ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ই-পেপার

জীবনের দোলা চলে : জীবন নিয়ে কিছু ভাবনা

শাহানা চৌধুরী

২০২১-০৬-০৫ ২০:১৭:৫০ /

মানুষের জীবন বিবর্তিত হয়, প্রতিনিয়তই হয়, নানাভাবে-নানা কারণে। বিবর্তনের জন্য যে পরিবর্তন সেটা কখনো কখনো আমরা প্রবলভাবে টের পাই আবার কখনো না। টের পেলেও অনেক সময় কিছু পরিবর্তন ঠেকাতে মন কিছুতেই সম্মতি দেয়না। পরিবর্তনজনিত ফলাফল সবসময় মানুষের পক্ষে ইতিবাচক হয়, তাও না! তারপরেও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যুক্তির পাশাপাশি চিরকালই মানুষকে পরিচালিত করেছে মন। নিজের অলক্ষ্যে কত যে টুকরো টুকরো পরিবর্তন ঘটে যায় মনে! টুকরোগুলোর সমষ্টি একসময় পরিণত হয়, প্রবল পরাক্রমশালী হয়, এরপর সিদ্ধান্ত নেয় বিবর্তনের।

মধ্যবেলায় এসে দেখি চিন্তায় আর কথায় অসামঞ্জস্যতার  ব্যাপক বিস্ফোরণ। জীবন যাপন করার সুগভীর বোধগুলি ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে হীন মানসিকতার চরম অবক্ষয়ে। কষ্টগুলো সুদ আসলে মিলে বাড়ছে প্রতিনিয়ত। চারদিকে নৈতিক শৃঙ্খলনের ছড়াছড়ি। নীরবতা বাড়ছে সময়ের এই বিচিত্র আচরণে। কে যেন সময়ের স্বাভাবিক অবস্থান হরণ করেছে হঠাৎ করে। দিনের শেষে দেখে যাই সময়ের অনিয়মের বাড়াবাড়ি। স্বপ্ন খুঁজি প্রাত্যহিক এই বৈরী সময়ের মাঝেও। জীবনের সুন্দর বোধগুলি খুঁজি প্রাত্যহিক নিরেট নিরবতায়। ভীষণ ক্লান্ত বিষন্নতার এই সময়ের ভিড় থেকে দূরে যেতে চায় মন। আশার আলোর রঙিন ব্যঞ্জনায়।

জীবন ও জীবনবোধ নিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশ উক্তিগুলোও অসাধারণ। তাঁর রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবির উক্তি “জীবন গিয়েছে চ’লে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার, তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার”! “ভেবে ভেবে ব্যথা পাব- মনে হবে পৃথিবীর পথে যদি থাকিতাম বেঁচে!” “আমরা যাই নি মরে আজও তবু কেবলই দৃশ্যের জন্ম হয়: মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোছনার প্রান্তরে, প্রস্তরযুগের সব ঘোড়া যেন এখনও ঘাসের লোভে চরে পৃথিবীর কিমাবার ডাইনামোর পরে।”

এ কথা সত্যি যে মানব জন্মের এক একটি তত্ত্ব সামনে আসছে আর সময়ের সাথে সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নোয়া হারাবি যে আশঙ্কার কথা বলছেন, মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে তার কিছু আমাদের কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন তিনি। তা এখনই দেখতে পাচ্ছে পৃথিবীর মানুষ। যেভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে; তাতে করে মানুষ দ্রুত নতুন নতুন বিপদের মুখোমুখি হবে।

দুই.

মানব জীবনে এমন অজস্র চাহিদা থাকতে পারে, থাকেও। যা না মেটালেও দিব্যি চলে যায়। জীবনধারণে কোনো অসুবিধা হয় না। আবার এমন কিছু চাহিদা আছে, যা না মেটালেই নয়। যেমন পেটের খাবার চাই, পরনের কাপড় চাই, মাথার উপরে একটা ছাদ চাই, অক্ষর জ্ঞানটা হওয়া চাই, যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান হওয়া চাই। আর হ্যাঁ, জন্মেছি যখন, তখন মরতেও যে হবে, তা কি আর আমরা জানি না। তবে কিনা বিনা চিকিৎসায় মরাটা যেহেতু কোনো স্বাধীন দেশের নাগরিককে মানায় না, তাই মরার আগে যৎসামান্য হলেও একটু চিকিৎসা চাই।

