ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

ঈদ আনন্দে বৈষম্য নয়

তামান্না আক্তার

২০২১-০৫-১১ ২০:৫৮:৪৩ /

ঈদ মুসলমানদের আনন্দঘন একটি দিন। দল-মত নির্বিশেষে সকল মুসলমান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্যাপন করে দিনটি। এ দিনে বিশ্বের সকল প্রান্তের মুসলমান ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে যায়। আর প্রত্যেকদেশ নিজ নিজ সাজে সজ্জিত  হয়ে মহান আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠানের বিভিন্নতা থাকলেও এ দিনের মহান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সকল ভেদাভেদ ভুলে একটি শান্তির পৃথিবী গড়ে তোলা।

ঈদের দিনের আনন্দ একটি দিনে সীমাবদ্ধ নয়। বরং কয়েক সপ্তাহ পূর্ব থেকে খুশির আমেজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের দিনকে কেন্দ্র করে সকলের মাঝে থাকে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার বাসনা। তাই নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসতে চেষ্টা করে সবাই। কয়েকদিন পূর্বে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সজ্জিত করা হয়। সকলে মিলে দলবেঁধে ঈদের আগমনী গান গাইতে থাকে। বিশেষ করে বাচ্চাদের মাঝে থাকে অন্যরকম আবেগ। ঈদের চাঁদ দেখা দিলে তারা গাইতে শুরু করে- ‘কালা গরুর কালা শিং রাত পোহালেই ঈদের দিন।’ তাদের সুরে মুখরিত হয়ে উঠে চারপাশ। ঈদের আগে ভাগে আরো শুরু হয় তাদের কার্যক্রম যার মধ্যে অন্যতম আতস বাজি জ্বালানো, পটকা ফোটানো, ঈদগাহ সাজানো ইত্যাদি। সকলের মাঝে একটাই কথা ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে দুঃখ ভুলে যাওয়ার দিন। ঈদের এ বিশেষ দিনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি পরিবারে আসে নতুনত্বের ছোঁয়া। তাই সবাই পুরাতন দুঃখ, জ্বরা ভুলে নতুনভাবে সজ্জিত হয়, সকলেই নিজ নিজ আবাসকে করে মলিনতা মুক্ত আর নিজেরাও হয়ে ওঠে এক শালীনতার প্রতীক।

কিন্তু সমাজে বিভিন্ন পেশার মানুষের মাঝে ঈদের আমেজ থাকে ভিন্ন মাত্রার। কারো ঈদ বিলাসিতার, তো অন্য কারো বোবা কান্নার। এ যেন চিরন্তন এক দৃশ্য। অধিকাংশ সমাজে লক্ষ্য করা হয় ধনী ও প্রভাবশালীদের ঈদ আনন্দ হয় আড়ম্বরপূর্ণ। তাদের ঈদ উদ্যাপন হয় বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান, হরেক রকমের খাবার কিংবা বাহারি ডিজাইনের পোশাকের সাজে। নানা রকম অনুষ্ঠান আর আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে হয় আনন্দঘন মুহূর্ত। কিন্তু গরিব ও অসহায় পরিবারের চিত্র ম্লান হয়ে ধরা দেয়। গরীবের ঘরে নেই নানান স্বাদের খাবার কিংবা রঙিন কাপড়ের ছড়াছড়ি। অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো তাদের দিনটি উদ্যাপিত হয়। কিন্তু দিনটি দেখিয়ে দেয় বৈষম্যের কঠিন চিত্র। একদিকে আনন্দের বারি ঝরতে থাকলেও অন্য দিকে থাকে অশ্রুসিক্ত জল। ঈদে নূন্যতম নতুন পোশাক কিনতে পারে না অনেক পরিবার। এমনকি ভালো কিছু খাবারের আয়োজনও হয় না অনেক পরিবারে। এই অসহায়, গরিব পরিবারের কাছে এটা আরো বেশি কষ্ট বয়ে আনে। কারণ আশেপাশে আনন্দের চিত্র দেখে গরিবের কষ্ট আরো বেশি হয়। এছাড়াও বর্তমানে মহামারি পরিস্থিতিতে বৈষম্যের চিত্র প্রকট আকার ধারণ করেছে। কারণ গরিবের আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া দায়। লকডাউন আর মহামারির ভয়ে তাদের বেহাল দশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বর্তমানে লকডাউনে অনেক পরিবারে দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সেখানে দামি খাবার কিংবা একটু ভালো কাপড় তাদের কাছে স্বপ্ন হলেও জোগাড় করা সম্ভব নয়। অনেক পরিবার লকডাউনের কারণে সম্পূর্ণ কর্মহীন দিন অতিবাহিত করছে, বিশেষ করে দিন আনে দিন খায় এদের সঞ্চয় বলে কিছু থাকেনা। দিনের উপার্জন দিয়ে খাবারের বন্দোবস্ত হয়, সেখানে নতুন কাপড় কিংবা দামি খাবার কিনা অসম্ভব বৈকি!

ঈদে অনেকে হয়তো অনেকভাবে অর্থ অপচয় করে। কিন্তু এ অপচয় করা অর্থগুলো কোনো পরিবারকে দিলে তাদের ঈদ হবে অনেকটা আনন্দের। তাই আমরা ঈদ আনন্দে স্বার্থপর না হই। বরং আমার প্রতিবেশীর ঈদ কেমন কাটছে খোঁজ নেওয়া দরকার। আমাদের একটু সহানুভূতির হাত হতে পারে কারও আনন্দের বাহন। তাই ঈদ হোক সকলের মুখে হাসির প্রতীক। সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটু সদয় হলেই কারো ঈদ হবে না দুঃখ কিংবা আফসোসের। তখন হয়তো সকলে সম্মিলিতভাবে গাইতে পারবো- ‘ঈদ মানে ছোট-বড় সবার মুখে হাসি, ঈদ মানে একসাথে আনন্দে মাতামাতি।’

লেখক :  শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্বাবিদ্যায়

এ জাতীয় আরো খবর

যানজট সমস্যা ও প্রতিকার : একটি পর্যালোচনা

যানজট সমস্যা ও প্রতিকার : একটি পর্যালোচনা

বাজেট ২০২১-২০২২ : জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়

বাজেট ২০২১-২০২২ : জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়

মানবহিতৈষী এক উপাচার্যের কথা

মানবহিতৈষী এক উপাচার্যের কথা

প্রজন্মের চেতনার বলয় বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু

প্রজন্মের চেতনার বলয় বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু

ভ্যাকসিন উৎপাদন ও প্রয়োগের নিশ্চিতকরণ জরুরি

ভ্যাকসিন উৎপাদন ও প্রয়োগের নিশ্চিতকরণ জরুরি

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস : শিশুবান্ধব নিরাপদ পৃথিবী চাই

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস : শিশুবান্ধব নিরাপদ পৃথিবী চাই