ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

মগবাজারে রহস্যেঘেরা বিস্ফোরণ : দুর্ঘটনা না নাশকতা

মো : ইব্রাহীম হোসেন

২০২১-০৬-২৮ ২৩:৪৯:২৬ /

ভবনের ভেতরে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে : আইজিপি
বিস্ফোরণের ঘটনা অ্যালার্মিং : ফায়ার সার্ভিস ডিজি
সাধারণ বিস্ফোরণে এত ক্ষয়ক্ষতি হয় না : বিস্ফোরক পরিদফতর
ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী : ফায়ার সার্ভিস
দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি সংসদে

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু হতাহতের ঘটনা এখনো রহস্যজনক। ঠিক কী কারণে এত বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল তা নিয়ে দিশেহারা অবস্থায় আছে স্বয়ং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের আইজিপিসহ বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে, ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ। এ ছাড়া দুই শতাধিক ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বিস্ফোরণে আউটার সার্কুলার রোডের ৭৯ নম্বর তিন তলাবিশিষ্ট মগবাজার প্লাজা ভবনটি প্রায় বিধ্বস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানকার আরও কয়েকটি বহুতল ভবন। ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনতলা ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর।

গতকাল সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত এই বিস্ফোরণ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হতে পারে। ভবনের ভেতরে এখনও মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বোম্ব এক্সপ্লোশন ইউনিট নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিস্ফোরণের কারণ তলিয়ে দেখা হবে বলেও জানান আইজিপি।

আইজিপি বলেন, এবছর যদি খেয়াল করেন, অনেকগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে মসজিদে, শনিরআখড়ায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি করেছে। তবে আমাদের ফায়ার এক্সপ্লোরেশন বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস মিলে পুলিশের পক্ষ থেকে একটা তদন্ত কমিটি করে তদন্ত করবো। আমরা এক সঙ্গে কাজ করবো। আমরা চাই এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে। 

এটা কোনো নাশকতা কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, বড় ধরনের একটা শকড ওয়েভ তৈরি হয়েছিল, এখন পর্যন্ত এই বিস্ফোরণ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হতে পারে। এখনও ভবনের ভেতরে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। একমুখী ধ্বংসযজ্ঞ, নাশকতা বা বিস্ফোরণ হলে চর্তুমুখী বিস্ফোরণ হতো। আমরা চারদিকে কাচের টুকরো দেখছি। ভেতরে গ্যাসের অস্তিত্ব ফায়ার সার্ভিস তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এখনও মনে হচ্ছে কোনো নাশকতা নয়। 

আরেক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, আমরা আগে তদন্ত করি বিস্ফোরণটা কেন হলো। তারপর দেখবো, পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা। আমাদের ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞরা দেখছেন। অনেক বিষয় আছে। সেসব দেখা হচ্ছে।

এদিকে, বিস্ফোরক পরিদফতরের এনার্জি অ্যান্ড মিনারেল রিসোর্সেস বিভাগের উপসচিব ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘শুধু গ্যাস লিকেজ কিংবা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের মতো সাধারণ বিস্ফোরণে এত এক্সপ্লোসন বা ক্ষয়ক্ষতি হয় না। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে এটা ডিফারেন্ট। এর পেছনে আরও কোনো কারণ থাকতে পারে। সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ গতকাল সোমবার দুপুরে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আজ আমরা বিস্ফোরক অধিদফতর থেকে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের তিন পরিদর্শক পরিদর্শন করে গেছেন। আজ আমরা গ্যাস ডিটেক্টরের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বিস্ফোরণের ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ঘটনাস্থলে হাইড্রোকার্বনের অস্তিত্ব পেয়েছি, যা ন্যাচারাল গ্যাস অর্থাৎ সরকারিভাবে পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও কানেকশন করা হয়। এতো বড় বিস্ফোরণের কারণ কী, সেটা নিয়ে আমরাও দুশ্চিন্তায় আছি।’

