ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১ ই-পেপার

সেই কল রেকর্ডেই কি ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার?

কামরুজ্জামান রনি :

২০২১-০৫-১২ ০২:৪৬:৩৮ /

আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল চট্টগ্রাম পাহাড়তলীস্থ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ে আসেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। এরপর থেকে শুরু হয় নানান গুঞ্জন। অনেক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয় গ্রেফতার হয়েছে বাবুল আক্তার৷ সংবাদকর্মীরা বারবার পিবিআই কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কেউ কোন সাড়াই দেয়নি। তবে পিবিআই'র উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার গণমাধ্যমের কাছে বলেছিলেন, "মামলার বাদী হিসেবে বাবুল আক্তার মঙ্গলবার চট্টগ্রাম গেছেন। তিনি মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এটাকে জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া, যে কোনো কিছুই বলা যেতে পারে।"

হাইকোর্টের রুল থাকায় এই মামলার বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কেউই কোন বক্তব্য বা তথ্য দিতে রাজি হয়নি৷ তবে পিবিআই'র একটি সূত্র বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানিয়েছে, মিতু হত্যাকান্ডের পরপরই আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আসা একটি ২৭ সেকেন্ডের কল রেকর্ডের সূত্রে বাবুল আক্তারের নাম স্ত্রী মিতু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে। সেই ২৭ সেকেন্ডের মোবাইল ফোনের কথোপথনের রেকর্ডটিই হতে পারে মিতু হত্যার প্রধান আলামত ও সাক্ষী। তবে  সেই ফোনালাপের অপরপ্রাপ্তে থাকা ব্যক্তি মুছা'র আজ পর্যন্ত কোন হদিস না পাওয়ায় বিষয়টি ক্রসচেক করতে বেশ বেগ পেতে হয়৷ তবে পিবিআই'র গভীর অনুসন্ধানে মিতু হত্যাকান্ডে বাবুল আক্তারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাওয়ায় তাকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পিবিআই কার্যালয়ে আটক রাখা হয়েছে। যেহেতু বাবুল আক্তার নিজেই মিতু হত্যা মামলার বাদি তাই সেই মামলায় তাকে গ্রেফতারের সুযোগ নেই৷ তাই দ্রুত মিতুর পরিবারের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। সেই মামলা দায়েরের পর বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার করা হতে পারে। 

এই বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই'র পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্তের স্বার্থে বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানালেও মিতু হত্যা মামলার বিষয়ে হাইকোর্টের রুল থাকায় কিছুই জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন৷ 
  
কি আছে সেই কল রেকর্ডে : নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইতিপূর্বে মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট থাকা একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল ৭ টা ৩৭ মিনিটে মিতু হত্যা মামলার প্রাইম সাসপেক্ট মুছার মোবাইল ফোনে তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তারের মোবাইল ফোন থেকে একটি কল যায়। কল রিসিভ করে মুছা সালাম দিতেই অপর প্রান্ত থেকে বাবুল আক্তার বলেন, ‘তুই কোপালি ক্যান?’ কয়েক সেকেন্ড থেমে আবারো বাবুল আক্তার উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠেন, ‘বল তুই কোপালি ক্যান? তোরে কোপাতে কইছি?’ এরপর অনেকটা থতমত খেয়ে মুছা আমতা আমতা করে বলেন, ‘না মানে....’। এরপর পরই বাবুল আক্তার কলটি কেটে দেন। 

বলা হয় সেই ২৭ সেকেন্ড কলের কথোপথনের রেকর্ড পেয়েই হত্যাকান্ডের ১৯ দিন পর ২০১৬ সালের ২৪ জুন রাতে বনশ্রীর শ্বশুরের বাসা থেকে বাবুলকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কিছু দিন পর বাবুল আক্তার পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন। 

আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছে বাবুল আক্তারের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড থাকার পরো কেন এতোদিন বাবুল আক্তারকে গ্রেফতার না করার পেছনে আইনি জটিলতা বলে উল্লেখ করছেন সেই কর্মকর্তা । 

তিনি জানান ঘটনার পর থেকে মুছার কোন হদিস মেলেনি। যদিও মুছার স্ত্রী সেই সময় দাবি করেছিলেন আইন শৃংখলা বাহিনীই মুছাকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে বেশীর ভাগেরই মত মুছা সহ হত্যায় সন্দেহভাজন আরো একজন অনেক আগে গুম হয়ে গেছে। যদিও পুলিশ বলছে মুছা পলাতক৷ ইতিমধ্যে অভিযুক্ত মুছাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই হত্যাকান্ডে সন্দেহভাজন দুই আসামী নূরুন্নবী ও রাশেদ পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এছাড়া অন্যতম অভিযুক্ত ভোলা গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন।

মিতু হত্যাকান্ডের পর থেকে মিতুর পরিবার বাবুল আক্তারের পাশেই ছিলেন। তারা স্ত্রী হত্যায় বাবুল আক্তার জড়িত থাকতে পারেনা বলেই মত দিয়েছিলেন৷ তবে সেই আলোচিত কল রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর থেকে মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশারফ হোসেন অভিযোগ করছেন, তার মেয়ের স্বামীই প্রকৃত খুনী। 

২০১৬ সালের ৫ জুন সকাল ৭ টা ১৭ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন দুর্বৃত্ত মিতুকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি করে। এরপর কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ওই সময় মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগ দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তার আগে তিনি চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন। হত্যাকান্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বাবুল আক্তার। মামলাটি চট্টগ্রামের নগর গোয়েন্দা পুলিশের হাত ঘুরে বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধিন রয়েছে।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

চট্টগ্রামে কবরস্থান নিয়ে বিরোধ : দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৩

চট্টগ্রামে কবরস্থান নিয়ে বিরোধ : দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৩

চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হসপিটালে বিশ্বমানের সেবা : জটিল ব্রেইন টিউমার অপারেশনে সাফল্য

চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হসপিটালে বিশ্বমানের সেবা : জটিল ব্রেইন টিউমার অপারেশনে সাফল্য

মুনিয়ার বোনের সাথে গোপন বৈঠকে বসতে চায় আনভীর!

মুনিয়ার বোনের সাথে গোপন বৈঠকে বসতে চায় আনভীর!

৭ বছরে ২৫০ চুরি! অবশেষে ২৭ লক্ষাধিক টাকা, স্ত্রী ও সঙ্গীসহ গ্রেফতার

৭ বছরে ২৫০ চুরি! অবশেষে ২৭ লক্ষাধিক টাকা, স্ত্রী ও সঙ্গীসহ গ্রেফতার

মাটি ফেলে চসিক'র ড্রেন দখল; প্রতিবাদকারীদের কুপিয়ে আহত

মাটি ফেলে চসিক'র ড্রেন দখল; প্রতিবাদকারীদের কুপিয়ে আহত

সেই কল রেকর্ডেই কি ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার?

সেই কল রেকর্ডেই কি ফেঁসে যাচ্ছেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার?