ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

তুরস্কে ঈদুল ফিতর উদযাপন

বুলেটিন ডেস্ক :

২০২১-০৫-১৩ ১৬:০২:০৪ /

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু করোনার এই মহামারি যেন সেই আনন্দ মাটিই করে দিচ্ছে। কারণ ঈদের দিনও লকডাউন, তারপরও সময় তো কারও জন্য বসে থাকে না।

তাই গত বছরের ন্যায় এবারও করোনার কারণে বেশির ভাগ মানুষ মনের আনন্দে ঈদ করতে পারছে না, এতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ধরনের ঈদ আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে যুগযুগান্তরে।

তুরস্ক ইউরোপের মুসলিম প্রধান দেশ হলেও দেশটিতে ঈদের আমেজ একটু ভিন্ন। এখানে ঈদের নামাজের জন্য নেই কোনো আলাদা ঈদগাহ, নামাজ পড়া হয় মসজিদে। সব মসজিদে সরকারের নির্দিষ্ট করে দেয়া সময় মতো সূর্য উদয়ের ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

তুর্কিরা আমাদের মতো নতুন জামা না হলে যেন ঈদই হলো না এমন নয়, তারা সাধারণ পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে। নরমাল প্যান্ট-শার্ট পরেই ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করে। তবে আমরা বাঙালিরা দেশ থেকে নিয়ে আসা পাঞ্জাবিটা অন্তত ঈদের দিন হলেও পরা হয়।

তুর্কিরা শুধু ঈদের জন্য কেনাকাটা তথা নতুন জামা তেমন ক্রয় করে না বললেই চলে। তবে ঈদে বেশির ভাগ খাদ্যদ্রব্য জাতীয় বাজারে আমাদের দেশের মতোই প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়। যে কথাটি না বললেই নয়, এখানে ঈদ উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পায় না।

তুর্কিরা নামাজের পরপর আমাদের মতো কোলাকুলি খুব কম করে থাকে, তারা করমর্দন করে থাকে এবং বেশিরভাগ মুখে মুখ, মাথায় মাথা ঠেকিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। একে অপরকে ‘বাইরাম মোবারক ওলসুন’ বলে ঈদের শুভেচ্ছা জানায়।

আমাদের মতো তারাও ঈদের সময় আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় গিয়ে থাকে। যাদের মা-বাবা, মুরব্বি মারা গেছে তারা তাদের কবর জিয়ারত করে থাকে। শহরে বসবাসরত তুর্কিদের অনেকে আমাদের দেশের মতো ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে যায়। এজন্য অনেকে অগ্রীম টিকিটও কেটে রাখে।

আমাদের দেশের মতো তুরস্কে ঈদ উপলক্ষে ফিরনি-সেমাইয়ের জাতীয় মিষ্টান্ন নেই। তারা ঈদের নামাজের পর সকালের নাস্তা গ্রহণ করে থাকে, ঈদের দিনের নাস্তায় থাকে নানা রকম নতুন পদ। যেমন তুর্কিরা সাধারণত সকালের নাস্তায়া গোশত জাতীয় জিনিস খায় না।

কিন্তু ঈদের দিনের সকালের খাবারে ভুনা গোশত বা কাভুরমা থাকতেই হবে। আর সবশেষে থাকে মিষ্টি। অথচ আমাদের দেশে মিষ্টি দিয়ে ঈদের সকালের খাবার শুরু হয়।

বাংলাদেশের মতো বাসা–বাড়িগুলোয় বেড়াতে গেলে তুরস্কে পায়েস ধরনের খাবার দেয়া হয় মেহমানদের। সঙ্গে থাকে তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এখানেও ছোটদেরকে ঈদের সেলামি দেয়ার রীতি প্রচলন আছে। ঈদে মহল্লার শিশুদের আনন্দের একটি কাজ হলো প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তাদের খালি হাতে ফিরিয়ে না দিয়ে, তাদেরকে (বাইরাম শেকার) চকলেট, লজেন্স, ক্যান্ডি জাতীয় খাবার দিয়ে থাকে এবং নগদ অর্থও দিয়ে থাকে।

এখানে ঈদের দিন থেকে ৩ দিন সরকারি যানবাহনগুলো ভাড়া সম্পূর্ণ ফ্রি থাকে, যাতে ঈদের উৎসব একে অপরের সঙ্গে সহজে ভাগাভাগি করতে পারে, যা আমাদের দেশের সঙ্গে একবারেই বিপরীত। সম্পূর্ণ ফ্রি শুধুমাত্র তুরস্কের নাগরিকদের জন্য না, তুরস্কে বসবাসরত সকল দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা পেয়ে থাকেন।