‘বিস্ফোরক পরিদফতর থেকে আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিস্ফোরক পরিদফতরের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের গ্যাস জমে এ বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করছে পরিদফতর। অনেকে অনেক ধরনের ধারণা ও মত পোষণ করছেন। আমরা অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে সুস্পষ্ট কারণ বলতে পারব।’

লিকেজ বলতে কী অনুমান করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরক এককভাবে এমনি এমনি হয় না। আশপাশে যদি আগুন থাকে, সিগারেট বা কোনো স্পার্ক থেকে হতে পারে। ইলেকট্রিক্যাল এক্সপ্লোরেশন হতে পারে, গ্যাসলাইনে লিকেজ বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের আরও তদন্ত করতে হবে।’

এদিকে, সঠিক নজরদারি ও যথাযথ ব্যবস্থা না গ্রহণ করলে মগবাজারে সংঘটিত বিস্ফোরণের মতো আরও অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান।


গতকাল সোমবার দুপুরে মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনাস্থলে পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সেফটি ম্যানেজমেন্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহাম্মেদ খান বলেন, আমাদের সেফটি সিকিউরিটি সিস্টেম উদ্বেগজনক। এই ঘটনা সবার জন্য অ্যালার্মিং। সঠিক নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা না থাকলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে। তিনি বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি ও বিস্ফোরণের বিষয়গুলো অবজার্ভ করেছি। ঘটনাস্থলে আমরা এখনো ৮/৯ শতাংশ মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছি। এখানে যদি বোম জাতীয় কিছু থাকতো, তাহলে আরও বেশি এক্সপ্লোশন হতে পারতো।

ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা অব্যবস্থাপনা বা অনিয়মের কারণে ঘটছে বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশেই উন্নয়নের কাজ চলছে। দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন হচ্ছে। এসব কাজে অনেক ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড বা নির্মাণ কাজে ফায়ার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। যে কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এই ঘটনার নানামুখী তদন্ত চলছে। আমরা মনে করছি, জমে থাকা গ্যাসে থেকে এক্সপ্লোশন ঘটেছে। যেটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস তদন্ত করছে। আশা করছি ঘটনার সঠিক কারণ উঠে আসবে এবং নিশ্চয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে অ্যালার্মিং হিসেবে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

রোববার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মুহা. শফিকুল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কথা বলে আমরা জেনেছি, এখানে যে শর্মা হাউস ছিল, মূলত সেখান থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে খুব সম্ভবত গ্যাস জমেছিল এবং এই গ্যাস বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের সাতটি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা সাতজন মারা গেছে বলে খবর পেয়েছি। তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নেই জানিয়ে বলেন, ‘যদি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকত, তাহলে ঘটনাস্থলে স্পিন্টার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকত এবং মানুষ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যেত। এটা গ্যাস চেম্বার থেকে বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর জানা যাবে। 

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এখানে  কোনো আশঙ্কাই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখার  চেষ্টা করছি। আমাদের অনেকগুলো টিম কাজ করছে। নাশকতার আশঙ্কা থেকে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও এখানে এসেছে। তারা তাদের এঙ্গেল  থেকে কাজ করছে।
রমনা থানার ডিউটি অফিসার এসআই আবুল খায়ের বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তিন তলা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কীভাবে এ বিস্ফোরণ তা জানতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে এই দুর্ঘটনা। ভবনের নিচতলায় ফাস্টফুডের দোকান ছিল। দ্বিতীয় তলায় একটা শোরুম ছিল। সেখানে ফ্রিজ ছিল। তিন তলায় ছিল একটি স্টুডিও। ভবনের সামনের সড়কে কাজ চলছে। সেখানেও গ্যাস ও ইলেকট্রনিক তার রয়েছে। 

কীভাবে এ বিস্ফোরণ তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। বিধ্বস্ত ভবনের বাইরে ও ভিতর থেকে একে একে মৃতদেহ বের করে নিয়ে আসে উদ্ধারকর্মীরা। গুরুতর আহত কেউ কেউ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতাল ও আদ্ব-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেবল ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগেই নেওয়া হয় ৩৯ জনকে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসময় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের লোক ঘটনাস্থলে যায়।  বৈদ্যুতিক সংযোগজনিত কারণে এ বিস্ফোরণ ঘটেনি বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার চালু করা হয়। 