অনেকে জীবনবোধের কথা জিজ্ঞেস করেন। ওটা অনেক বড়ো ব্যাপার বলে মনে করি। আমি জ্ঞানী মানুষ নই, ইংরেজিতে যাকে কমনসেন্স বলে, আমার একমাত্র সম্বল সেই কাণ্ডজ্ঞান। আর হ্যাঁ, চোখ দুটো যখন আছে, তখন খোলা চোখে চারদিকে তাকিয়ে সব দেখি। দেখি আকাশ, দেখি গাছপালা, দেখি রাস্তাঘাট আর ঘরগৃহাস্থি। একটু আগে যাঁদের কথা বলেছি, দেখি তাঁদেরও। একে আমার জীবনবোধ বলতে পারেন, কিংবা জীবন জিজ্ঞাসাও। ক্লাইভ জেমস এর কথায় জীবনকে আমরা এভাবেও দেখতে পারি। তার মতে “বিখ্যাত না হয়ে জীবন কাটালেও সুন্দর জীবন কাটানো সম্ভব, কিন্তু জীবনের মত জীবন না কাটিয়ে বিখ্যাত হওয়া কখনও সুন্দর জীবন হতে পারে না।”

তিন.

মানুষের উৎপত্তি নিয়ে অনেক ভাবনা-চিন্তা হয়েছে। এখনো তা অব্যাহত আছে। অনেকে আলোড়ন সৃষ্টিকারী গবেষণা করেছেন। সৃষ্টজীব তার নিজের উৎপত্তি, বিকাশ ও বিলুপ্তি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারে না। আদৌ কি বলা সম্ভব? তত্ত্ব উদ্ভাবক ও প্রবর্তকদের কাছে এমন প্রশ্ন খুব একটা করা হয় না। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট কম্পিউটার মানুষের অনেক কাজ করতে সক্ষম। কিন্তু রোবটটি কি নিজে থেকে তার উৎপত্তির ইতিহাস বলতে পারবে? কিংবা বলতে পারবে কি তার স্রষ্টা মানুষের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু? এমন চিন্তার সূচনা করা রোবটের পক্ষে আদৌ সম্ভব কি? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি, ‘না’ হয়, তাহলে সৃষ্টজীব মানুষ নিজের স্রষ্টা নিয়ে কতটুকু ভাবতে সক্ষম? নিজের উৎপত্তি, বিকাশ ও পরিণতি নিয়ে গবেষণা করে কতটুকু অগ্রসর হতে পারবে? জেরুসালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউভাল নোয়া হারাবি মানব সূচনা ও ভবিষ্যৎ বিলুপ্তি নিয়ে দু’টি বই লিখেছেন। ওই দু’টি বই পড়ে বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা কলাম লেখক পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছেন।
‘হোমো ডিউস : অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব টুমোরো’ শিরোনামের বইটিতে সুপার হিউম্যানদের উদ্ভবের সম্ভাবনার কথা বলেছেন হারাবি। এ সুপার হিউম্যানের হাতে সাধারণ মানুষের (হোমো সেপিয়ান্সের) বিলুপ্তির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন তিনি। জিন কোড বদলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে এমন অতি উন্নত মানবজাতির উদ্ভব হবে বলে তার ধারণা। অন্য একটি বই ‘সেপিয়েন্স : অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অব হিউম্যানকাইন্ড’-এ লিখেছেন, কিভাবে বর্তমান মানবজাতি পৃথিবীর কর্তৃত্ব নিয়েছে। তাদের বুদ্ধিমত্তা ও শক্তির কাছে কিভাবে অন্যান্য প্রধান প্রাণিপ্রজাতির বিলুপ্তি হয়েছে; সে কথা লিখেছেন তিনি।

মানুষের উৎপত্তি ও বিকাশ নিয়ে ডারউইনের বিবর্তনবাদ বহুল আলোচিত একটি তত্ত্ব। তার মতে, টিকে থাকতে পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে অভিযোজন ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতে বিচিত্র সব বিকাশ ও পরিবর্তনও হয়ে থাকে। মানুষকে বিবর্তনের মাধ্যমে হয়ে আসা একটি প্রাণী হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, এর শুরু পানি থেকে। প্রথমে এককোষী প্রাণ। তারপর তা বিবর্তনের মাধ্যমে ক্রমে বিকশিত ও উন্নত দেহাবয়ব পেয়েছে। ইউভাল নোয়ার মানবজাতি নিয়ে অতীতের বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা-শঙ্কার বাণী ডারউইনের বিবর্তনবাদের সাথে মিল আছে। ইউভালের সুবিধা হলো- ডারউইনের সামনে বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের চিত্র ছিল না, কিন্তু ইউভাল তা পেয়েছেন। অতি মানব সৃষ্টির যে সম্ভাবনার কথা নোয়া হারিরি বলেছেন, সেটি মূলত জেনিটিক সায়েন্স ও তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান বিকাশ সামনে রেখে। যে ঐতিহাসিক বিবর্তনের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা বিশ্বাসযোগ্য করতে পারেননি। তার কথাগুলো অনুমাননির্ভর। যদিও তিনি অনেক তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করেছেন।

বিবর্তনবাদ এক সময় অনেকের স্বীকৃতি পেলেও পরবর্তীকালে গুরুত্ব হারায়। কারণ, ডারউইন যে বিবর্তনের কথা বলেছেন, প্রকৃতিতে এমনটি কখনো বাস্তবে দেখা যায়নি। তিনি বলেছেন, বিভিন্ন প্রজাতির পর্ব পার হয়ে মানুষ অতি উন্নত প্রজাতির একটি প্রাণী হয়ে উঠেছে, তার এমন বক্তব্যের সমর্থনে বিগত দুইশো বছরে কোনো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন একটি বিকল্পও খুঁজে পাওয়া যায়নি; একটি নিম্নপ্রজাতির প্রাণী কয়েকশো বছরে বিবর্তিত হয়ে উন্নত প্রজাতির প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে কিংবা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে কোনো একটি প্রাণী অতিরিক্ত অঙ্গ সংযোজন করেছে। এমন অঙ্গসৌষ্ঠব বেড়ে কিছু প্রাণী আগের চেয়ে অধিকতর টেকসইভাবে পৃথিবীতে বসবাস করছে, তাও দেখা যাচ্ছে না। বরং বর্তমান সময়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি প্রাণীর রয়েছে আলাদা আলাদা নকশা। সেই নকশায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এটি প্রমাণিত সত্য। কোনো হাইপোথিসিস নয়, কেবল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর শারীরিক আকার-অবয়বে কিছুটা পরিবর্তন আনা সম্ভব। যেমন গাধা ও ঘোড়ার ক্রস ব্রিডিংয়ে খচ্চরের উদ্ভব সম্ভব। আবার কুমড়ো ও লাউয়ের ক্রস করে এ দুইয়ের কাছাকাছি অন্য একটি ফল সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি জেনেটিক সায়েন্স। এর মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা ও সীমা রয়েছে। মূলগত কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

মানব সৃষ্টি নিয়ে বিভিন্ন সময় যেসব গবেষণা হয়েছে; তা সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দাঁড় করাতে পারেনি। প্রতিটি চিন্তাই মানুষের নির্ধারিত সময়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল। কোনোকালেই নির্ভুল ভাবনা করতে পারেনি মানুষ। তবে স্রষ্টা যেসব কথা বলেছেন, তা নিশ্চিত করে বলেছেন। সেসব কথায় কোনো বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে না। সাড়ে চৌদ্দশো বছর আগে মানুষকে লক্ষ্য করে স্রষ্টা যা যা বলেছেন, প্রকৃতিতে ঠিক তেমনভাবেই তা বিরাজমান। এর কোনো ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।

আমরা নিজেদের যাপিত জীবন থেকে সব কিছুর চূড়ান্ত ভাবনা ভাবতেই পছন্দ করি। এ ভাবনাগুলোর অন্যতম প্রধান একটি ভাবনা হচ্ছে মানুষের উৎপত্তি। লক্ষ করলে দেখা যাবে, কেউ নিজেকে তার স্রষ্টা হিসেবে দাবি করেনি। একই ভাবে জন্মদাতা বাবা-মাও সন্তানের স্রষ্টা হিসেবে নিজেদের কর্তা দাবি করতে কখনো পারেনি। এভাবে কেউ নিজেকে প্রথম মানবের স্রষ্টা হিসেবেও দাবি করা অসম্ভব। একইভাবে আসমান ও জমিনের স্রষ্টা হওয়ার কথাও কেউ কোনো দিন দাবি করেনি। সবচেয়ে বড় বড় অস্তিত্ব যেমন- সূর্য, চাঁদ, পর্বতমালা, সাগর-মহাসাগর এগুলোর উদ্ভাবক স্রষ্টা হিসেবে কোনো মানুষ নিজেকে দাবি করে না। পৃথিবীতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ। দুনিয়ায় দৃশ্যত সবচেয়ে কর্তৃত্ববানও মানুষ। মানুষের ওপর কার্যত কারো নিয়ন্ত্রণ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু এই মানুষ এসবের উৎপত্তি নিয়ে নিশ্চিত করে কোনো কথা বলতে পারে না। অন্য দিকে আল্লাহ এসব কিছুর একক স্রষ্টা বলে নিশ্চিত করে তা মানুষকে জানিয়েছেন।

চার.

দেশ থেকে সুদূর এই অস্ট্রেলিয়ায় এসে আমার নতুন উপলব্ধি হয়েছে। এখনে আমার ডিপার্টমেন্টের হেডকে বাংলাদেশের কালচারে এখানকার শিক্ষার্থীরা দেখে না। বা তিনিও সে রকমেরও না। দেখি হাফপ্যান্ট পরে একটা গাড়ি ড্রাইভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে  আসেন। গুড ডে শাহানা, মাইকেলের সঙ্গে দেখা হলেই সম্ভাষণ জানান। অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট মিসেস নোরা কোনো কারণে অফিসে গেলেই বলে ওঠেন, হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ টুডে, হানি? ওরিয়েন্টেশন উইকে ইউনিভার্সিটির সামনে ফ্রি বিয়ার, ওয়াইন বিতরণ করা হয় নবাগত স্টুডেন্টদের মাঝে। বছরে খুব ঘটা করে একটা পার্টি হয়। নাম টোগা পার্টি। টোগা পার্টির ইতিহাস অন্যরকম হলেও পার্টিটা মূলত অপজিট জেন্ডারের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপের জন্য ব্যবহৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগ। হাফপ্যান্ট পরে স্কুল প্রধানের অফিসে আসা কিংবা হানি বলে সম্বোধন করাটা ইতস্তত করে না আমায়। এ রকম পরিবেশে থেকে আমি এখন অভ্যস্ত হয়েছি নাক উঁচু করে ধরা সেই ছবিটির বিষয়ে। আমি বুঝতে পারি, এটা একটা সাবলীলতা যা এদের কালচারের সঙ্গে মানানসই। প্রফেসরের সঙ্গে যখন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আড্ডা হয়, মাঝে মাঝে বলি আমি আমাদের কথা, বাংলাদেশে আমাদের শিক্ষকতার ধরন। বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা রাজনীতি করেন, আবার সেই সূত্রে দেশের রাষ্ট্রপতি হন। শুনে তিনি অবাক হন, বোধকরি মজাও পান। তবে, বুঝতে পারি এরা অন্যরকম জীবনযাপন করে আর খুব সন্তর্পণে ধর্ম আর রাজনীতিকে পাশ কাটিয়ে চলে। তাই এই বিষয়ে কথোপকথন বেশি দূর এগোয় না।
মাঝে মাঝে নির্জনতায় আবদ্ধ হয়ে নিজেকে একা করে জীবনের গভীরতম বোধকে আমি অনুভব করতে চেষ্টা করি। বিশাল আকাশের নিচে জোছনার অপূর্ব রূপ আমি দেখি কিংবা গভীর রাতের নিস্তব্ধতা, কিন্তু কেন যেন গভীরে তা আজ আমি অনুভব করতে পারি না। নিদ্রাহীন দীর্ঘ রজনী আমি অপেক্ষা করি, কোনো দিন কি পারব সেই বোধকে স্পর্শ করতে। অবোধ নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করি, যা ঘটছে তাই বাস্তবতা আর ভাগ্যে যা আছে তা হবেই।

লেখক : অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী কবি ও লেখক

এ জাতীয় আরো খবর

যানজট সমস্যা ও প্রতিকার : একটি পর্যালোচনা

যানজট সমস্যা ও প্রতিকার : একটি পর্যালোচনা

বাজেট ২০২১-২০২২ : জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়

বাজেট ২০২১-২০২২ : জীবন ও জীবিকার চমৎকার সমন্বয়

মানবহিতৈষী এক উপাচার্যের কথা

মানবহিতৈষী এক উপাচার্যের কথা

প্রজন্মের চেতনার বলয় বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু

প্রজন্মের চেতনার বলয় বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু

ভ্যাকসিন উৎপাদন ও প্রয়োগের নিশ্চিতকরণ জরুরি

ভ্যাকসিন উৎপাদন ও প্রয়োগের নিশ্চিতকরণ জরুরি

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস : শিশুবান্ধব নিরাপদ পৃথিবী চাই

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস : শিশুবান্ধব নিরাপদ পৃথিবী চাই