ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম

২০২১-০৭-১৩ ১৯:৩৪:২৫ /

বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবার চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকা অব্দি পৌছে গেছে। এবার তার সাবেক ২য় স্ত্রী ফাতিহা খানমের বর্তমান স্বামী সাজ্জাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়েছে৷ 

গত ৩ জুলাই সাজ্জাদ হোসেন তার নিজের জীবননাশ ও তার স্ত্রীকে তুলে নেওয়ার হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন যা উক্ত তারিখে ১৬১ নং হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

জিডিতে দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে ফাতিহা খানমের সাথে রাঙ্গুনিয়ার লালা নগর নিবাসী মৃত নুরুল আবছারের সন্তান ডাঃ ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হয়। ফয়সাল ইকবাল ও ফাতিহার সম্মতি ও উভয় পরিবারের উপস্থিতিতে এই তালাক কার্যকর হয় বলে জিডিতে উল্লেখ আছে৷ চলতি বছর ২৪ জুন রাজধানী ঢাকার উত্তর বাড্ডার একতা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের ছেলে সাজ্জাদ হোসেনের সাথে ফাতিহা খানমের পারিবারিকভাবে সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিয়ে হয়৷ বিয়ের পর সাজ্জাদ ও ফাতিহা সুখ-শান্তিতে বসবাস করছিলেন৷ কিন্তু গত ২৬ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সাজ্জাদ হোসেনের হোয়াটসঅ্যাপে ডাঃ ফয়সাল ইকবাল লাগাতার হুমকি ধমকি প্রদান করছে বলে জিডিতে উল্লেখ করেন৷ এসময় ডাঃ ফয়সাল ইকবাল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাজ্জাদ ও তার পরিবার একই সাথে ফাতিহা এবং তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ জানানো হয়৷ 

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাজ্জাদ ও ফাতিহা বিয়ের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে অবস্থান করেন৷ সেখান থেকে কয়েকদিন পর স্ত্রী নিয়ে সাজ্জাদ তার বাসায় ফিরলে সেখানে তারা ঘন্টা পাঁচেক থেকে ফাতিহার বাসায় চলে আসেন৷ 

সাজ্জাদ ও ফাতিহার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, মূলত সাজ্জাদের বাবা অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর কারণে সাজ্জাদ ফাতিহাসহ শ্বশুরবাড়িতে উঠেন৷ মূলত এরপর থেকেই ডাঃ ফয়সাল ইকবাল হোয়াটসঅ্যাপে সাজ্জাদকে কল দিয়ে হুমকি ধমকি দেওয়া শুরু করে৷ সূত্রটি আরো জানায়, ইতিমধ্যে সাজ্জাদ নিজের বাড়িতে ফিরলেও তার স্ত্রী ফাতিহা ফিরতে রাজি হননি৷ 

এই বিষয়ে সাজ্জাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার জীবননাশের আশঙ্কা থেকেই জিডি করেছি৷ তাকে হুমকি দেওয়া ব্যক্তিটি ডাঃ ইকবাল। কেন কি জন্যে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো জানতে চাইলে জিডিতে উল্লেখিত তথ্যের বাহিরে কিছু জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন৷ একপর্যায়ে বিষয়টি নিজেরা সুরাহা করেছেন জানালেও জিডিটি এখনো বহাল আছে। তবে সেটাও তিনি তুলে নিবেন বলে জানান৷ আগামীতে স্ত্রী ফাতিহার সাথে সংসার করবেন কিনা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, "আমি তো সংসার করার জন্যেই বিয়েটা করেছি।" তবে সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, সাজ্জাদের সাথে কোন রফাই হয়নি । রবং এখন তার সংসার ভাঙ্গার উপক্রম। সে প্রাণ ভয়ে সাংবাদিককে মিথ্যে বলেছে।

এই বিষয়ে জানতে ডাঃ ফয়সাল ইকবালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এর আগেও চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদককে হত্যার হুমকির ঘটনায় ডাঃ ফয়সালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি করা হয়। 

ডাঃ ফয়সাল ইকবালের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত চলছে : চট্টগ্রাম বিএমএ'র সাধারণ সম্পাদক ও নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ ফয়সালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ দুদক বলছে ডাঃ ফয়সাল ইকবালকে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে বিএমএ নেতা ফয়সল ইকবালের অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট ১২ দফা অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। এতে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ও বদলি অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ফয়সল ইকবাল বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। শুধু ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে চমেক হাসপাতালে প্রায় ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার তিনি একাই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। না‌মে বেনা‌মে তার নিয়ন্ত্রিত প্র‌তিষ্ঠানগু‌লো দি‌য়ে কো‌টি কো‌টি টাকা হা‌তি‌য়ে নি‌য়ে‌ছেন ডাঃ ফয়সাল। বিএমএ’র চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক হওয়ায় ফয়সল ইকবাল কাউকে পরোয়া করেন না। তিনি চমেক হাসপাতালের নিয়োগ-বদলি, ঠিকাদারি থেকে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চমেক হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার খাবার সরবরাহ, আউটসোর্সিং ব্যবসাসহ বিভিন্ন সরবরাহ কাজেরও নিয়ন্ত্রণ করেন ফয়সল ইকবাল। 

নামে-বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্যাডে তিনি প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নেন। জটিল ও কঠিন শর্ত সংযোজন করে আর কোনো ঠিকাদারকে তিনি টেন্ডারে অংশ নিতেও দেনন না। 

গত ২২ বছর ধরে চমেক হাসপাতালে দৃশ্য-অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। ফয়সলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি দামে খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। আউটসোর্সিংয়ের এক-তৃতীয়াংশ জনবল সরবরাহ করে ওই সিন্ডিকেট।

চট্টগ্রামে চিকিৎসাখাতে নৈরাজ্যের জন্য বরাবরই দায়ী করা হয় স্থানীয় রাজনীতিতে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন সমর্থিত ডা. ফয়সাল ইকবালকে। করোনাভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিৎসাক্ষেত্রে নৈরাজ্য তৈরির জন্য বরাবরই সামনে আসছিল বিতর্কিত চিকিৎসক নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীর নাম। একই অভিযোগ উঠে আসে পুলিশের এক গোপন প্রতিবেদনেও।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

নগরীতে বেপরোয়া ব্যাটারি চালিত রিকশা; হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

মুনিয়া হত্যায় নতুন মোড়; অভিযোগকারীই এখন অভিযুক্ত

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল : দুই দিনে দুই সাধারণ সম্পাদকের দুই রকম কথা

সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল : দুই দিনে দুই সাধারণ সম্পাদকের দুই রকম কথা

সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল

সাবেক ২য় স্ত্রীর বর্তমান স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দিলেন ডাঃ ফয়সাল

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও সহ)

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল (ভিডিও সহ)

অবশেষে বহদ্দারহাটে ওজনে কারচুপির ঘটনায় থানায় জিডি গ্রহণ

অবশেষে বহদ্দারহাটে ওজনে কারচুপির ঘটনায় থানায় জিডি গ্রহণ