🗓️ শুক্রবার ৯ ডিসেম্বর ২০২২ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
   

গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিন
বিশ্ব বিবেকের কাছে আহ্বান
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২, ৭:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যা কার্যক্রম অপারেশন সার্চলাইটের অধীনে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে নির্মূল করতে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের সহায়তাকারী দলগুলো ৩০লাখ ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। দুই লাখ থেকে চার লাখ বাঙালি মহিলাকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সংঘটিত ঘটনাসমূহ গণহত্যা হিসেবে পরিচিতি পায়। 

গণহত্যার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মেলেনি। বিচার হয়নি গণহত্যাকারী পাকিস্তানিদের। এদিকে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে এবং এজন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে। গত শুক্রবার ডেমেক্র্যাট আইনপ্রণেতা রোহিত খান্না এবং রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা স্টিভ শ্যাবট এই প্রস্তাব আনেন। ভারতের বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এ খবর জানিয়েছে। প্রস্তাব উত্থাপনের পর শুক্রবার এক টুইট বার্তায় স্টিভ শ্যাবট বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল তা আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত হবে না। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার তাদের স্মৃতি মুছে ফেলা সম্ভব নয়। 

এই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা বিশ্ব ইতিহাসের দলিল হয়ে থাকবে এবং আমেরিকানদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জনগণ এ থেকে শিক্ষালাভ করতে পারবে।’ ‘আরও একটি ব্যাপার হলো ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে বিশ্বের যাবতীয় নিপীড়ক শক্তিকে আরও একবার এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে, এ ধরনের অপরাধ কখনও সহ্য করা বা ভুলে যাওয়ার মতো ব্যাপার নয়।’ ‘আমি আমার বন্ধু আইনপ্রণেতা রো (রোহিত) খান্নার সহযোগিতায় কংগ্রেসে ১৯৭১ সালের ওই গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিতে এই রেজল্যুশন উত্থাপন করেছি। আমরা চাই ১৯৭১ সালে বর্তমান বাংলাদেশে যত বাঙালি হিন্দু ও মুসলিমকে হত্যা করেছে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং এই গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হোক।’

পৃথক এক টুইটবার্তায় রোহিত খান্না বলেন, ‘১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। তাদের ৮০ শতাংশই ছিলেন হিন্দু। একাত্তরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনী যা করেছিল, পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যসব গণহত্যার মত সেটিও স্পষ্ট গণহত্যা।’ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের গবেষকদের মতে, বিজয়ের গৌরবে গৌরবান্বিত জাতির কাছে গণহত্যার বিষয়টি উপেক্ষিত থেকেছে বারবার। এ কারণে বহির্বিশ্বে গণহত্যার পৈশাচিক দৃশ্যটি অন্ধকারেই থেকে গেছে। পাঁচ বছর ধরে দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য উদ্যোগ নেয়া হলেও জাতিসংঘ ঘোষিত গণহত্যাবিষয়ক একটি দিবস থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই স্বীকৃতি পাওয়া। 

গবেষকদের দাবি, শুধু ২৫ মার্চের গণহত্যার স্বীকৃতিই নয়; প্রয়োজন একাত্তরের ৯ মাসের নৃশংস গণহত্যার স্বীকৃতি। এক্ষেত্রে সরকার উদ্যোগী হলে আন্তর্জাতিকভাবে এই স্বীকৃতি আদায় সম্ভব। তবে সরকারের ধীরে চলো নীতির সমালোচনা করেছেন তারা। অবশ্য সরকারপক্ষ বলছে, দেরি হলেও গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বেশ কিছু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে। বাকি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ে কাজ চলছে। তাই বিশ^ বিবেকের কাছে আহ্বান, এই গণহত্যাকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতির দেওয়ার জন্য।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সাউথ বেঙ্গল গ্রুপ কর্তৃক প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা সম্পাদক : প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. আশরাফ আলী
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : রফিকুল ইসলাম রতন
আউয়াল সেন্টার (লেভেল ১২), ৩৪ কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ফোন : ০২-৪৮৮১১০৬১-৩, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত