ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

বিএনপি পন্থি সাবেক কাউন্সিলর বালি সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদক'র মামলা

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম :

২০২১-০৬-১৪ ১৮:৩১:১৩ /

মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা নারীকে বাংলাদেশী জাতীয়তা সনদ ও জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিএনপি সমর্থিত সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন বালির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

আজ সোমবার (১৪ জুন) দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন বাদি হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় কাউন্সিলর কার্যালয়ের এক কর্মী, ওই রোহিঙ্গা নারী ও তার কথিত বাবা-মা এবং একজন দালালসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক'র মামলা সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একজন রোহিঙ্গা নারীকে বাংলাদেশি হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে ভুয়া জাতীয়তা ও জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণ হওয়ার পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একজন সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১’র উপ-পরিচালক লুৎফুল কবির চন্দন।

আজ দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নারী অহিদা ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীতে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে যান। কিন্তু সন্দেহজনক মনে হওয়ায় এ সময় তাকে আটক করা হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের সফটওয়্যারে তার ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলে গেলে সে নিজের আসল পরিচয় স্বীকার করে। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

পরে এই বিষয়ে দুদক অনুসন্ধানে নেমে তথ্য পায়, পাসপোর্টের আবেদনে অহিদা তার বাবা-মায়ের নাম মোহাম্মদ ইসমাইল ও মেহেরজান উল্লেখ করলেও তারা প্রকৃত বাবা-মা নন। ইসমাইল ও মেহেরজান নিজেরাই রোহিঙ্গা নাগরিক এবং সৌদিপ্রবাসী। অহিদা, ইসমাইল ও মেহেরজান- তিনজনই চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা ওয়ার্ড থেকে জাতীয়তা ও জন্মসনদ পেয়েছেন এবং কোতোয়ালি থানা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে আবেদন করে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) পাবার পাশাপাশি ভোটার তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের সবার জাতীয়তা ও জন্মসনদে কাউন্সিলর হিসেবে ইসমাইল হোসেন বালির সই আছে।

এছাড়া চাচা সেজে অহিদাকে পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যান আসামি সিরাজুল ইসলাম। দুদক অনুসন্ধানে জানতে পারে, সিরাজুল ইসলাম মূলত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি সাজিয়ে জাতীয়তা ও জন্মসনদ, এনআইডি ও পাসপোর্ট পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। অহিদা, মেহেরজান ও ইসমাইলকে এসব সনদ পাইয়ে দিতে ‘দালাল’ হিসেবে কাজ করেন সিরাজুল। এছাড়া অহিদার পাসপোর্টের আবেদনের ওপর প্রত্যয়ন ও সত্যায়ন করেন সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন বালি।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, অসৎ উদ্দেশে প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া পরিচয় ও নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্য জাতীয়তা সনদ ও জন্ম সনদ তৈরি করেন এবং পাসপোর্ট ও এনআইডি পাওয়ার পথ তৈরি করেন।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

তিন দিনের রিমান্ডে হেলেনা জাহাঙ্গীর

তিন দিনের রিমান্ডে হেলেনা জাহাঙ্গীর

আদালতে হেলেনা জাহাঙ্গীর

আদালতে হেলেনা জাহাঙ্গীর

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ২ মামলা

হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ২ মামলা

মিথ্যাচার-অপপ্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনাকে

মিথ্যাচার-অপপ্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হলো হেলেনাকে

আজ আদালতে তোলা হবে হেলেনাকে

আজ আদালতে তোলা হবে হেলেনাকে

অবশেষে র‍্যাবের হাতে আটক হেলেনা জাহাঙ্গীর

অবশেষে র‍্যাবের হাতে আটক হেলেনা জাহাঙ্গীর