ঢাকা, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

শিরোনাম : বৃষ্টির মধ্যে মুখে কালো কাপড় বেঁধে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা টানা বৃষ্টিতে ঢাকার অলি-গলিতে জলাবদ্ধতা, ভোগান্তি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত ‘জাওয়াদ’, বৃষ্টি থাকতে পারে সারাদিন ড্রেসিংরুমের ক্রিকেট -‘ইতিহাস’ গড়লেন বাবর আজম! ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চল, ফের সংঘাতে প্রাণহানি চীনের দৌড়ে লাগাম টেনেছে করোনা, বাড়ছে যুদ্ধের ঝুঁকি প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, কুশপুত্তলিকা দাহ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ বৈদেশিক কর্মসংস্থানের রেকর্ড: নভেম্বরে বি‌দেশে ১ লা‌খের বে‌শি কর্মী রাজারবাগের পীরকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

মহান জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে তারুণ্যের প্রত্যাশা

বুলেটিন নিউজ ডেস্ক :

২০২১-০৮-১৪ ১৭:৪৪:