ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

পাঁচশো বছরের পুরনো তেঁতুল গাছ এখনও দাঁড়িয়ে

শফিকুল ইসলাম, গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):

২০২১-০৭-২৭ ১২:৪১:৪৬ /

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের পাঁচশো বছরের পুরানো একটি তেঁতুল গাছ এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। গোমস্তাপুর উপজেলা থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে নাচোল উপজেলার বরেন্দ্রভূমির শুড়লা গ্রামে অবস্থিত এ গাছটি স্থানীয়দের জন্য শুধু ঐতিহ্যের নিদর্শনই নয়; তাদের পরম যত্নে গাছে এখনও ফুল ফোটে, ফল ধরে; আশ্রয় পেতে বাসা বাঁধে পাখি।

স্থানীয়রা জানান, গাছটি ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ও সাঁওতাল বিদ্রোহের সাক্ষী। প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে অন্তত কয়েকশো বক বাসা বাঁধে এ গাছে। ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। ছানাগুলো বড় হয়ে এক সময় উড়ে চলে যায়। এভাবেই চলে এখানকার বকের জীবনচক্র। এ গ্রামের কেউ বক শিকার করে না। পুরো প্রজননকাল নিরাপদে কাটায় বকগুলো। প্রাচীন তেঁতুল গাছটি দেখতে প্রায়ই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসে শুড়লা গ্রামে। 

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে গাছে কয়েকটি বকের দেখা মেলে। তেঁতুল পাছটির পাশে জেলা প্রশাসনের টাঙ্গানো একটি সাইন বোর্ডে লেখা রয়েছে- বিশেষজ্ঞরা এ গাছের বয়স কমপক্ষে ৫০০ বছর বলে মত দিয়েছেন। গাছটি ভৌতিক, জৈবিক, সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অতিকায় প্রাচীন বৃক্ষ হিসেবে সংরক্ষিত উল্লেখ করে গাছ এবং পাখির বাসার কোনো ক্ষতি না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বোর্ডে। অন্যথায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কতাও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল হক জানান, ২০০৩ সালের দিকে উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তেঁতুল গাছটি পরীক্ষা করান চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৎকালীন জেলা প্রশাসক নূরুল হক। সে সময় বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে গাছটির বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি বলে নিশ্চিত করেন। তারপর থেকেই গাছটিকে প্রাচীনবৃক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে এর দেখভালের দায়িত্ব নেয় প্রশাসন এবং গাছটির কোনোরকম ক্ষতিসাধন করা না হয় সেজন্য জনসচেতনতায় গাছে একটি বোর্ড দেয়। 

তিনি বলেন, ‘প্রাচীন এ গাছ শুধু আমাদের এলাকার গর্বই নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্যও। শুড়লা গ্রামে ওই গাছের পাশে একটি বাড়িতে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে থাকেন ৫৫ বছর বয়সী কল্পনা প্রামাণিক। 

কল্পনা বলেন, প্রায় ৩৫ বছর আগে পাশের আহুড়া গ্রাম থেকে বিয়ে করে এ গ্রামে আসেন তিনি। তারপর থেকেই তেঁতুল গাছটির দেখভাল করে আসছেন; নিজের ঘর-বাড়ির মতই পরম মমতায় প্রতিদিন গাছতলা পরিষ্কার করেন তিনি। প্রায় পাঁচশো বছর সময় বয়ে গেলেও শুড়লা গ্রামের ৭০ বছরের কেষ্টধর বর্মণের স্মৃতিতে তেঁতুল গাছটি যেন ঠিক আগের মতই রয়েছে। 

তিনি বলেন, “বাপ-ঠাকুরদারাও গাছটি নিয়ে যেমন গল্প করতেন; গাছটি এখনও তেমনই আছে। ল্যাপাল ব্যাসরা (৭৬) নামের আরেকজন বলেন, “এই তেঁতুল গাছটি আমাদের গ্রামের গর্ব। দূরদূরান্ত থেকে লোকজন গাছটি দেখতে এখানে আসে। এই বৃক্ষের জন্য অনেক মানুষ এ গ্রামকে আজ চেনে। 

স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সেভ দ্য নেচারথর চাঁপাইনবাবগঞ্জের অন্যতম সমন্বয়ক ফয়সাল মাহমুদ বলেন, “একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় তা নয়, একটি গাছকে ঘিরে পাখিসহ নানা কীটপতঙ্গ বসবাস করে; বাস্তুসংস্থান তৈরি হয়। যা পরিবেশে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কারণে এ ধরনের সব প্রাচীন বৃক্ষ রক্ষা করা খুবই জরুরি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এ গাছ জেলার সংস্কৃতির অংশ এবং ঐতিহ্যের ধারক। এটি জেলাকে সমৃদ্ধ করেছে। পরিবেশের জন্য ও গাছটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিৎ প্রাচীন গাছগুলো রক্ষা করা।

বাবু/ রনি

এ জাতীয় আরো খবর

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে  পেশাজীবী নারীদের ভাবনা

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পেশাজীবী নারীদের ভাবনা

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সাগুতেও

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সাগুতেও