ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ ই-পেপার

রাজধানীর কাঁচাবাজারে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২০-০৬-২০ ০৪:১৬:৪৫ /

করোনা পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক জীবনযাত্রায়, বিশেষ করে বাজারগুলোয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনায়। এ ছাড়া একমুখী প্রবেশপথ, দোকানপাটের সামনে গোলাকার চিহ্ন এঁকে দিয়ে দূরত্ব বজায় রাখা, ক্রেতাদের স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া, মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসবের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

রাজধানীর অধিকাংশ কাঁচাবাজারে গাদাগাদি করেই কেনাকাটা করছে মানুষ। বিধিনিষেধের নেই কোনো বালাই। বাজারজুড়ে অসংখ্য মানুষের জটলা। সকাল হলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। মাস্ক পরিধান নিয়েও রয়েছে উদাসীনতা। এতে করে বাড়ছে করোনা ভাইরাস বিস্তারের ঝুঁকি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলায় আনা জরুরি। নয়তো মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

সবজি, ফল ও মাছের পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যের জন্য রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম স্থান যাত্রাবাড়ী। করোনা ভাইরাসও বদলাতে পারেনি এখানকার চিত্র। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার পর থেকে দিনভর লোকে লোকারণ্য থাকছে এ এলাকা। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্বের ছিটেফোঁটাও নেই এখানে। দিনভর লেগে থাকছে যানজট। গায়ে গা ঘেঁষেই চলছে বাজার-সদাই।

শুধু যাত্রাবাড়ীতেই নয়, একই অবস্থা কাজলা, শনিরআখড়া, মালিবাগ, রামপুরাসহ রাজধানীর অন্যান্য বাজারেও। এলাকার ভেতরের ছোট ছোট বাজারের চেহারাও একই। এসব এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতা কেউ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না। বাজারগুলোয় হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। মাস্ক ব্যবহার করছেন না অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা। দোকান ঘিরে গায়ে গা লাগিয়ে করছেন কেনাকাটা। আগের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও খুব একটা দেখা যায়নি তদারকি করতে। বাজারে অনেককেই দেখা গেছে অকারণে অবস্থান করতে, জটলা করে গল্পে মশগুল হতে। চায়ের দোকানগুলোয় দেখা গেছে অকারণে বসে আড্ডা দিতে।রায়েরবাগ বাজারের পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান। গতকাল এসব দোকানে চুটিয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে অনেককেই। জিজ্ঞেস করলে আফজাল হোসেন নামের একজন বলেন, এখন আর ঝুঁঁকি নাই। ঝুঁকি থাকলে তো সব বন্ধ থাকত। রাস্তার ওপারেই আমার গ্যারেজ। এখানে পরিচিতরা আছে, বাজার করতে আইসা এক সঙ্গে একটু চা খাইতাছি আরকি। একটু পরেই চইলা যামু।

একই বাজারে আবু হানিফ নামের এক ক্রেতা বলেন, নতুন করে জোন তৈরি করে লকডাউন হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনে রাখতে বাজারে এসেছি। বাজার না করলে চুলা চলবে কিভাবে। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁঁকি নিয়েই বাজারে এসেছি।

যাত্রাবাড়ী বাজারের এক ক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ একটা মোড়ের ধারে বাজার হওয়ায় এখানে মানুষের জটলা বেশি। এ সময় বাজারে নিয়মানুযায়ী শৃঙ্খলা থাকা উচিত। তাতে আমরাও নিরাপদ বোধ করতাম।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, শুরু থেকেই এলাকার বাজারব্যবস্থা শৃঙ্খলায় আনতে আমরা অভিযান চালিয়ে আসছি। অযথা ভিড়-জটলা অপসারণ করতে নিয়মিত মাঠে কাজ করছে আমাদের টিম। পাশাপাশি সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষই সচেতন হচ্ছে না। আমাদের দেখলে জটলা সরে যাচ্ছে, লুকিয়ে পড়ছে সবাই। আবার আমরা আড়াল হলেই আগের মতোই জটলা করছে। এমন পরিস্থিতিতেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও জনসাধারণকে সচেতন করতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করছি।

মালিবাগ বাজারেও ভিড় বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা সোহেল আরমান বলেন, শুরুর দিকে আতঙ্কে বাজারে মানুষের ভিড় কম ছিল। এখন দিন যত যাচ্ছে বাজারে মানুষের ভিড় তত বাড়ছে।

এ বিষয়ে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমাদের মতো জনসংখ্যাবহুল দেশের জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাটা অনেক চ্যালেঞ্জের। তার ওপর নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে করোনা সংক্রমণের যে ধাপে রয়েছি আমরা, সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা আমাদের মেনে চলতেই হবে। এর বিকল্প নেই। জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই শৃঙ্খলা আনতে হবে।

ক্রান্তিকালে নিরাপদ বাজার ব্যবস্থাপনার কথা বলা হলেও এ নিয়ে এক রকম উদাসীনতা রয়েছে উল্লেখ করে কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, বাজারগুলোকে উন্মুক্ত স্থানে স্থানান্তর করা, মাস্ক পরিধান, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বাধ্যতামূলক করাসহ বিভিন্ন শৃঙ্খলার কথা বলা হচ্ছে সেই শুরু থেকে। কিন্তু এগুলোর কিছুই মানা হচ্ছে না বাজারগুলোয়। এগুলো তদারকি করার যেন কেউ নেই। জনস্বাস্থ্যকে জেনেশুনে ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বাজার শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর না হলে সংক্রমণের এমন পর্যায়ে ভাইরাস আরও বেশি ছড়িয়ে পড়বে।

এ জাতীয় আরো খবর

পানিবন্দি লাখো মানুষ

পানিবন্দি লাখো মানুষ

তিস্তায় বন্যাকবলিত আরও ৫ হাজার পরিবার

তিস্তায় বন্যাকবলিত আরও ৫ হাজার পরিবার

ভারী বৃষ্টির কারনে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

ভারী বৃষ্টির কারনে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

বান্দরবানে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ৬

বান্দরবানে দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে নিহত ৬

দিনাজপুরে বাসচাপায় নিহত ৫

দিনাজপুরে বাসচাপায় নিহত ৫

খিলক্ষেতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ছিনতাইকারী নিহত

খিলক্ষেতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ ছিনতাইকারী নিহত