ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে আলোকবর্তিকা

ফাতেমা তুজ জোহরা :

২০২১-০৫-১৬ ১৭:৫৩:৩২ /

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোর পাশে দাড়ানোর লক্ষ্যে মাত্র ২০ জন সদস্য নিয়ে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর আলোকবর্তিকা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন তার যাত্রা শুরু করে।  সংগঠনটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো শীত, বন্যাসহ নানান দুর্যোগে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কল্যাণে কাজ করা।

সংগঠনের শুরুতেই আলোকবর্তিকা ১০ জন সুবিধা বঞ্চিত শিশুর পড়াশোনা খরচ বহন করার মাধ্যমে তার কার্যক্রম শুরু করে।   আলোকবর্তিকার কার্যক্রম সকলের সম্মুক্ষে আসে ২০১৯ সালের বন্যা পরিস্থিতিতে। সেই সময় কুড়িগ্রামের ২৫০ টি পরিবারের পাশে দাঁড়ায় আলোকবর্তিকা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন। গাজীপুর থেকে সুদূর কুড়িগ্রামে গিয়ে নব্য সংঘটন হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায় আলোকবর্তিকা।

প্রতি রোজা এবং ঈদে আলোকবর্তিকা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য ঈদ উপহার, খাবার বিতরণ কর্মসূচী এবং ঈদের জন্য নতুন কাপড় প্রদান করে আসছে। প্রতি রোজার ন্যায় এবার আলোকবর্তিকা সেহেরী এবং ইফতারে খাবার বিতরণ করেন  এবং ৫০ টি পরিবারে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় বাজার বিতরণ করেন। 

২০২০ সালের করোনা পরিস্থিতির মাঝে জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিটি সদস্যের কাজ ছিলো প্রশংসনীয়। লকডাউনের সময় সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়াও অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ ছিলো নিত্যদিনের কাজ। লকডাউনের মধ্যে সর্বমোট ৫০০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করেন আলোকবর্তিকা।

প্রতি শীতে আলোকবর্তিকা শীতার্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে। এই পর্যন্ত মোট ২০০ টি পরিবারে আলোকবর্তিকা কম্বল বিতরণ করেছেন। সামনে শীতের কার্যক্রম এর জন্য এখন থেকে ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। 

আলোকবর্তিকার ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক "রাজিন সালমানী নাফিম" কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন- "আলোকবর্তিকা পরিবার প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ গুলোর পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতের ন্যায় আমরা ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রমগুলো অব্যাহত রাখবো। এছাড়াও বর্তমান পরিবেশ দূষণ এবং গ্রীনহাউস এর প্রভাব লক্ষ্য করে আমরা সকল সদস্যদের পরামর্শক্রমে বৃক্ষ্মরোপণ কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে হাড়িনাল হাই স্কুল মাঠে আমরা একটি বাগান প্রতিষ্ঠা করেছি এবং বাগানের প্রতিনিয়ত পরিচর্যার কাজ করে চলছি।  আমরা এই বছরের মধ্যে আরোও পাচটি বাগান নির্মাণের কাজ হাতে নিয়েছি যা এই বছরের শেষেই দৃশ্যমান হবে ইনশাল্লাহ।"

আলোকবর্তিকার প্রতিষ্ঠাকালীন এবং বর্তমান সভাপতি "মো:মোস্তাফিজুর রহমান" কে সংগঠনের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন- "আলোকবর্তিকা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে সবসময় আগ্রহী।  কিন্তু অনেক সময় ফান্ডে পরিমাণ মতো অর্থ না থাকায় অনেক ভালো এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো আমরা চাইলেই করতে পারি না। আমাদের ফাউন্ডেশনের বেশীরভাগ সদস্য তরুণ এবং সকলেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত অবস্থায় আছে। যার ফলে আমাদের আয়ের উৎস খুবই সীমিত।  এছাড়াও আমাদের সংগঠন নতুন হওয়ার কারনে আমরা এখনো রেজিস্ট্রেশন করতে পারি নি।  যার ফলে আমাদের কাজ গুলোর মধ্যে কিছুটা সীমাবদ্ধতা চলে আসে।  তবে সকল সদস্যদের পরামর্শক্রমে খুব শীঘ্রই আমরা রেজিস্ট্রেশন এর বিষয় গুলো নিয়ে কাজ করবো।  আমরা বিশ্বাস করি ভালো কাজ গুলো কখনো থেমে থাকে না।  আলোকবর্তিকা তার ভালো কাজ গুলোর মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।  সকলে আমাদের সংগঠন এর জন্য দোয়া করবেন।"

বর্তমানে আলোকবর্তিকা মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশন এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে এবং এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৫০ জন।

বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্ব কমাবে লেবুখালী সেতু

ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্ব কমাবে লেবুখালী সেতু

আলো ছড়াচ্ছে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার

আলো ছড়াচ্ছে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার

মধুর বাঁশির সুর যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকেও হার মানায়

মধুর বাঁশির সুর যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকেও হার মানায়

যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলন

যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলন

আত্মরক্ষার তাগিদেই নারীদের ক্যারাটে শেখা উচিত : মৌসুমী মজুমদার

আত্মরক্ষার তাগিদেই নারীদের ক্যারাটে শেখা উচিত : মৌসুমী মজুমদার

হারিয়ে যেতে বসেছে রসালো ফল কালো জাম

হারিয়ে যেতে বসেছে রসালো ফল কালো জাম