ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি জেলেরা : বাধ্য হচ্ছেন জাটকা নিধনে

মিজান শাজাহান :

২০২১-০৪-০৩ ১৮:৫৪:৫৯ /

শুধুমাত্র জেলেদের জেল-জরিমানা করে মা ইলিশ ও জাটকা নিধন বন্ধ করা যাবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেলেদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ ও আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না নিষিদ্ধকালীন সময়ে মা ইলিশ ও জাটকা শিকার। আর এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, জেলেরা পেটের দায়ে মাছ শিকারে নামে। তাদেরকে আইনের আওতায় এনেও একাজ থেকে সরাতে না পারার নেপথ্যে কাজ করছে দাদন ব্যবসায়ী তথা মহাজনরা। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ¦ ইকবাল মাতুব্বর বলেন, “জেলে নয়, নদীর তীরের মাছঘাট মালিকরাই হচ্ছেন ইলিশের আসল শত্রু। দাদন নেওয়ায় মহাজনদের নির্দেশে জেলেরা নদীতে নামতে বাধ্য হন।” প্রবীণ এই মৎস্যজীবী নেতার মতে, মহাজনদের আইনের আওতায় আনা হলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতা অনেক কমে যাবে। তিনি আরো বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত বিভিন্ন চরে চর্তুদিকে জাল দিয়ে বেষ্টনি দিয়ে জাটকা নিধনের মাধ্যমে মাছের বংশ ধ্বংস করা হচ্ছে। আর তাই বড় বড় মাছের ঘাটের পাশাপাশি এসব চরে অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি।”

ইলিশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে গত ১ মার্চ থেকে টানা দু’মাস সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলছে। ২৩ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট জাটকাকে বড় ইলিশ হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাঁচটির মধ্যে উপকূলীয় এলাকা বৃহত্তর বরিশালে অভয়াশ্রম আছে দুটি। এগুলোতে এখনও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করতে পারেনি মৎস্য অধিদপ্তর। দেদার চলছে ইলিশ নিধন, আবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় জেল-জরিমানার শিকার হচ্ছেন দাদনে জর্জরিত ক্ষুধার্ত জেলেরা। পরিবারের সদস্যদের আহার জোগাতে এবং মাছঘাট মহাজনদের চাপের মুখে তারা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে মাছঘাট মালিক দাদন ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও জেল-জরিমানার শিকার হচ্ছেন হতদরিদ্র জেলেরা। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তর জানিয়েছে, বরিশালে দুটি অভয়াশ্রম হচ্ছে চরইলিশার মদনপুর থেকে ভোলা জেলার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালী জেলার চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর নদীর হবিনগর পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জের বামনীরচর, মেহেন্দিগঞ্জের গজারিয়া নদীর হাটপয়েন্ট থেকে হিজলা লঞ্চঘাট, হিজলার মৌলভীরহাট পয়েন্ট থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনার দক্ষিণ-পশ্চিম জাঙ্গালিয়া পয়েন্ট পর্যন্ত মোট ৮২ কিলোমিটার নদনদী। অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে, যাতে অন্য মাছ ধরার অজুহাতে কেউ ইলিশ ধরতে না পারে।

অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর প্রথম সপ্তাহেই দুটি অভয়াশ্রমে মাছ ধরার অভিযোগে ১২৭ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও মোট এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, ১০ মার্চ পর্যন্ত এ জেলায় ১৩৭ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সময়ে মেঘনা তীরের বরিশালের দুই উপজেলা হিজলায় ৯২ জন ও মেহেন্দিগঞ্জে ২৮ জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ দুই উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা যথাক্রমে আবদুল হালিম ও ভিক্টর বাইন। দণ্ডিত জেলেদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের সদস্যদের রুটি-রুজি জোগাতে এবং দাদন ব্যবসায়ী মহাজনদের চাপের মুখে বেশির ভাগ জেলে মাছ ধরতে নেমেছিলেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা দু-তিন মাস পর আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন। এতে আদালতের খরচ বাবদ তাদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হচ্ছে। এসব জেলের অসহায়ত্ব পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা উপার্জনকারী মাছঘাট মালিক ও দাদন ব্যবসায়ীরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। যাদের নিয়মিত দু’মুঠো ভাত জোটে না, তাদের ওপর জেল-জরিমানা ও আইনের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি অমানবিক বলে মন্তব্য করে এক মৎস্য কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আইনের কারণে তারা বাধ্য হচ্ছেন শুধু জেলেদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাতে।

বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের নেপথ্যে

এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষের নেপথ্যে

চট্টগ্রামে মডেল মসজিদ নির্মাণে নকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হাতেনাতে ধরা

চট্টগ্রামে মডেল মসজিদ নির্মাণে নকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, হাতেনাতে ধরা

মামুনুলের আরও এক বান্ধবীর ফোনালাপ ফাঁস!

মামুনুলের আরও এক বান্ধবীর ফোনালাপ ফাঁস!

দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি জেলেরা : বাধ্য হচ্ছেন জাটকা নিধনে

দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি জেলেরা : বাধ্য হচ্ছেন জাটকা নিধনে

লঞ্চে ভাড়া বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

লঞ্চে ভাড়া বাড়লেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

দায়িত্বহীনতা-অবিশ্বাসে বাড়ছে বিচ্ছেদ

দায়িত্বহীনতা-অবিশ্বাসে বাড়ছে বিচ্ছেদ