তুরস্কে অবস্থানরত বেশিরভাগ বাংলাদেশি ইস্তাম্বুলে হওয়াতে, আমরা প্রতি ঈদে বিকেল বেলায় অধিকাংশ বাংলাদেশিরা খোলা উন্মুক্ত জায়গায় একত্রিত হয়। আমাদের দেশীয় বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। তারপর আমরা সবাই দেশীয় খাবার বিরিয়ানি খাওয়া হয়, তবে সব কিছুর মূলে হচ্ছে বাংলা খাবার খাওয়া। কারণ বেশিরভাগ বাংলাদেশি ছাত্র হওয়াতে ছাত্রদের হলগুলোতে বাধ্য হয়ে তুর্কিস খাবার খেতে হয়।

তুর্কিরাও বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশীয় খাবার খেয়ে তারা যখন তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে, তাতে আমরা বেশ মজা পাই।

ঈদ উপলক্ষে দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বাংলাদেশি কমিউনিটির ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন থাকে সাধারণত। তাতেও বাংলাদেশি মজার মজার খাবার পরিবেশন করা হয়। ঈদের গানসহ অন্যান্য দেশীয় গান পরিবেশন হয়ে থাকে আয়োজনে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি হচ্ছে এক সময়কার অটোমান সাম্রাজ্য তথা অধুনা তুরস্ক। দেশটির প্রধানতম শহর ইস্তানবুলে কয়েকশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর বাইরে অন্যান্য শহরগুোলাতেও রয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। সবাই তাদের শহরে এক সাথে হয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ও খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করে থাকে।

এখানে পরিবার আত্মীয়-স্বজন ও বাঙালি সংস্কৃতি থেকে অনেক দূরে হলেও তার্কিশ ও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে। ঈদের দিন বিকেলে পার্কে গিয়ে বার্বিকিউ তৈরি, রাইডিং আর ঘোরাঘুরি করে কেটে যায়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে রমজানেই তুরস্কের সরকার সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করে। শুধু অনুমতি সাপেক্ষে একান্ত প্রয়োজনে বাহিরে যেতে পারে ও নিকটবর্তী মসজিদে যেতে পারে। এটি বলবত থাকবে ১৭ মে পর্যন্ত, তারপর করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে হয়ত লকডাউন কিছুটা শিথিল হতে পারে।

ঈদের নামাজের জন্য শুধু নিকটতম মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে অংশ গ্রহণ করে। এইবারের ঈদেও গত বছরের মতো সরাসরি ফোন, মেসেজ ও ভিডিও চ্যাটিংই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা ছাড়া ভিন্ন কোন উপায় নেই।

এবারও হয়নি দূতাবাস, কনস্যুলেট ও বাংলাদেশি কমিউনিটির সরাসরি কোনের ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজন, রশি টানাটানি, মোরগী লড়াই, ক্রিকেট, ফুটবল, বিস্কুটদোড়, বেলুন ফোঁটানো ইত্যাদি আনন্দময় আয়োজন। অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিছু অনলাইন ঈদ পুনর্মিলনী। তাতে দূরে থেকে হলে ও কিছুটা ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা।

আসলে বাংলাদেশের ঈদের আনন্দ বিদেশের মাটিতে কখনও সম্ভব না। সব সময় মনে পড়ে গ্রাম বাংলার সুন্দর ঈদের স্মৃতি সমূহ ও সেই আমেজ। যদিও এই বছর বাংলাদেশেও করোনার কারণে সেই আমেজ নেই। তবুও বলি ভালো থাকো প্রিয় আমার দেশ, প্রিয় আমার মাতৃভূমি বাংলাদেশ। ঈদ মোবারক রইল সবার প্রতি। সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগর থেকে ১৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগর থেকে ১৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

মা-বোনকে ওমরাহ করাতে নেওয়ার পথে বাংলাদেশি নিহত

মা-বোনকে ওমরাহ করাতে নেওয়ার পথে বাংলাদেশি নিহত

করোনায় বাহরাইনে ৭০ বাংলাদেশির মৃত্যু

করোনায় বাহরাইনে ৭০ বাংলাদেশির মৃত্যু

বাহরাইনে করোনায় মে মাসে মারা গেছেন ৩২ বাংলাদেশি

বাহরাইনে করোনায় মে মাসে মারা গেছেন ৩২ বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় ৬২ বাংলাদেশি কর্মী গ্রেফতার

মালয়েশিয়ায় ৬২ বাংলাদেশি কর্মী গ্রেফতার

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের প্রবাসীর মৃত্যু

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের প্রবাসীর মৃত্যু