ঢাকা, সোমবার, ১৭ মে ২০২১ ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জের) প্রতিনিধি

২০২১-০৪-১৪ ১৫:১৮:৫৫ /

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মাঠগুলো এখন সবুজের সমারোহ। থোকায় থোকায় ঝুলছে বোরো ধানের শীষ। পাকতে শুরু করেছে অনেক জমির ধান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে ধান কাটা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে নতুন ধান উঠার আনন্দের প্রহর গুনছেন কৃষান-কৃষানিরা। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ১০০ মেট্রিক টন এবং চাল ৭০ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর গোমস্তাপুর উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফসি জাতের ধানের মধ্যে ব্রি ধান-৪৮ ৩৩০ হেক্টর, ব্রি ধান-২৮ ৫১০ হেক্টর, ব্রি ধান-২৯ ৬৯০ হেক্টর, ব্রি ধান-৩৬ ২ হাজার ৪৯৫ হেক্টর, ব্রি ধান-৫৮ ১ হাজার ৭১০ হেক্টর, ব্রি ধান-২৯ ১৪০ হেক্টর, ব্রি ধান-৮১ ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর, ব্রি ধান-৮৬ ১০৫ হেক্টর, ব্রি ধান-৮৪ ৭৫ হেক্টর, ব্রি ধান-৫০ ৩৪০ হেক্টর, ব্রি ধান-৮৮ ৩০ হেক্টর, ব্রি ধান-৮৯ ১৫ হেক্টরসহ জিরা ৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের এসএল ৮এইচ ৩ হেক্টর, এসিআই সেরা ১৯০ হেক্টর, ইস্পাহানি ২২৫ হেক্টর এবং টিয়া ১৫ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

রাধানগর ইউনিয়নের কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে আবাদ করা হয়েছে। যথাসময়ে সেচপানি দেয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ সার ও বিষ নির্দিষ্ট সময় প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি মনে করছেন।

আরেক কৃষক মোবারক হোসেন জানান, চলতি বছর ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তার জমির ধান কাটা শুরু হবে। ধানের শীষ দেখে তিনি ভালো ফলন পাবেন বলে ধারণা করছেন। তবে ঝড় শিলাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে ধানের ফলন নিয়ে শঙ্কায় থাকবেন।

বিভিন্ন ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকরা যাতে লাভবান হয় সে জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। কোনো কৃষকের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। উপজেলায় এবার উফসি ও হাইব্রিড উভয় জাতের ধান চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউনের সময় আরো বৃদ্ধি করলে নির্মাণ শ্রমিক, ইটভাটার শ্রমিক, ছোটখাটো দোকানদার, রিকশা-ভ্যানচালকসহ অনেকেই বাড়িতে বসে থাকবেন। এ সময় তার ধান কাটায় নিয়োজিত হলে শ্রমিক সংকট হবে না বলে তারা ধারণা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ হোসেন বলেন, ধানের উৎপাদন বেশি পাবার জন্য কৃষককে নির্দিষ্ট সার ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষককে সবসময় উপজেলা কৃষিবিভাগের মাধ্যমে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়ার সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাসহ কৃষক ও শ্রমিকদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় উফসি জাতের ধান ১৪ হাজার ৩৪০ হেক্টর ও হাইব্রিড ৭৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে।

বাবু/জেআর

এ জাতীয় আরো খবর

ছবির গল্প : ছবিটি শো অফ নয়

ছবির গল্প : ছবিটি শো অফ নয়

 নীরবেই কেটে গেল দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যা দিবস

নীরবেই কেটে গেল দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গণহত্যা দিবস

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আলোকবর্তিকা

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আলোকবর্তিকা

সংযমের শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে সারাবছর

সংযমের শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে সারাবছর

বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

বাংলা ও ইংরেজীতে কথাবলা সুজনের ‘বঙ্গ’ রোবট

বাংলা ও ইংরেজীতে কথাবলা সুজনের ‘বঙ্গ’ রোবট