ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

করোনা মোকাবেলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য : একবছরে আমূল পরিবর্তন সিএমএসডির

মো. ইব্রাহীম হোসেন :

২০২১-০৬-১৭ ১৫:৫৮:১৮ /

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। স্থবির বাংলাদেশও। তবে প্রায় একবছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংকটের শুরু থেকে মানুষকে বাঁচাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ এবং একের পর এক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধানমন্ত্রী দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। 

করোনা সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি। দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ওষুধ, মেডিকেল সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে থাকে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)। করোনা মহামারির এই সময়ে সরকারের এই প্রাতষ্ঠানের কাজের পরিধি আরো বেড়ে গেছে। গতবছর সরকারের এই প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়য়েম অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যাপক রদবদল হয়। 

গতবছরের ২২ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) আবু হেনা মোরশেদ জামানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিএমএসডির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। কোভিড-১৯ প্রতিরোধ ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সততা, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সাথে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়ের মাধ্যমে সিএমএসডির পরিচালককে নিয়মিত অনুশাসন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। কঠোর পরিশ্রম ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন সিএমএসডির পরিচালক। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের নির্দেশনা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কোভিড-১৯ বিষয়ক জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিএমএসডি অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় দিনরাত কাজ করছেন সিএমএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সারাদেশের সাপ্লাইচেইন ঠিক রাখতেই এমন হাড়ভাঙা পরিশ্রম। বর্তমান পরিচালকের দায়িত্বগ্রহণের পর সিএমএসডি পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করেন। অল্পদিনেই ঘটে আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘদিন ধরে সিএমএসডি’কে একটি ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান জিম্মি করে রেখেছিল। ভেঙে দেন সিএমএসডির কেনাকাটায় গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট। ফিরিয়ে আনেন কেনাকাটায় স্বচ্ছতা। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করে কেনা হয় পণ্য। টেকনিক্যাল কমিটির পর্যালোচনায় পরিচালিত হয় কেনাকাটা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য কমিয়ে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। ইতোমধ্যে একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ও সরকারি ক্রয়নীতির বাস্তবায়নে ১০ মাসে প্রায় ১৯০ কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।

নতুন পরিচালকের দায়িত্বগ্রহণের পর গতবছর জুন থেকে এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবিলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সাপ্লাইচেইন ঠিক রাখা হয়েছে। এমনকি এসব পণ্য ও সামগ্রীর মান নিয়ে দেশের কোথাও কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। পর্যাপ্ত আরটিপিসিআর টেস্টিং কিট মজুদ রয়েছে। প্রতিনিয়ত আরো মজুদের লক্ষ্যে সংগ্রহ করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় মজুদ রাখা হয়েছে অন্তত একবছরের করোনা মোকাবিলায় ব্যবহৃত মানসম্মত সামগ্রী। এছাড়াও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত অফিস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে বেশকিছু কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পিসিআর টেস্ট কিট : বর্তমান পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বচ্ছতার সাথে দফায় দফায় দর কষাকষির মাধ্যমে পূর্বের ক্রয়কৃত ২৭৮০ টাকা মূল্যের পিসিআর টেস্ট কিট ৮৮০ টাকায় নির্ধারণের ফলে বিপুল পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। কিট সরবরাহের ক্ষেত্রে একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙ্গে দেওয়ায় পূর্বের কথিত ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের স্থলে অনেক কোম্পানি এখন কিট সরবরাহ করছে। এ মুহূর্তে পিসিআর টেস্ট কিটের সাপ্লাইচেইনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি নাই। বর্তমানে পর্যাপ্ত কিট মজুদ আছে, আরো কিট সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

ভিটিএম ও সোয়াব স্টিক : বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর  সায়েন্টিফিক এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (বিসিএসআইআর) থেকে ভিটিএম এবং সোয়াব স্টিক সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে সরবরাহকারীদের নিকট থেকে টেস্ট কিটের সাথে ক্রয় করলে ভিটিএম ও সোয়াব স্টিকের দাম পড়ে প্রায় ৪০০ টাকা অথচ স্থানীয়  এ উৎস (বিসিএসআইআর) থেকে ক্রয় করলে মূল্য পড়ে মাত্র ১৬৬ টাকা। এতে একই সাথে সরকারের ব্যয় ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হচ্ছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রয়-কমিটি গঠন : ক্রয়সংক্রান্ত কমিটিসমূহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট-এর প্রতিনিধিগণের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, আইসিইউ কনসালট্যান্ট, প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্টগণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্রয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে PPA ২০০৬, PPR ২০০৮ সহ সংশ্লিষ্ট সকল বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্রয়ের বেলায় আর্থিক বিধিবিধান পালনের নিমিত্ত CCEA, CCGP সহ সকল যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাজারে একচেটিয়া আধিপত্যে হস্তক্ষেপ : প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুসরণে বর্তমানে উন্মুক্ত অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার কারণে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের মনোপলি (একচেটিয়া) অনেকাংশে দুর্বল করা সম্ভব হয়েছে; ফলে স্বাস্থ্যসামগ্রীর গুণগত মান বজায় রেখে ব্যাপক পরিমাণ মূল্য সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে এবং বিপুল সরকারি ব্যয় হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি ক্রয় নীতি সঠিক বাস্তবায়ন ও একচেটিয়া আধিপত্যের অবসানের কারণে গত দশমাসে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

ব্যয় সাশ্রয় : কয়েক দফা দর কষাকষির ফলে অধিকাংশ আইটেম দ্রুততার সাথে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ক্রয় করা সম্ভব হচ্ছে। বেশকিছু পণ্যের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পিপিই (পূর্ব মূল্য ১২৫০ থেকে ২৩৫০ টাকা, মে-২০২০), সর্বশেষ দর কষাকষিতে (মূল্য ৩৬০ টাকা, মে ২০২১)। কেএন-৯৫ (পূর্ব মূল্য ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, মে-২০২০) সর্বশেষ (মূল্য ১৫ টাকা)। হেন্ড সেনিটাইজার পূর্ব মূল্য (১৩৫ থেকে ১৫০ টাকা, মে-২০২০) সর্বশেষ দর কষাকষিতে মূল্য ৭৫ টাকা। হাই-ফ্লো নাসাল ক্যানুলা পূর্ব মূল্য ৮,৫০০০০ টাকা থেকে সর্বশেষ ২৬,০০০০ টাকা। অক্সিজেন সিলিন্ডার পূর্ব মূল্য ২৫,৫০০ টাকা থেকে সর্বশেষ ১৩,০০০ টাকা। সার্জিক্যাল মাস্ক পূর্ব মূল্য ৩০ টাকা থেকে সর্বশেষ ৩ টাকা ক্রয় করা হচ্ছে। এ সমস্ত দ্রব্যাদির মূল্য কার্যকর দর কষাকষির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো হ্রাস পেতে পারে।

কোভিড ১৯ মোকাবেলায় সরঞ্জাম সংগ্রহ ও বিতরণ : করোনা মহামারি মোকাবেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সামগ্রী ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো নাসাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, আইসিইউ বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্যাশন্ট মনিটর, পিপিই, এন ৯৫ মাস্ক সার্জিক্যাল মাস্ক সার্জিক্যাল গ্লাভস স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে সংগ্রহ হয় এবং কিছু সামগ্রী উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কর্তৃক অনুদান প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত দ্রব্যাদি স্বল্প সময়ের মধ্যেই জেলা উপজেলাসহ সংশ্লিষ্ট সকল জায়গায় প্রেরণ করা হয়।

অক্সিজেন সরবরাহ : বিশেষায়িত ও হাতেগোনা বড় কিছু হাসপাতালে অক্সিজেন জেনারেটর প্লান্টের সংস্থান থাকলেও অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবারহের ব্যবস্থা নাই। তাই কোভিড মোকাবেলায় অক্সিজেনের চাহিদা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং প্রতিবেশি দেশ ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দ্রুত ক্রয়ের অংশ হিসেবে সিএমএসডি কর্তৃক ইতোমধ্যে ইউরোপিয়ান উৎসের ৩টি অক্সিজেন জেনারেটর প্লান্টের (মিনিটে ৪০৫ লিটার) সরবরাহকারী বরাবর ক্রয়ের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (NOA) প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আরো ৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর প্লান্ট ডিপিএম পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক কেবিনেট কমিটির (সিসিইএ) সুপারিশ পাওয়ার অব্যাবহিত পরই বর্ণিত প্রক্রিয়ায় ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদারকরণ : সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএমএসডি) ১(খ) শ্রেণিভুক্ত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কচও)। নতুন পরিচালক যোগদানের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিষ্ঠানটির বিরাজমান ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অনেক অচল ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরা ইতোমধ্যে সচল করা হয়েছে এবং পুরো প্রতিষ্ঠানকে আরো বিস্তৃত পরিসরে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিজিটর কার্ডপ্রথা চালু করে অবাঞ্ছিত অসাধু ব্যক্তিবর্গের অবাধে গমনাগমনের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে।

উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ক্রয় কার্যক্রম : চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনার ৯০ টি প্যাকেজ উন্মুক্ত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সবকটি প্যাকেজের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে উক্ত প্যাকেজসমূহের ৮২টির দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং ৬০টির মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে। ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়ওা হয়েছে ১৭টির; তন্মধ্যে ২টি পণ্যের কার্যাদেশ (ঘঙঅ) প্রদান করা হয়েছে। সম্ভাব্য কারিগরি বিচ্যুতি ব্যতীত সমগ্র কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ঈগঝউ কর্তৃক প্রণীত রোডম্যাপ অনুযায়ী যথাসময়ে সম্পন্ন করার সকল চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রত্যাশা করা যাচ্ছে- জুন ’২১ এর মধ্যে ৯০-৯৫% ক্রয়কার্য সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ক্রয়কৃত পুরনো মালামাল বিতরণ : পূর্বে ক্রয়কৃত কয়েক বছরের পুরানো মালামাল তালিকা করে সেগুলো বিতরণ বা বিতরণের জন্য বরাদ্দ তালিকা পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট লাইন ডিরেক্টরদের তাগিদ প্রদান করা হয়েছে। প্রথমবারের মত অধিযাচনের সাথেই ক্রয়োত্তর বিতরণ তালিকা সংযুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া সিএমএসডির কাজে গতি আনতে ২০০ মোটর সাইকেল, সাধারণ এ্যাম্বুলেন্স, কার্ডিয়াক এ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে মেশিন ইত্যাদি যন্ত্রপাতি বিতরণ করে স্টোরের সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ চালুকরণ : জনসম্পৃক্ততা, তথ্য উদারীকরণ ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য সিএমএসডির একটি নিজস্ব ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা সামাজিক মাধ্যমে একাউন্ট না থাকায় তথ্যপ্রাপ্তি সহজ ছিলনা। তাই ফেসবুক ছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.cmsd.gov.bd) খুলে একে জাতীয় তথ্য বাতায়ন (National webportal) এর সাথে সংযুক্তকরণসহ তথ্যের উন্মুক্তকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ক্রয়সংক্রান্ত ছাড়াও যাবতীয় তথ্য এর মাধ্যমে সহজলভ্য করা হয়েছে।

নতুন ভবন ও মুজিব কর্নার উদ্বোধন: কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের নবনির্মিত ৫তলা ভবন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উদ্বোধন করেন। মুজিববর্ষ উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সিএমএসডির পরিচালকের প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনায় নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে। এতে বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধন : এখন ফুলে ফুলে শোভিত হয়েছে সিএমএসডি। পরিচালকের উদ্যোগে দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে যেমন বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, একই সাথে এ কার্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ভৌত পরিবেশ ফুল-বৃক্ষে নান্দনিক করা হয়েছে। 

স্থানীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরণ : সিএমএসডি’তে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসন পরিচালনা, অফিস ব্যবস্থাপনা, স্টোর ব্যবস্থাপনা, ক্রয়কার্য সম্পাদন ও তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অধিকতর চৌকস করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ নিয়মিত বিরতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ‘সিএমএসডির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। 

সিএমএসডির গৌরব ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন প্রতিষ্ঠানকে ভালোবেসে আন্তরিকতার সাথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।’

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল : দুই দিনে দুই সাধারণ সম্পাদকের দুই রকম কথা

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল : দুই দিনে দুই সাধারণ সম্পাদকের দুই রকম কথা

সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল

সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও সহ)

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও সহ)

অবশেষে বহদ্দারহাটে ওজনে কারচুপির ঘটনায় থানায় জিডি গ্রহণ

অবশেষে বহদ্দারহাটে ওজনে কারচুপির ঘটনায় থানায় জিডি গ্রহণ