ঢাকা, সোমবার, ১৭ মে ২০২১ ই-পেপার

করোনা মহামারিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য

ফারজানা অনন্যা

২০২১-০৫-০৩ ২০:৩৭:৫৫ /

গতবছর থেকে আমরা এক অদ্ভুত মৃত্যুর আতঙ্ক আর শঙ্কা নিয়ে বসে আছি এই পৃথিবীতে। এই মৃত্যুবীজ বা করোনা মহামারির দংশনে ক্লান্ত আজ ধরণীমাতা। বর্তমানে ‘করোনা’ এক ভয়াবহ শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে  আমাদের কাছে। সেটা শুধুমাত্র এর মৃত্যুঘাতী প্রকোপের জন্য নয়, বরং এর জন্য আমাদের দীর্ঘদিনের গৃহবন্দি জীবনযাপনও দায়ী। কতদিন ধরে কতো মানুষ মুক্তপ্রান্তরে শ্বাস নিতে পারে না,  শিশুদের কোলাহলে মুখরিত হয়না খেলার মাঠ, শিক্ষার্থীদের তর্ক-বিতর্কে জমে না চায়ের দোকানের আড্ডা। কিংবা ছোট্ট মেয়েটি বাবার হাত ধরে বিকেলের নরম রোদে আর হাঁটতে বের হতে পারে না। করোনা কেড়ে নিয়েছে আমাদের শঙ্কামুক্ত জীবনের স্নিগ্ধ শান্তি। 

করোনা প্রতিটি পেশা, বৃত্তি ও বয়সের মানুষের ছকবাঁধা জীবনযাপনকে এলোমেলো করে দিয়েছে। তবে করোনায় সবচেয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। যে শিক্ষার্থীটি কখনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করতো না, অনলাইনে শিক্ষার জন্য তার হাতেই আজ স্মার্টফোন। মনোযোগী শিক্ষার্থীটি হয়তো আজ অনলাইন গেমে আসক্ত। পড়াশুনার চাপ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভুগছে হতাশা ও বিষণ্নতায়। প্রফেসর ক্রেসওয়েল করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর যে লকডাউন জারি করা হয়, তার প্রথমমাসে শিশুদের এবং তাদের বাবা-মার ওপর একটি সমীক্ষা চালান। এতে তিনি দেখেছেন, প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, নিরানন্দ এবং মন খারাপ থাকার ব্যাপারগুলো বেড়ে গেছে। তবে মাধ্যমিক স্কুলের ছেলেমেয়েদের বেলায় এরকম আবেগজাত সমস্যা কম দেখা গেছে। এরা বলেছে, তাদের মনে বা ব্যবহারে সেরকম কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।

কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যদি দেখি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে চাপে আছে এই করোনা মহামারিতে। কারণ, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই সেশন জটে আটকে আছে সেমিস্টার পরীক্ষাগুলো। উন্নত দেশগুলোর মতো আমাদের দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার না থাকায় এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ডিভাইস না থাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভবপর হচ্ছে না। আবার, অনেক শিক্ষার্থীই হয়তো টিউশনি করে তার নিজের ও পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেসব শিক্ষার্থীরাও টিউশনি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। করোনা এভাবে শেষ করে দিচ্ছে এক প্রজন্মকে। করোনায় শিক্ষার্থীদের এই অবস্থার পরিত্রাণে পরিবার ও সরকারকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের সৃজনশীল কাজে যেমন, ছবি আঁকা, গান গাওয়া কিংবা ঘরের মধ্যেই বিভিন্ন খেলাধুলার ব্যবস্থা করে তাদের জীবনের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে হবে। সন্তান মোবাইল ফোনে যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে সেটা দেখার দায়িত্বও অভিভাবকের। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেসব লোনের অবস্থা করেছে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সার্বিক ব্যবস্থা বিবেচনা করে চাকরির বয়সের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা যায়।

বয়ে চলা এ মহামারি একদিনে বন্ধ হবার নয়। হয়তো বছররের পর বছর লেগে যাবে এই ভয়ঙ্কর রোগ থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু জীবন থেমে থাকবে না, সে বয়ে চলবে তার নিজস্ব গতিতে। তাই সময়ের সাথে জীবনের তাল মেলাতে সরকারের উচিত শিক্ষাক্ষেত্রের সকল কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা। কারণ, একটি হতাশামুক্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানে সজীব প্রজন্মই হয়তো পারবে করোনা মহামারিকে হটিয়ে পৃথিবীকে আবার সুস্থ করতে।

লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

এ জাতীয় আরো খবর

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট ও নিরপেক্ষ নৈতিকতা

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট ও নিরপেক্ষ নৈতিকতা

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক : শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ বাংলাদেশ

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের চার দশক : শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ বাংলাদেশ

সুনীল অর্থনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

সুনীল অর্থনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

ঈদ আনন্দে বৈষম্য নয়

ঈদ আনন্দে বৈষম্য নয়

কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মানুষ

কঠিন সময় ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মানুষ

করুণা করে হলেও ঈদকার্ড দিও

করুণা করে হলেও ঈদকার্ড দিও