বরগুনায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দী শত শত পরিবার

বরগুনা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে বরগুনা সদরের ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে শত শত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। এছাড়া বরগুনা সদরের মাইঠা, লবণগোলা ও বুড়িরচড় এলাকায়ও বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরের দিকে বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে যায়। সকাল থেকেই জেলায় থেমে থেমে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস বইছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে সাধারণ মানুষের প্রাণহানিরোধে বরগুনায় আড়াই লাখ স্থানীয় অধিবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে। জেলার ছয়টি উপজেলার ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে স্থানীয় অধিবাসীরা অবস্থান করছেন।

বরগুনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য জেলায় ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯০টি, আমতলী উপজেলায় ৯৭টি, পাথরঘাটা উপজেলায় ১০২টি বেতাগী উপজেলায় বেতাগী উপজেলায় ১১৪টি, বামনা উপজেলায় ৪৭টি এবং তালতলী উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৬৮টি আশ্রয়কেন্দ্র।

জানা গেছে, বরগুনা সদরে স্বাভাবিক সময়ে জোয়ারের পানির উচ্চতা থাকে ২.৮৫ সেন্টিমিটার। বুধবার সকাল ১০টায় তা বেড়ে ৩.১০ সেন্টিমিটার হয়। এরপর থেকেই জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর প্রভাবে বরগুনা সদরের ৪টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এছাড়া এর প্রভাবে বরগুনা সদরের ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক মো. মাহতাব হোসেন জানান, বরগুনার প্রধান ৩টি নদীতে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারের চেষ্টা চলছে। বরগুনা সদরের ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের শত শত পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তাদের খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আজ রাতের দিকে আম্পান পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সেজন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এমআইপি/প্রিন্স