ব্যাংক কর্মীদের প্রণোদনা না দিলে ব্যবস্থা

বুলেটিন নিউজ ডেস্ক : সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন স্বশরীরে উপস্থিত থাকার পরেও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রণোদনা ভাতা না দিলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করলে কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনকালে প্রণোদনা না দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করার শামিল বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন সর্বনিম্ন ১০ দিন অফিস করলে এক মাসের মূল বেতনের সমান অর্থ পাবে। কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারী ১০দিনের বেশি অফিসে উপস্থিত থাকলে আনুপাতিকহারে স্ব স্ব ব্যাংক থেকে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। এ সার্কুলার অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যাংক যদি এ নির্দেশনা অমান্য করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে অথবা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব পরিদর্শনে তা প্রমাণিত হয়। তাহলে যে সব ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণোদনা ভাতা দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিবিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। যেখানে বলা হয়, সরকারের সাধারণ ছুটিকালীন ১০দিন স্বশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত থাকলে ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারীরা অতিরিক্ত একমাসের মূল বেতন পাবেন। আর কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা/কর্মচারী ১০ দিনের বেশি স্বশরীরে উপস্থিত থাকলে আনুপাতিকহারে স্ব স্ব ব্যাংক থেকে যাতায়াত ভাতা পাবেন। স্থায়ী ও অস্থায়ী সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাবেন। এই অর্থের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনা দিলেও অধিকাংশ বেসরকারিখাতের ব্যাংক এ নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক এসআইবিএল, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), ঢাকা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক।

এ সব ব্যাংকের বেশকয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের সাধারণ ছুটির সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা অফিস করলেও মাসিক বেতনের বাইরে আমাদের বাড়তি কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি। কবে করবে কিংবা আদৌ করবে কি না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে কিছু বলছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করলেও আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। এ ব্যাপারে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এমআইপি/প্রিন্স