১৫০ টি আসন চেয়ে মাত্র ৩টি পেল বিকল্প ধারা

যে বিকল্পধারা ঐক্যফ্রন্টের কাছে ১৫০টি আসন চেয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিল, সেই বিকল্পধারা এখন মাত্র ৩টি আসন নিয়ে সন্তুষ্ট। তাও আবার কুলা ছেড়ে নৌকায়।

অনেকের মতে, ভারসাম্যের কথা বলে অযথাই নির্বাচনী হাওয়া ঝড়ে রূপ দেয়ার চেষ্টা করেছিল বিকল্পধারা। কোনো বিবেচনাতেই জোটগতভাবে ১৫০টি আসনে নির্বাচন করার সক্ষমতা রাখে না দলটি। অথচ ১৫০ আসন চেয়ে গো ধরেন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিকল্পধারা। আসন ভাগাভাগির এমন দাবি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের যাত্রাকে ব্যাহত করতে চেয়েছিলেন তারা, এমন অভিযোগ এখনও করছে ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই বিকল্পধারাকে ঐক্যফ্রন্টে ভিড়তে দেয়া হয়নি। বিকল্পধারাকে ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের বাসায় ডাকা হলেও ওইদিন ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় কামাল হোসেনের মতিঝিল চেম্বারে। তাতে সে যাত্রায় শরিক হতে পারেননি বি. চৌধুরীরা।

ধারণা করা হয়, এটিই ছিল বিকল্পধারার জন্য প্রথম হোঁচট, যার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। হোঁচট খেয়ে একেবারে তরী ভিড়ায় আওয়ামী লীগের ঘাটে। কিন্তু এখানেও সুবিধা করে উঠতে পারেননি। শত্রুর শত্রুকে বন্ধু মনে করে বিকল্পধারাকে ঠাঁই দিলেও আওয়ামী লীগ আসন ছাড়তে ঠিক উদাসীনতা দেখায়নি। ৩টিতেই আটকে দেয়া হয়েছে বিকল্পধারার সীমানা।

সূত্র জানায়, মহাজোটে শরিক হয়ে সারাদেশে ৫১টি আসনে মনোনয়নপত্র বিতরণ করে বিকল্পধারা। এর মধ্যে ২৫টি আসন নিয়ে জোর দরকষাকষি চলে। হালে পানি না পেয়ে ১২টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে রাখে নিজেরাই। কিন্তু তাতেও বিধি বাম। ঐক্যফ্রন্টে ১৫০ আসন চেয়ে অবশেষে মহাজোট থেকে মাত্র ৩টি আসনে লড়তে হচ্ছে বিকল্পধারাকে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠাতার একজন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিএনপির আমলেই রাষ্ট্রপতি হন। আবার বিএনপির আমলেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অব্যাহতি মিলল। সেই যে নাটকের শুরু, তা যেন থামছেই না। বাবা-ছেলে মিলে নাটক মঞ্চস্থ করছেন এখনও।

অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী বিএনপি ছেড়ে নতুন দল বিকল্পধারা গঠন করছিলেন। নতুন দলে ভেড়েন বিএনপির আরেক নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান। নয়া দল গঠন করলেও মাঠের হিসাবে কখনই সুবিধা করে উঠতে পারেননি তারা। বরং বেরিয়ে আসা বিএনপির মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজনীতির হাওয়া গায়ে লাগানোর চেষ্টা করেছেন গত এক যুগে। বিকল্পধারাও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপির ‘প্রেসক্রিপশন’ থেকেই।

অথচ সেই বিকল্পধারাই একেবারে ডিগবাজি। মহাজোট সরকারের সমালোচনা করা বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর মাহী বি. চৌধুরী এখন মহাজোট শিবিরেই ঠাঁই নিলো। নির্বাচনী বৈতরণী পার হবেন আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়েই।

উল্লেখ্য, যে তিনটি আসনে বিকল্পধারা বাংলাদেশকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে- মুন্সীগঞ্জ-১ থেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যুক্তফ্রন্টের মুখপাত্র মাহী বি. চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-৪ থেকে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান এবং মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিকল্পধারার প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএম শাহীন।