ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ই-পেপার

মশক নিধন কার্যক্রমে এগিয়ে ডিএনসিসি

বুলেটিন প্রতিবেদক :

২০২০-০৮-১৫ ১২:৩৬:৩১ /

এডিস মশার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে নানা উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ আগস্ট থেকে তৃতীয় পর্যায়ে ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে উত্তর সিটি। ধারাবাহিকভাবে এমন চিরুনি অভিযানের ফলে ঢাকা উত্তরে মশার প্রকোপ কমে এসেছে বলে দাবি সংস্থাটির।

জানা গেছে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে কয়েকটি পর্যায়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ৬ থেকে ১৫ জুন প্রথম ও ৪ থেকে ১৪ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ের চিরুনি অভিযান শেষে ৮ আগস্ট থেকে তৃতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যাপী চিরুনি অভিযান শুরু হয়।

তৃতীয় ধাপে চিরুনি অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। দৈনিক প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী ও আধুনিক মশক নিধন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিগতবারের মতো এবারও এডিসের লার্ভা প্রাপ্তির স্থানসমূহ এবং প্রজনন উপযোগী পরিবেশসমূহের তথ্য অ্যাপে সংরক্ষণ করে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি সাবসেক্টরে ডিএনসিসির ৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশক নিধনকর্মী, অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ জন মশককর্মী ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কি না, কিংবা কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে আছে কি না, অথবা ময়লা-আবর্জনা আছে কি না, যা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক, তা পরীক্ষা করবেন। চিরুনি অভিযান চলাকালে ডিএনসিসির ৩ জন কিট তত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তাগণ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ৯ জন কিট তত্ত্ববিদ এবং ৬ জন চিকিৎসক ডিএনসিসির সঙ্গে কাজ করছেন।

পূর্বের চিরুনি অভিযানের মতো এই চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে, তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। ডাটাবেজ অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদেরকে মনিটর করা হবে।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরে ছিল ৪৯ কোটি টাকা আর সংশোধিত বাজেটে ছিল ৫৮ কোটি টাকা।

ইতোপূর্বে ১৬ থেকে ২০ মে পরিচালিত ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানে ৯ হাজার ৪৬৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৮৭টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় এ সময় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে ৬ থেকে ১৪ জুন অনুষ্ঠিত চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসির এক লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে এক হাজার ৬০১টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সে সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ ৪ থেকে ১৪ জুলাই পরিচালিত চিরুনি অভিযানে এক লাখ ৩০ হাজার ৯৭৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮৯৮টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সে সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১০ টাকা জরিমানা করা হয়।

চলতি বছরে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২ হাজার ৬৮৬টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৫১০ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ের অভিযানের পাঁচ দিনে মোট ৬৫ হাজার ৮৬৬টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৩৫৬টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। আর এ পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসি প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এ এস এম মামুন।

অন্যদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী ১৬ অগাস্ট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। যে সকল সংস্থা ও নির্মাণাধীন ভবনে এখনও ডেঙ্গু মশার প্রজননের উৎসস্থল রয়ে গেছে, সেগুলোতে মশা নিধন করার পাশাপাশি তাদের সচেতন করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সংস্থাটি। যাতে করে তারা এ বিষয়ে আরও সচেতন হয় এবং নিজেরা স্বপ্রণোদিত হয়ে মশা নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ১৬ অগাস্ট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়ে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘বছরব্যাপী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতায় আমরা সফলতা পাচ্ছি, ঢাকাবাসী সুফল পাচ্ছে। ফলে ঢাকা দক্ষিণে মশার প্রকোপ নেই বললেই চলে। তারপরও ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবনে এখনও ডেঙ্গু মশার প্রজনন স্থল রয়ে গেছে। যেহেতু এই সময়টাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়, তাই আমাদের কর্মপরিকল্পনার শেষ পন্থা আমরা এখন অবলম্বন করতে যাচ্ছি। আমরা ১৬ অগাস্ট থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নানা কার্যক্রমের পরও যদি বিভিন্ন ছোট-খাটো জায়গায় ডেঙ্গু প্রজননের উৎসস্থল রয়ে যায়, তাহলে ঢাকাবাসী আমাদের কার্যক্রমের সেই সুফলটা পাবে না। সেজন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করছি। পর্যায়ক্রমে এলাকাভিত্তিক যেসব জায়গায় বেশি প্রকোপ দেখা যাবে, সেসব জায়গায় আমরা ব্যবস্থা নেব। শুরুতে আমরা দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করব। আমরা আশা করব, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবনের মালিকরা নিজেরা সচেতন হয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে তাদের নিজেদের এলাকাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ মশক নিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন। যাতে করে তাদেরকে আর জরিমানা দিতে না হয়। তাহলে আমরা সম্পূর্ণরূপে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু, চিকনগুণিয়া ইত্যাদি নির্মূল করতে পারব।’

জানা গেছে, চলতি বাজেটে মশক নিধনে বরাদ্দ কমিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় আট কোটি টাকা কমিয়ে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে। যেখানে গত অর্থবছরে ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গত বছরের সংশোধিত বাজেটে রাখা হয় ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এদিকে গত ১ জুলাই থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে মশকনিধন কার্যক্রম চালু করেছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জমির পরিমাণ ও ভবনের উচ্চতার ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। আবেদনের তিন দিনের মধ্যে এই সেবা পাওয়া যাবে। কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি প্রদান করে মশা মারার কার্যক্রমে আশানুরূপ সাড়া এখনও পায়নি করপোরেশন।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত মাস অনুযায়ী হিসেবে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৭, ২৫, ৩০, ২০ ও ২৩ জন। চলতি ১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে।

বাবু/আমেনা

এ জাতীয় আরো খবর

দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা

দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ছাত্রলীগের মতবিনিময় সভা

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পস্থাপনা নয় : প্রধানমন্ত্রী

কৃষি জমি নষ্ট করে শিল্পস্থাপনা নয় : প্রধানমন্ত্রী

মগবাজারে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

মগবাজারে ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ৩

এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি

এমসি কলেজে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি

যত বেশি ইতিবাচক কাজ তত বেশি পুরস্কার : ড. বেনজীর আহমেদ

যত বেশি ইতিবাচক কাজ তত বেশি পুরস্কার : ড. বেনজীর আহমেদ