ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

‘এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি’

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম :

২০২১-০৭-০৯ ১৯:৫৮:২১ /

করোনায় কারাবন্দিদের সাথে সাক্ষাত বন্ধ থাকায় কারাগারের উঁচু প্রাচীরের অপরপ্রান্ত থেকে সাক্ষাতের চেষ্টা স্বজনদের - ছবি : বাংলাদেশ বুলেটিন

 

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন জেলরোড এলাকা। এই সড়কের ফুটপাথে বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশু কিশোরদের ভিড়টা গতকাল ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে একটু বেশি। এদের সবার দৃষ্টি কারাগারের উঁচু সীমানা প্রাচীরের ওপারে চারতলা কারাগার ভবনগুলোর দিকে। সেখানে বন্দিদের কেউ এদেরই কারো সন্তান, স্বামী, ভাই, পিতা কিংবা স্বজন। সেই লোহার জানালার ছোট ছোট খোপ দিয়ে ভেতরে থাকা বন্দিকে একনজর দেখা আর দুটি কথা বলার আকুতি সবার মাঝে। মান্নাদের গাওয়া সেই গানের কলি, ‘তবুও তোমার আমি পাই ওগো সাড়া, দুটি পাখি দুটি কূলে গান যেন গায়। মাঝখানে নদী ঐ বয়ে চলে যায়, এই কূলে আমি আর ঐ কূলে তুমি।’ কারণ আজ অনেকদিন যাবৎ কারাগারে আটক বন্দিদের সাথে পরিবার, স্বজনদের সাক্ষাৎ পুরোপুরি বন্ধ। তাই এই করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়ে, লকডাউনের ফাঁকে এই বিকল্প পন্থায় একটু সাক্ষাতের আশায় এখানে এসেছে বলে জানিয়েছেন বন্দিদের পরিবার ও স্বজনরা।

জানা গেছে জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের দেখা-সাক্ষাৎ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঝে কারাগারে একবার সাক্ষাৎ করা চালু হলেও গত মার্চের পর থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। 

দীর্ঘদিন এসব বন্দিদের সাক্ষাৎ না পেয়ে অনেকেই প্রতিদিন নগরীর জেলরোডে জড়ো হয়। তবে শুক্রবারে লকডাউন পরিস্থিতি কিছুটা ঢিলেঢালা থাকার সুযোগে বন্দিদের স্বজনদের ভিড় অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানান, বেশির ভাগ বন্দির স্বজনরা কুশল বিনিময় করে। আর তাদের জামিন কবে হবে- এই সংক্রান্ত আলাপ করতে শোনা যায়। 

নগরীর কালামিয়া বাজার এলাকা থেকে কয়েকজন নারী ও পুরুষ ফুটপাথে দাঁড়িয়ে বন্দির সাথে আলাপ করছিলো। তারা জানালেন বিগত চারমাস যাবৎ বন্দির দেখা পাইনি। তাই আজ পরিবারের সদস্যরা এভাবে সাক্ষাৎ করতে এসেছে। একই ভাষ্য আনোয়ারা থেকে আসা মোশারফ হোসেনের। তিনি তার স্ত্রী আর ছেলের বৌকে নিয়ে এসেছেন ছেলেকে দেখতে। এসময় এক নারীর কোলে থাকা ছোট্ট শিশুকে দেখিয়ে বলেন, ‘এটা আমার নাতী। ছেলে জেলে থাকা অবস্থায় দুইমাস আগে শিশুটির জন্ম, তাই নাতীকে নিয়ে এসেছি ছেলেকে যদি দেখাতে পারি এই আশায়।’ এতো দূর থেকে এতো ছোট শিশুকে কি দেখাতে পাচ্ছেন, জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কী আর করা। নাই মামার চেয়ে কানা মামার ভালো।’

তবে বর্তমানে চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দিরা সপ্তাহে একবার মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান। 

তিনি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ‘জাতীয় পরামর্শক কমিটির পরামর্শে আমরা কারাগারের বন্দিদের সাথে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ রেখেছি। তবে এখন প্রতিসপ্তাহে একবার কারাগারের ফোন বুথ ব্যবহার করে বন্দিরা পরিবার কিংবা স্বজনদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। এই করোনা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আগে যেখানে ৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পেতো এখন সেটা ১০ মিনিট করা হয়েছে।

মুঠোফোনে সপ্তাহে ১০ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ থাকার পরেও কেন দাঁড়িয়ে এভাবে কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে বন্দির সাথে দেখা করতে এসেছেন জানতে চাইলে ফারজানা নামের এক তরুণী বলেন, চোখের দেখা আর শুধু কথা বলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। এই যে এতো দূরে দাঁড়িয়ে স্বামীকে এক নজর দেখলাম এটা যে কতো বড় শান্তি সেটা বন্দির স্বজনরা ছাড়া কেউ বুঝবে না। ভালো খারাপ যাই হোক মানুষটা যে আছে সেটা দেখতে পাওয়াটাই অনেক সুখ। এভাবেই সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত চলে বন্দি ও স্বজনদের দেখা ও বার্তালাপ। এই কূলে দাঁড়িয়ে ঐ কূলের দেখা পাওয়ার প্রতিক্ষা যেনো দ্রুত শেষ হয় এমনটাই প্রত্যাশা বন্দির পরিবার ও স্বজনদের।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

এখনও হাসপাতালবিহীন উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’!

এখনও হাসপাতালবিহীন উপজেলা ‘রাঙ্গাবালী’!

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলো নিউজিল্যান্ড

চট্টগ্রামে চাঁদার টাকাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫

চট্টগ্রামে চাঁদার টাকাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার ৫

পরী-সাকলায়েনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

পরী-সাকলায়েনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও)

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত