ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

লঞ্চে ভাড়া বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

মিজান শাজাহান :

২০২১-০৪-০৩ ১৮:৫১:১০ /

যাত্রীবাহী সবধরনের নৌযানে শতকরা ৬০ ভাগ ভাড়া বাড়ানো হলেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। বরং আগের মতো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে সদরঘাট ছেড়েছে বেশিরভাগ লঞ্চ। বাস বা ট্রেনের মতো লঞ্চে যে অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের বিষয়টি মানানো যাচ্ছে না তা স্বয়ং নৌপ্রতিমন্ত্রীও স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, যদিও লঞ্চের ক্ষেত্রে এটা খুব দুঃসাধ্য ব্যাপার। লঞ্চের নকশাটা এমনভাবে তৈরি করা সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানাটা কঠিন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে অনেকগুলো পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। সর্বশেষ আমরা সেটাকে ধরে রাখতে পারিনি, এটাই হচ্ছে সত্য কথা ও বাস্তবতা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সদরঘাট ঘুরে দেখা যায় আগের মতোই যাত্রীর চাপ। বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষদিন হওয়ায় চাপটা আরো বেশি। কারণ শুক্র-শনিবার গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটাতে অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন। লঞ্চ থেকে মাইকে মাস্ক পরে ওঠার জন্য বার বার অনুরোধ করা হচ্ছে। আর লঞ্চের সামনে দাড়িয়ে থাকা স্টাফরা যাত্রীদের হাতে স্যাভলন ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার লাগিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো লঞ্চেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উদ্দেশ্যে তাসরিফ লঞ্চে ওঠা যাত্রী শহীদ হোসেন বলেন, এ লাইনের লঞ্চে কখনোই জায়গা পাওয়া যায় না। এখানে গাদাগাদি করে বা ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই আমাদের যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু তার উপর লঞ্চের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়ে মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। আরেক যাত্রী এনায়েত উল্লাহ বলেন, আসলে আমাদের নীতিনির্ধারকদের নৌযান সম্পর্কে ভালো ধারণা নেই। তারা বাস আর ট্রেনের মতো করে সব সিদ্ধান্ত নিতে চান। তারা বুঝে না যে, বাস-ট্রেনে নির্ধিারিত আসন থাকলেও লঞ্চের কেবিন ছাড়া ডেকে কোনো নির্দিষ্ট আসন নেই। আর কেবিনে মোট যাত্রীর ১৫ শতাংশ চলাচল করে। এ অবস্থায় লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোকে কর্তৃপক্ষের অজ্ঞতা বলেই মনে করেন যাত্রীরা।

লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা কোনো যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারি না। তাই ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়েই নৌযান চালাতে চাচ্ছি। আর তখন আমাদের অর্ধেক যাত্রীর থেকে ওই ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েই চলতে হবে। এটা শুধুমাত্র ডেকের যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য। আমরা কেবিনের যাত্রীদের জন্য আগের ভাড়াই বহাল রেখেছি। অর্ধেক যাত্রী কীভাবে নিশ্চিত করা হবে- এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে এ মালিক নেতা বলেন, নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। বিআইডব্লিটিএ’র উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে নৌযানগুলোকে বাধ্য করা হবে। নিয়মিত নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড মনিটরিং করবে বলেও জানান তিনি। যেসব লঞ্চ নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তবে যাত্রীরা বলছেন, যাত্রীর তুলনায় লঞ্চসংখ্যা সীমিত। এ অবস্থায় এসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চালানো কঠিন হয়ে পরবে। মাঝখান থেকে যাত্রীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত ভাড়া। তাই এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তাদের।

বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের নেপথ্যে

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের নেপথ্যে

চট্টগ্রামে মডেল মসজিদ নির্মাণে নকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হাতেনাতে ধরা

চট্টগ্রামে মডেল মসজিদ নির্মাণে নকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হাতেনাতে ধরা

মামুনুলের আরও এক বান্ধবীর ফোনালাপ ফাঁস!

মামুনুলের আরও এক বান্ধবীর ফোনালাপ ফাঁস!

দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি জেলেরা : বাধ্য হচ্ছেন জাটকা নিধনে

দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি জেলেরা : বাধ্য হচ্ছেন জাটকা নিধনে

লঞ্চে ভাড়া বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

লঞ্চে ভাড়া বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

দায়িত্বহীনতা-অবিশ্বাসে বাড়ছে বিচ্ছেদ

দায়িত্বহীনতা-অবিশ্বাসে বাড়ছে বিচ্ছেদ