ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

শুভ জন্মদিন তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়

খায়রুল আলম

২০২১-০৭-২৬ ১৭:৫৫:৫৭ /

২৭ জুলাই, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নেপথ্য কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৫১তম জন্মদিন। সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্যপ্রযুক্তির বরপুত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা করেছেন, শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন উন্নয়নের রূপকার হিসেবে, আর জয় হলেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্পের কাণ্ডারি। 

বাংলাদেশ যখন প্রসব বেদনার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল, সে সময়ই জন্ম হয় একটি শিশুর। জন্মের বেশ আগেই তার জন্য নাম ঠিক করা ছিল। যে নামের অর্থ ‘বিজয়’। আর সেই বিজয় অর্জিত হয়েছিল তার জন্মের কয়েক মাস পরেই। জাতির পিতা নিজেই দিয়েছিলেন এই নাম। কাকতালীয় কিছু বিষয় রয়েছে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম আর জয়ের জন্মের মধ্যে। ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করল এবং বাংলাদেশের মানুষ যখন তীব্র প্রতিরোধ করল, জয় তখন মাতৃগর্ভে। একটি অনাগত শিশুর জন্য তৈরি হচ্ছিল একটি ইতিহাস যে শিশু একজন মহান ব্যক্তি আর তার উত্তরাধিকার। শেখ হাসিনার স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, ২৩ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধু তার ধানমণ্ডির বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকালে তার সন্তানসম্ভবা কন্যা হাসিনাকে বলেছিলেন ছেলে হলে যেন তার নাম ‘জয়’ রাখা হয়।

১৯৭১ এর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং পাকিস্তানে কারাবন্দি করে রাখে। মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে উত্তাল সময়ে যখন বঙ্গবন্ধু পাঞ্জাবের মিয়াঁওয়ালি কারাগারে অবরুদ্ধ, সেই সময় ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। তবে বঙ্গবন্ধুর ইচ্ছা পূরণ হয়েছিল। নবজাতকের নাম রাখা হয় ‘জয়’। খুব বেশি ফুটফুটে হওয়ায় তাকে তার মাতামহী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ‘সজীব’ নামেও ডাকতেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কম্পিউটার শিক্ষার হাতেখড়ির পাশাপাশি ডিজিটাল শব্দটিও তিনি ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই জেনেছেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই কম্পিউটার শিক্ষা, এটা যে আমি পেয়েছি, আর ডিজিটাল শব্দটা যে শিখেছি সেটি আর কারও কাছ থেকে নয়; আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকে’। পেশাদার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘জয় যখন স্কুলে পড়ত, কম্পিউটার নিয়ে আসত; তখন নাড়াচাড়া করে দেখতাম। সে আমাকে কীভাবে টাইপ করতে হয় একটা প্রোগ্রাম দিয়ে দিত। আমি বসে বসে টাইপ করা প্রথমে শিখলাম। এরপর আমরা অ্যাপল কিনলাম। সেখানে আমাদের অফিসের পার্টির কাজ করার সাথে সাথে নিজেরাও বসে বসে কম্পিউটার শিক্ষা নিতাম’। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তারই (জয়) পরামর্শে তখনকার অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াকে কম্পিউটারের ওপর থেকে কর তুলে নিতে বলেছিলাম। পরামর্শটা জয়ই আমাকে দিয়েছিল বলেন তিনি। 

