ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

করোনার নতুন ঢেউয়ের ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় করণীয়

কাব্য সাহা :

২০২১-০৪-০৩ ১৯:৩১:২৬ /

প্রায় দুইমাস করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী থাকার পর, পুনরায় সংক্রমণে উর্ধ্বমুখী দেখা দিয়েছে। ২৯ মার্চ সোমবার সংক্রমণের হার বিবেচনায় দেখা যায় ১৮ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছায়। যা বিগত দিনের সংক্রমণ বিবেচনায় বেশ শঙ্কার। সংক্রমণের হার এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের পুনরায় বন্দি জীবনে ফিরে যেতে হবে। সেই জায়গাটা আমাদের জন্য অনেকটা উদ্বেগের হবে। আমরা বাইরের দেশের করোনার বড় ধাক্কা দেখেছি। আমরা লকডাউন দেখেছি তবুও কেনো বাড়ে বাড়ে ভুল পথেই আমরা হাটছি। করোনায় সংক্রমিত হলে একশ্রেণির মানুষের অজানাই থেকে যায় সে সংক্রমিত হয়েছে কি-না। এর বড় একটি কারণ হতে পারে করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষা না করা। জ্বর, কাশি, গলাব্যাথ্যার মতো সিমট্রম থাকলে অনেকে এখন পাত্তাই দিচ্ছে নাহ। আবার অনেকে অসুস্থ হয়েও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু করোনাভাইরাস বহন করে জনসমাগম বা কর্মস্থলে গেলে কতোগুলো মানুষ ঝুঁকিতে থাকছে তা নিয়ে খুব অল্পবিস্তর মানুষ চিন্তা করছে।

জ্বর বা কাশি হলেই যে করোনা হয় এমনটি নয়, তবে রেগুলার চেকাপ বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এ সময় জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক কোভিড-১৯ টেস্টের পরামর্শ দিবেন। এখন অনেকেই করোনা আক্রান্ত হলে কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনে যাচ্ছে না কিন্তু এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই আছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না গতবছর এই গ্রীষ্মকালেই করোনার সংক্রমণ বেশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও আশঙ্কা করা হয়েছিল শীতকালে করোনা পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে, সংক্রমণের হার বেড়ে যেতে পারে। তবে আমাদের বড় কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি। কিছুটা সংক্রমণের হার বাড়লেও মূলত শীতের জন্য নয়, সামাজিক নানা অনিয়মের কারণেই বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত আকারে না করা, লোকসমাগম এড়িয়ে না চলা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মেনে না চললে করোনা সংক্রমণ পূর্বের তুলনায় অনেকগুণ বেড়ে যেতে পারে। বলে রাখা ভালো, প্রতি ঘন্টায় ৭ জন মানুষের হসপিটাল সাপোর্টের প্রয়োজন হচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। এমনভাবে চললে বেড়ে যাবে বহুমুখী সংকট।

সাম্প্রতিক সময়ে করোনার নতুন স্ট্রেইন বা ধরন দেখা গেছে বাংলাদেশে। এ নিয়ে বেশ শঙ্কায় আছে মানুষ। নতুন এই ধরন আগের চেয়ে ৭০ ভাগ বেশি শক্তিশালী এবং দ্রুত মানুষকে সংক্রমিত করে বলে জানা যায়। অন্যদিকে তরুণদের একটি বড় অংশ বেশি সংক্রমিত হচ্ছে বর্তমান সময়ে। ব্রিটেনে এর প্রভাব সম্পর্কে আমরা জেনেছি। শুধু ব্রিটেনে নয় ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ প্রায় ৮৩টি দেশে করোনার নতুন স্ট্রেইন বা ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন এই ধরন নিয়ে প্রতিটি বিভাগে বিশদভাবে চিন্তা করতে হবে। আতঙ্কিত নয় বরং নিয়ম মেনে চললে পরে সংক্রমণ কমে আসবে। বাইরের দেশের সাথে বিমানপথে যোগাযোগে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে কিছু দেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা শিথিল রাখতে হবে। বাইরের দেশ থেকে কেউ আসলে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনার বিকল্প কিছু নেই। সচেতনার কিছু জায়গা আমরা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে পারি : ১) তিনস্তর বিশিষ্ট মাস্ক ব্যবহার করতে পারি। সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহারও করতে পারি তবে তা একবার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে একসাথে দুটি মাস্কের ব্যবহার করা যাবে না, এর ফলে দুই মাস্কের মাঝে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা থাকে। ২) হাঁচি-কাশি দেওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখতে হবে, নয়তো হাঁচি-কাশি দেওয়ার পরে কোনো ব্যক্তি ও বস্তুর সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। নাহলে ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্যকে সংক্রমিত করবে। ৩) যেকোনো কাজের পূর্বে হ্যান্ড স্যানিটাজার অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যবহার শেষে নিরাপদ স্থানে রাখতে হবে নয়তো দুর্ঘটনার সম্ভবনা থাকবে। ৪) সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে। বাইরে থেকে আসার পরে এবং খাবার গ্রহণের পূর্বে হাতের প্রতিটি অংশ ভালো করে পরিস্কার করে নিতে হবে।

৫) পাবলিক ট্রান্সপোর্ট প্রয়োজন ছাড়া কোনো হাতল বস্তু স্পর্শ করা যাবে না, যথাসম্ভব এরিয়ে চলতে হবে। ৬) হ্যান্ডসেক এবং আলিঙ্গন  থেকে বিরত থাকতে হবে। করোনা ছোঁয়াচে রোগ না হলেও পরোক্ষভাবে বললে একপ্রকার ছোঁয়াচে রোগ বলা যায়। সংক্রমিত কোনো ব্যক্তির শরীরে ড্রপলেট ছড়িয়ে থাকলে তাকে স্পর্শ করার মাধ্যমেও শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে, সুতরাং বেশ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে। ৭) মাছ, ডিম এবং মাংস খাবার পূর্বে যথাযথ ভাবে সিদ্ধ করে নিতে হবে। খাবার মাধ্যমেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ৮) বর্তমান সময়ে পশু-পাখি লালন বা পালন থেকেও বিরত থাকতে হবে। পশু-পাখির মাধ্যমেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। ৯) মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব ৩-৬ ফুট রেখে চলাচল করতে হবে। এতে মানুষের যেকোনো জলীয়কণা থেকে দূরে থাকা যাবে। ১০) কোনো কারণ ছাড়াই দেশের মধ্যে কিংবা দেশের বাইরে ভ্রমণে বিরত থাকতে হবে। সর্বোপরি, সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী গতি মাথায় রেখে পাবলিক জনসমাগম ঘটে এমন পরিসর- মেলা, অনুষ্ঠান, উৎসব ইত্যাদি এসব কিছু বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ

বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

করোনায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার শঙ্কা

করোনায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার শঙ্কা

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকার

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী মুজিবনগর সরকার

আমাদের জন্য কঠোর লকডাউনের বিকল্প নেই

আমাদের জন্য কঠোর লকডাউনের বিকল্প নেই

বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে করোনা মহামারির প্রভাব

বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে করোনা মহামারির প্রভাব

বঙ্গবন্ধুর ডাকা সেই খোকা আমি জাবেদ

বঙ্গবন্ধুর ডাকা সেই খোকা আমি জাবেদ

ভূগর্ভস্থ পানি  ও আমাদের ভবিষ্যৎ

ভূগর্ভস্থ পানি ও আমাদের ভবিষ্যৎ