। এ কারণে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। তবে বোতলজাত তেলের দাম অহেতুক বাড়ানো হয়েছে।’

বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহ থেকেই বোতলজাত সয়াবিনের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ কারণে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানিকনগর এলাকার ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে বাড়তি দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। মোকামে দাম বেড়ে যাওয়ায় তারাও বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন।’

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশ অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক লিটার ওজনের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৯৫ টাকা। শুক্রবার সেই সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা। শুধু এক লিটারই নয়, ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হয়েছে ৪৩০-৫০০ টাকায়। শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৪৪৫-৫০০ টাকা। বোতলজাতের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন প্রতি লিটারে বেড়েছে ৪ টাকা পর্যন্ত। শুক্রবার কাওরান বাজারে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই সয়াবিন বিক্রি হয় ৮০ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সয়াবিনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাম অয়েলের দামও বেড়েছে। এক মাস আগে প্রতি লিটার পাম অয়েল (লুজ) বিক্রি হয়েছে ৬২-৬৫ টাকায়। এখন সেই পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকা।

টিসিবির হিসাবে, গত এক মাসে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৮ .৬৬ শতাংশ। আর পাম অয়েল (সুপার) এর দাম বেড়েছে ৬ .৪৭ শতাংশ।
সয়াবিন ছাড়াও দাম বেড়েছে চিনিরও। এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫-৭ টাকা। গত সপ্তাহে চিনি বিক্রি হয় ৫৮-৬০ টাকায়। শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকায়। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) থেকে এই পণ্যটির দাম হঠাৎ করে বেড়েছে। অবশ্য টিসিবির হিসাবে এক সপ্তাহে চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশেরও বেশি।

এদিকে গত সপ্তাহের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। তবে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। আর শীতের সবজিও পাওয়া যাচ্ছে আগের চেয়ে কম দামে। ৩০-৫০ টাকায় মিলছে প্রায় সব ধরনের সবজি। শুক্রবার প্রতি পিস ফুলকপি ২০-৩০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৩০ টাকা, শিমের কেজি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নতুন আলু, করলা, বেগুন, ঢেড়স বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, উচ্ছে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

প্রতি কেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৮০-১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এই পেঁয়াজ কোথাও কোথায়ও ১২০-১৪০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। চীনা পেঁয়াজ ৮০ টাকা, মিসরীয় পেঁয়াজ ১২০ টাকা এবং মিয়ানমারের পেঁয়াজ ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
আর ফার্মের মুরগির ডিমের দাম হালিতে কমেছে ৫ টাকা। গত সপ্তাহের ৩৫ টাকা হালি ডিম শুক্রবার ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাংলাদেশ বুলেটিন/এমআর