সজীব ওয়াজেদ জয়ের মেধা ও দক্ষতায় আজ ইন্টারনেট সেবা দেশের গ্রামের মানুষের হাতের মুঠোয় এসে পৌঁছেছে। গ্রামের একজন কৃষক মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন কৃষি কাজের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারছেন। স্কুলের শিক্ষক আজ কম্পিউটারের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করে তুলেছেন। ছাত্রছাত্রীরা কম্পিউটারের মাধ্যমে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করছেন, পরীক্ষার রেজাল্ট দেখছেন, ইন্টারনেট ও মোবাইল ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিল পরিশোধ, টেন্ডার জমা, স্বাস্থ্যসেবা থেকে এমন কিছু নেই যা করতে পারছেন না। এমনকি আজ মোবাইল ব্যাংকিং, এটিএম ব্যাংকিং, ইন্টারনেটের মাধ্যমে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহের মতো কাজও জনপ্রিয় হয়েছে। কলসেন্টারের মাধ্যমে হাজার হাজার তরুণের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে উঠছে আইটি সিটি, আইটি পার্ক। কানেকটিভিটির মাধ্যমে দেশের পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলকে আলোকিত করে তোলা হচ্ছে। এর সবই সম্ভব হচ্ছে একজন আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত সৎ নিষ্ঠাবান সজীব ওয়াজেদ জয়ের কল্যাণে।

বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সব কাজই ছিল নীরবে-নিভৃতে। তিনি ছিলেন রাজনীতি থেকে দূরে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ তথা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নেই তিনি সদা ব্যস্ত থেকেছেন। পীরগঞ্জের এক রাজনৈতিক জনসভার মাধ্যমে নিজের নীরবতা ভাঙেন তিনি। জানান, বাংলাদেশকে ডিজিটাল দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা দ্রুত গতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। যে গতিতে উন্নয়ন ঘটছে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। ২০২১ সালের মধ্যে ‘মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের চতুর্থ স্তম্ভটি হল দ্রুত বর্ধমান আইসিটি শিল্প, যা মানুষকে আর্থিক, টেলিযোগাযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা প্রদান করছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের আদর্শিক প্রতিশ্রুতি আর আদম্য তৎপরতায় ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভই শক্তিশালী হচ্ছে। আর তাই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘আইসিটি ফর ডেভলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ অর্জন করেন।

জয় বাংলাদেশে নিয়ে এসেছেন সিলিকন ভ্যালির বীজমন্ত্র উচ্চ প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উদ্যোগ পুঁজি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের আইসিটি শিল্প তার নেতৃত্বে সমৃদ্ধতর হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ তারই মানস শিশু যার লক্ষ্য হল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করা। এবং গত এক দশকে বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত উন্নতিতে একটি বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে যার মধ্যে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা, জনসেবাতে ডিজিটাল প্রবেশাধিকার, মোবাইল ব্যাংকিং এবং তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য। জয় একজন বড় স্বপ্নদ্রষ্টা এবং কীভাবে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হয় তা ভালো করেই জানেন। তিনি একজন দূরদর্শী নেতা এবং প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। 

১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শেখ হাসিনার কারামুক্তির আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জয়ের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে। তিনি অসাধারণ উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগী দক্ষতার অধিকারী। তিনি তরুণ সমাজকে তাদের দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং প্রথাগত ছকের বাইরে গিয়ে সফলতা অর্জনের ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তাকে ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডারস’দের একজন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমরা যদি আমাদের তরুণ সমাজকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব কিংবা ফাইভ জি-এর চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করার মতো উপযুক্ত করতে চাই এবং আমাদের জনসংখ্যার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে জয়ের দেখানো ডিজিটাল বাংলাদেশের রোডম্যাপ ধরে এগুতে হবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত বিনির্মাণে তার সূদুরপ্রসারি পরিকল্পনার ওপরই নির্ভর করতে হবে।

মূলত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপই হচ্ছে আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ। ভিশন- ২০২১ এর অধীনে ঘোষিত সময়ের আগেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য তার সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ও তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাতির পিতা কর্তৃক চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় ভূ-উপগ্রহ স্থাপনের মধ্যদিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথনকশা রচিত হয়। অন্যদিকে এটা বলা বোধ হয় সঙ্গত যে, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রসেনানী হচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। সেই অর্থে সজীব ওয়াজেদ জয় হচ্ছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার’।  

আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর ধারণা দেন এবং এর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। মূলত বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে শক্তিশালী করতে এবং ই-গভর্নেন্স ও প্রযুক্তি শিক্ষা বাস্তবায়নের জন্য তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কাজ শুরু করেন। উন্নয়ন খাত এবং গভর্নেন্সে বাংলাদেশের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও তিনি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের উপর জোর দেন। তার লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আইটি আউটসোর্সিংয়ে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়া। 

পরবর্তীতে ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে দেশে যখন অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থেকে ‘মাইনাস টু’ ফরমুলা বাস্তবায়নের অচেষ্টায় লিপ্ত ঠিক তখন তিনি এ বিষয়টি বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। একইসাথে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন তিনি। তার এ সকল উদ্যোগ সফল হয় এবং তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার মা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

তাঁর চিন্তা ও স্বপ্ন প্রসূত বর্তমানে বিকাশ ও নগদ বা অন্যান্য অ্যাপে মুহূর্তে টাকা লেনদেন, ই-কৃষি তথ্য, ই-স্বাস্থ্য সেবা, ই-পাসপোর্ট, ই-টেন্ডারিং, ই-ডকুমেন্ট, ই-গর্ভনেন্স, ই-ফাইলিং, শিক্ষার্থীদের জন্য ই-ভর্তি কার্যক্রম প্রবর্তন প্রভৃতি নতুন নতুন সেবা জনগণের কাছে পৌঁছেছে। এই সেবা আদান প্রদানে যুক্ত রয়েছে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ উদ্যোক্তা। এতে আর্থিকভাবে মানুষ যেমনি সবদিক থেকে উপকৃত হচ্ছেন তেমনি  সময় কমছে বহুগুণে। পাশাপাশি উন্নতর প্রযুক্তির প্রয়োগ করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি বন্ধে আইন-শৃংখলা বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণে দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিতে সমক্ষ হচ্ছেন। একই সাথে দেশে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে এবং জনগণের জান মালের নিরাপত্তা বিধানে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে এই প্রযুক্তি। সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই উদ্ভাবনী ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের ফলে দেশের তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি নিজেও এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। তাই তিনি তরুণদের বোঝাতে শুরু করলেন যে রাজনীতি কোনো একক ব্যক্তি কিংবা দলের জন্য নয়, রাজনীতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্যই। 

কোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনিই প্রথম তরুণদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসেন এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন। আর তরুণরাও প্রথমবারের মতো দেশের শীর্ষ কোনো ব্যক্তির সাথে এভাবে আলোচনার সুযোগ পান। তরুণদের সাথে তার প্রথম কোনো আলোচনা সভা হয় যখন তিনি ‘সুচিন্তা’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেন। পলিসি থিংক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তরুণদের দেশ পরিচালনায় সম্পৃক্ত করতে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন যার মধ্যে আছে ‘লেটস টক’ এবং ‘পলিসি ক্যাফে’। ২০১৫ সালে তিনি ‘ইয়ুথ বাংলা’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির উদ্যোগ নেন।
সম্প্রতি ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটে একটি নতুন ওয়েবপেজ সংযোজন করা হয়েছে। ওয়েবপেজে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্ম থেকে তার শিক্ষা, কর্মজীবন সবকিছুই স্থান পেয়েছে। যা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রসর হচ্ছে, তারও বিস্তারিত জানা যাবে। এছাড়া সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) সজীব ওয়াজেদের এই ওয়েবপেজটি তৈরিতে সহযোগিতার পাশাপাশি ‘লেটস টক’ ও ‘পলিসি ক্যাফে’র মতো সফল প্রোগ্রামের আয়োজন করছে যার মাধ্যমে তারা তরুণ সমাজ এবং পলিসি মেকারদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দৌহিত্র হওয়ার সুবাদে পরিবার থেকেই পেয়েছেন রাজনৈতিক শিক্ষা। এর ফলে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছেন তিনি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে শামিল হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তথ্যপ্রযুক্তি।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ গত ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে আইটি ফ্রিল্যান্সিংয়ে তথা আউটসোসিংয়ে তৃতীয় স্থান দখল করতে সমর্থ হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপে বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে যার মধ্যে আছে মোবাইল ফোন গ্রাহক, ইন্টারনেট গ্রাহক, অনলাইনে বিভিন্ন সরকারি সেবা প্রাপ্তি, ফোর জি’র প্রবর্তন, মোবাইল ব্যাংকিং এবং প্রযুক্তিখাত থেকে রপ্তানি আয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতে ইতোমধ্যেই সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগ এসেছে বাংলাদেশে।

তার পরিকল্পনা অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি হাই- টেক পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। এই খাতে গবেষণার জন্য অনেককেই দেওয়া হচ্ছে বৃত্তি। বিভিন্ন সরকারি এবং জনসেবায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারি ওয়েবপোর্টাল ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ যা বিশ্বের মধ্যে সর্ববৃহৎ ওয়েব পোটাল হিসেবে স্বীকৃত। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে কয়েকশো মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। 

দেশের ৫ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের সুফল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বিপ্লব ঘটানোর কারণে বাংলাদেশকে এখন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে ধরা হচ্ছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং বিশ্বের অন্যমত প্রযুক্তিবিদ বিল গেটসও এর প্রশংসা করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়ের ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনীর।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগের ক্ষেত্রে মূলত ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন ‘রূপকল্প ২০২১’ যার মূল উপজীব্য ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা তার মেধাবী পুত্র, আন্তর্জাতিকমহলে সমাদৃত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়। তারুণ্যের মেধা ও শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর এক অনবদ্য ও প্রেরণাদায়ী কর্মসূচি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়। ‘রূপকল্প-২০২১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঘোষিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে এসেছে। 

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এসবই সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বগুণে। নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বশেষ বাজেট নিয়েও বিশ্ব মিডিয়ায় শেখ হাসিনা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের গৃহীত আইসিটি নীতিমালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ ও নির্দেশে সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ ও নির্দেশে বাস্তবায়নকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সম্মানজনক ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট’ পুরস্কার অর্জন করেন। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং কানেক্টিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হেভেনের স্কুল অব বিজনেসস যৌথভাবে তাকে এ পুরস্কার প্রদান করে। বাংলাদেশ থেকে প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে ২০০৭ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম কর্তৃক ‘গ্লোবাল ইয়ং লিডার’ হিসেবে নির্বাচিত হন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আলোর যে মশাল জ্বালিয়ে রেখে গিয়েছিলেন তার সুযোগ্য উত্তরসূরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং আওয়ামী লীগ নিষ্ঠার সঙ্গে তা বহন করে চলেছেন। প্রত্যাশা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মের এই শুভক্ষণে তিনি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ,আমাদের দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ভাবনাকে ছড়িয়ে দেবেন বাংলার আনাচে কানাচে, মাঠে ঘাটে, পথে প্রান্তরে। এর সুফল পবে দেশবাসী।  জয়তু সজীব ওয়াজেদ জয়।

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন

 

এ জাতীয় আরো খবর

মেয়ে পেটে ধরা অপরাধ!

মেয়ে পেটে ধরা অপরাধ!

সাক্ষরতার আলো জ্বলে উঠুক ঘরে ঘরে

সাক্ষরতার আলো জ্বলে উঠুক ঘরে ঘরে

দক্ষিণ ঢাকায় মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায় কার

দক্ষিণ ঢাকায় মেডিকেল বর্জ্য অব্যবস্থাপনার দায় কার

উন্নয়নে এনজিও কর্মীদের অবদান এবং করোনাকালে তাদের জীবন-জীবিকা

উন্নয়নে এনজিও কর্মীদের অবদান এবং করোনাকালে তাদের জীবন-জীবিকা

আফগানিস্তানে তালেবানি শাসন এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

আফগানিস্তানে তালেবানি শাসন এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

করোনায় বাড়ছে শিক্ষিত বেকার

করোনায় বাড়ছে শিক্ষিত বেকার