ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

ছবির গল্প : ছবিটি শো অফ নয়

রংপুর ব্যুরো

২০২১-০৫-১৭ ১৬:২৪:২০ /

জীবন যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া যুবক রবির পল্প। নব্বই দশকের রংপুর সরকারি কলেজের এক দরিদ্র পরিবারের যুবকের কথা। ছবিটি শো অফ নয়।

এখন কৃষকের ঘরে ঘরে বোরো ধান কেটে ফসল ঘরে তোলার  মৌসুম। এখন ধান ক্ষেতের মাঠে যে দৃশ্যটি চোখে পড়বে কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে দিচ্ছেন সরকারি দলের সংগঠন থেকে শুরু করে ও সহযোগী সংগঠনসহ ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

খবরের কাগজে চাকরি করি; সেই সুবাদে কাজের প্রমাণ সরূপ সেই জন্য পত্রিকা অফিসে জমা দিতে হয়। তাই  পত্রিকা অফিসে  জমা  দেওয়ার মতো ছবি ও নিউজ  হাতের কাছে থাকতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ ছবি ছাপানোর মতো কোনো নিউজ বা ছবি না থাকলে অনেক সময় কোনো অনুষ্ঠানের তৈরি করা ফটোসেশন ছবিটি অফিসে জমা  দেই। তা আবার পরের দিন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু এ দৃশ্যটি    ক্ষেতে থেকে ধান কেটে ঘাড়ে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্যটি ফটোসেশনের দৃশ্য নয়। নিজের জমিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে  যে জমিতে সোনালি ফসল ফলিয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচ নং ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি অবিনাশ চন্দ্র রায় রবি। সেই জমিতে কাজ করার ছবির দৃশ্য এটি।

তিনি এখন  কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি অন্যের জমিতে ধান কেটে দেওয়ার সময় বা লোক দেখানো ফটোসেশানে অংশগ্রহণের সময় নেই তার। তার কারণ নিজের জমিতে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া পর মাড়াই করার এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি । 
গতকাল নিজ গ্রাম ফকিরগঞ্জ এলাকায়  সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ধানক্ষেতে ধান কাটার পর তিনি ধান ঘাড়ে নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটছেন তিনি । দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে রবি তৃতীয়। বাবা লক্ষ¥ী কান্ত রায় ছিলেন একজন কৃষক। সেই রবি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ১৯৯৩ সালে রংপুর সরকারি কলেজে পড়ার সময় ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন রবি। ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। সেই সময় জাসদ  ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তিনি। রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর টাকার অভাবের আর লেখাপড়া করা হয়নি। তাই অভাবের সংসারে বাবার সাথে কৃষিকাজে জড়িয়ে পড়েন রবি। তারপর ব্র্যাকে ছোট পদে চাকরি নিয়ে চলে যান সিরাজগঞ্জে। কয়েক বছর চাকরি করার পর সেই  চাকরিটাও  চলে যায়। তাই চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে। আবারও শুরু করেন বাবার সাথে কৃষিকাজ। কিছুদিন পর বাবা মৃত্যুবরণ করায়। তাই সংসারের সব দায়িত্ব পরে তার উপর। তাই বাবার রেখে যাওয়া প্রায় পঞ্চাশ শতকের জমির রেখে যাওয়ার জমিতে কৃষিকাজ করেন তিনি। কৃষি কাজের পাশাপাশি একটি ওষুধের দোকান রয়েছে তার। সারাদিন কৃষিকাজ করার পর সন্ধ্যায় দোকানে বসেন তিনি। টাকার অভাবে সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলতে পারছেন না। তাই বিক্রিও কম। এখন সে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ছাত্রাবস্থায় রাজনীতি তার হৃদয়ে মিশে থাকায় আবারও জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। আবারও হয়ে যান যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি। রংপুর  জেলা ও মহানগর যুবলীগের সব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি। মানবেতর জীবনযাপন করলেও তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে সরে যাননি। অবিনাশ চন্দ্র রায় রবি বলেন আমি বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শের সৈনিক। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে আজীবন শত অভাবের মাঝে কৃষিকাজ করেও রাজনীতি করে যেতে চান।

এ জাতীয় আরো খবর

ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্ব কমাবে লেবুখালী সেতু

ঢাকা-কুয়াকাটার দূরত্ব কমাবে লেবুখালী সেতু

আলো ছড়াচ্ছে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার

আলো ছড়াচ্ছে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার

মধুর বাঁশির সুর যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকেও হার মানায়

মধুর বাঁশির সুর যেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকেও হার মানায়

যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলন

যমুনা চরে বাদামের বাম্পার ফলন

আত্মরক্ষার তাগিদেই নারীদের ক্যারাটে শেখা উচিত : মৌসুমী মজুমদার

আত্মরক্ষার তাগিদেই নারীদের ক্যারাটে শেখা উচিত : মৌসুমী মজুমদার

হারিয়ে যেতে বসেছে রসালো ফল কালো জাম

হারিয়ে যেতে বসেছে রসালো ফল কালো জাম