জনগণকে অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য শস্যের মজুদ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অযথা আতঙ্কিত হয়ে বেশি করে পণ্য কিনে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো গর্হিত কাজ। সবাইকে এই ধরণের অপতৎপরতা থেকে বিরত থাকতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নোবেল করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত করতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে নজরদারি বাড়াতে হবে।প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে ঢাকা-১০ আসনে জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্র ভোট প্রদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করছি যে, আতঙ্কিত হয়ে কিছু লোক অতিরিক্ত মাত্রায় খাদ্যদ্রব্য কিনে সংরক্ষণ করছে। তবে, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, আমাদের কোন খাদ্য সমস্যা নেই। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তাই, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য কেনার দরকার নেই।’

তিনি বলেন, তিনি ইতিমধ্যে এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী, অর্থ সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে রিজার্ভ রয়েছে তা দিয়ে আগামী এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কেনার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি গুদামগুলিতে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন গম ছাড়াও ১৭ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর পাশাপাশি, বেসরকারি রাইস মিলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘তাই, আমি সকলকে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু খাদ্যদ্রব্য কিনতে অনুরোধ জানাই।’

জনগণের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সকলকে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। হাঁচি, কাশি আসলে কাপড় দিয়ে নাক ঢেকে রাখতে হবে বা কনুই দিয়ে হাতটা ডেকে রাখা অথবা যেখানে সেখানে না যাওয়া। আর বিদেশ থেকে যারা আসছেন তারা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াবেন না। কারণ আপনিতো নিজে সংক্রামিত হতে পারেন, নিজের পরিবারকে করবেন আবার আরও ১০ জনের মাঝে ছড়াবেন। কাজেই অন্যর জীবনকে এভাবে বিপদগ্রস্ত করা মোটেই সমীচীন নয়। সবাই এ ব্যাপারে সচেতন হবেন এটাই চাই।’

যারা গ্রামে যাচ্ছেন তাদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘যারা গ্রামে যাচ্ছেন তারা একটা কাজ করতে পারেন, নিজের মাটি আছে, তাতে ফসল ফলান। তরকারি লাগান। সকলেই ভিটামিন সি বেশি করে খাবেন। এখন ভিটামিন সির অনেক কিছুই বাজারে আছে। টমেটো, কমলালেবু, মৌসুমী ফল, টক জাতীয় ফল বেশি বেশি খাওয়া। এটা প্রচুর খেলে করোনাভাইরাসের প্রতিরোধক শক্তি শরীরের মাঝে জমা হবে।

বাহিরে অযথা না ঘোরার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাহিরে ঘোরাঘুরি না করে যতদূর সম্ভব নিজের ঘরে থাকেন। আর নিজেকে, পরিবার ও সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখেন। সেটাই আমি আশা করি। সবাই ঘরে বসেই দোয়া করেন, যাতে এই রোগ থেকে মানবজাতি মুক্তি পায়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন সারাবিশ্বে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্বের ১৮১ দেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আর সেই অবস্থার মধ্যে এই নির্বাচনটা হতে যাচ্ছে। যখন চীনে করোনাভাইরাস দেখা দিলো তখন থেকেই আমরা কিন্তু সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। সেখান থেকে ৩১৫ জন শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে এনে তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে ছেড়েছি। যারাই বিদেশ থেকে আসছেন তাদের আমরা পরীক্ষা করছি। আর যার ভেতরে এতটুকু সন্দেহ আছে তাকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি।’

করোনারোধে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কীভাবে এই ভাইরাস থেকে আমরা জনগণকে মুক্ত রাখতে পারি সেখানে প্রতিদিনই এ ধরণের ব্যবস্থা নেয়া এবং তা প্রচারেরও ব্যবস্থা করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আইইডিসিআর এই ব্যাপরে যথেষ্ট সতর্ক এবং তারা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছে। সেই দিক থেকে বলবো বাংলাদেশ এখনও মোটামুটি ভালো আছে। তবে বিদেশ থেকে যারা আসছেন, তারা অনেক সময় এর বাহক হয়ে থাকেন। যারা বিদেশ থেকে আসছেন তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে তারা নিজের জন্য, নিজের পরিবারের সকলের নিরাপত্তার জন্য ১৪টা দিন যাতে কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। তার মাধ্যমে যাতে তার পরিবারের সদস্য ও সাধারণ জনগণ কেউ যেন সংক্রামিত না হয়, সেই ব্যাপারে তাদের নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে।

‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা কয়েকটি হাসপাতালও সুর্নিদিষ্ট করে দিয়েছি যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হলে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিচ্ছি। ডাক্তার, নার্সসহ ওখানে যারা কর্মকর্তা আছেন তাদেরও নিরাপত্তার ব্যবস্থা আমরা করছি। এছাড়াও আমাদের দেশে প্রস্তুত করা মাস্কসহ নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের পোশাক সংগ্রহ আমরা অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছি। তা প্রতিনিয়ত সংগ্রহ করছি এবং আমরা দিচ্ছি। আমাদের ইমিগ্রেশনে যেসকল পুলিশ কর্মকর্তা ও সেখানে যারা কর্মরত আছেন সকলের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছি। সর্বোপরি নিরাপত্তার জন্য যখন যা প্রয়োজন হয় সেটা আমরা করে যাচ্ছি। কাজেই এদিক থেকে আমরা আমাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি’।–জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সতর্কতা বার্তা দেয়া হচ্ছে। আমি শুধু আশা করবো আমাদের দেশবাসী যাতে এটা মেনে চলে। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন আমাদের লোক সমাগম হয় এমন কর্মসূচি আমরা বাতিল করে দিয়েছি বা স্থগিত করে দিয়েছি। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন করার জন্য অনেক কর্মসূচি আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে লোক সমাগম হবে বলে আমরা সেটাও বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা যে এটাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছি সেটা আপনারা অনুধাবন করতে পারছেন। আমরাতো জন্মশতবার্ষিকী একবারেই পেলাম। আরতো পাবো না। কিন্তু তারপরও জনসাধারণের নিরাপত্তা ও কল্যাণে আমরা এই কর্মসূচি স্থগিত করে রেডিও, টেলিভিশন আর অনলাইনে প্রচার করেছি। এছাড়া আগামীতেও যেসব অনুষ্ঠান আছে যেখানে লোক সমাগম হয় সেগুলো আমরা বন্ধ করে দেবো।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিশেষ করে ২৬ মার্চ সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের কথা, আমি আলোচনা করবো। আমার মনে হয় সেটাও আমাদের স্থগিত রাখতে হবে। যারা স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি নিজের মতো করে আমরা শ্রদ্ধা জানাবো। কিন্তু এই লোক সমাগমটা আমাদের বন্ধ করে দিতে হবে। এভাবে আমাদের যতগুলো অনুষ্ঠান আছে তা খুব সীমিত আকারে, আর যেখানে জনসমাগম হবে তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করা এই সংক্রামক সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে না পড়ে।’

এ সময় নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আমরা ভোট দিয়ে আসছি। আমাদের প্রার্থী শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের নৌকা মার্কায়। আমরা চাই জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীকে জয়যুক্ত করুক। জনগণ নৌকায় ভোট দেবে। ইনশাল্লাহ নৌকা জয়যুক্ত হবে।’

বাংলাদেশ বুলেটিন/এস কে