ঢাকা, শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

বর্ণবাদবিরোধী অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা

ড. আ.ন.ম এহছানুল মালিকী

২০২১-০৭-১৭ ১৮:৩২:৩৭ /

১৮ জুলাই নেলসন ম্যান্ডেলার ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং প্রায় সাড়ে তিনশত বছর পর গণতান্ত্রিকভাবে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ প্রদেশের ট্রান্সকেইয়ের রাজধানী উমতাতার নিকটবর্তী মভেজো গ্রামে থেম্বু রাজবংশের ক্যাডেট শাখায় জন্মগ্রহণ করেন। তার আসল নাম রোলিলালা দালিভুংগা ম্যান্ডেলা, যার বাংলা অর্থ ‘গাছের ডাল ভাঙে যে’। এরপর স্কুলে পড়ার সময়ে তাঁর শিক্ষিকা মদিঙ্গানে তাঁর ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। তবে মাদিবা নামে দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। ম্যান্ডেলার পিতার নাম গাদলা হেনরি মপাকানইসা এবং মাতার নাম নোসেকেনি ফ্যানি। তার পিতার তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন নোসকেনি ফ্যানি। জীবনসার পর্যন্ত তিনি তিন স্ত্রী, ছয় সন্তান, বিশ নাতি-নাতনি ও অনেক প্রপৌত্রের জনক ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময়ই ১৯৪৩ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি) সাথে যুক্ত হয়ে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪৪ সালে গড়ে তুলেন যুবসংঘ। ১৯৪৮ সালে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনের সারিতে আসেন এবং সবার নিকট এই বর্ণবাদবিরোধী মুক্তি সংগ্রামেরই প্রতীক হয়ে ওঠেন। ১৯৬২ সাল  থেকে বোরেন দ্বীপে কারাবদ্ধ থাকার পর ১৯৯০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কারামুক্ত হন। ১৯৯১ সালেই এএনসির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৯৪ সালের ৯ মে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আফ্রিকার বহুদলীয় সরকারের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন। তার এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ১৯৯০ সালে ভারত সরকার তাকে ভারতরত্নে ভূষিত করে। ১৯৯৩ সালে অর্জন করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা জীবনের ৬৭ বছর রাজনীতির পেছনে ব্যয় করেছেন। ১৯৯৯ সালে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তর করে পৃথিবীর ইতিহাসে নজির বিহীন দৃষ্টান্ত রাখেন। ২০০৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সাহসী নেতা গঠন করেন নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন। পরবর্তীতে মনোনিবেশ করেন এইডস বিরোধী সংগ্রামে। গড়ে তোলেন ৪৬৬৬৪ নামের এই সংগঠন। জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সম্মানার্থে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে  ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস’ উদ্যাপনের ঘোষণা দেন। তবে এই দিনটি ছুটির দিন হিসেবে না রেখে তাঁর আদর্শে সামাজিক সেবামূলক কাজকর্মে দিনটি পালনে স্থির করা হয়। পরবর্তী বছর ২০১০ সালের ১৮ জুলাই তার জন্মদিনের দিন দিনটি পালিত হয় এবং প্রতিবছর দিনটি উদ্যাপিত হয়।

নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৭ সালের ২৫ মার্চ সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, স্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

যক্ষা ও ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসা গ্রহণ করে। অবশেষে জোহানেসবার্গের নিজ বাড়িতে ২০১৩ সালের ০৫ ডিসেম্বর রাত ৮.৫০ মিনিটে আজীবন সংগ্রামী ও শ্রদ্ধাভাজন মানুষটি ৯৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ১০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে  ১৫ ডিসেম্বর নিজ গ্রাম কুনুতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী তাদের অবিসংবাদিত নেতাকে চিরবিদায় জানায়। জন্মদিনে এ অবিসংবাদিত বিশ্বনেতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক : গবেষক 

এ জাতীয় আরো খবর

দুর্যোগকালে  নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা

দুর্যোগকালে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা

শতবর্ষেও বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় ভাস্বর

শতবর্ষেও বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় ভাস্বর

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন : একান্নে একান্ন যুক্ত হোক

সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন : একান্নে একান্ন যুক্ত হোক

আফগানিস্তান : জয়-পরাজয়ের সমীকরণ

আফগানিস্তান : জয়-পরাজয়ের সমীকরণ

 তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের প্ল্যাটফর্ম সজীব ওয়াজেদ জয়

তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের প্ল্যাটফর্ম সজীব ওয়াজেদ জয়

শুভ জন্মদিন তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়

শুভ জন্মদিন তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়