দায়ীদের শাস্তি দাবি সংসদে : বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। এছাড়া যারা মারা গেছেন দায়ীদের পক্ষ থেকে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও বিএনপির একজন সংসদ সদস্য দাবি করেছেন। আলোচনার শুরুতেই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, মগবাজারের দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা গেছেন। অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। ঢাকা শহরে যে সব হোটেল বা রেস্টুরেন্ট আছে এগুলোতে যে গ্যাস স্টোভ ইউজ হয় সেই গ্যাসের স্টোভ বা সিলিন্ডারগুলো কখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনের মাধ্যমে ইন্সস্পেকশন করা হয় কিনা এ প্রশ্নটা সামনে আসছে। কারণ আমরা দেখেছি বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়িতে যে সব গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে সেগুলো ব্লাস্ট হওয়ার কারণে অনেক অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে এবং অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো এই যে ঘটনাটা গত রাতে ঘটলো এটা আসলেই যদি গ্যাসের কারণে হয় তাহলে কি কারণে? এখানে গ্যাসের যে এত বড় একটা স্টোর ছিল এটা কি কোনো সময় ইন্সস্পেকশন করা হয়েছিল? এমনকি সারাদেশে যে সব জায়গায় গ্যাসের সিলিন্ডার স্টোর করা হয় প্রয়োজনীয় ইন্সপেকশন হয় কিনা? এগুলো যেন ইন্সস্পেকশন করা হয়। কারণ কাল রাতে যে দুর্ঘটনা ঘটলো এর কারণটা, এর প্রতিকার এবং এত মানুষ মারা গেল এতে কি কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে? যেসব হোটেল রেস্টেুরেন্টের কারণে এ ঘটনা ঘটছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হবে কিনা? এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিতে মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাচ্ছি।

সেদিন যা ঘটেছে: রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। মুহূর্তেই আগুনের ঝলকানি আর মানুষের আর্তনাদে সৃষ্টি হয় এক ভয়ংকর পরিস্থিতির। ভবনের সামনের সড়কে কাতরাতে থাকে অসংখ্য মানুষ। পড়ে থাকে নিথর দেহ। তাদের প্রত্যেকের শরীর ছিল আগুনে পোড়া। বিধ্বস্ত মগবাজার প্লাজার ভাঙা দেয়ালের পাশে আটকে পড়া মানুষ ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে তখন চিৎকার করছিল। 
জানা গেছে, ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে রাশমনো হসপিটাল, বিশাল সেন্টার মার্কেট, উজ্জ্বল হোটেল, আগোরা ও আড়ংয়ের শো-রুম। বিস্ফোরণের ঘটনায় এসব স্থাপনারও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দে বিস্ফোরণে মগবাজার প্লাজার ভবনের দেয়াল, আড়ং বিল্ডিং ও দুটি বাস বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল কাচের টুকরো। চারদিকে হাজার হাজার লোকজন ভিড় করে। অনেক মানুষের আহাজারি। আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছিল। বিস্ফোরিত ওই ভবনের আশপাশের ভবনে অনেক লোক আটকা পড়ে। পথচারী ও গাড়িতে থাকা অনেকেই আহত হন। বিস্ফোরণের শব্দে সড়কে থাকা দুটি গাড়ির কাচ ভেঙে পড়ে রাস্তায়। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে কয়েক দিন ধরে ড্রেনের সংস্কার কাজ চলছে। তৎসংলগ্ন এলাকায় গ্যাস পাইপ লাইনের সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের পর ওই এলাকায় বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

এখনও হাসপাতালবিহীন উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’!

এখনও হাসপাতালবিহীন উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’!

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রামে চাঁদার টাকাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রামে চাঁদার টাকাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫

পরী-সাকলায়েনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

পরী-সাকলায়েনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত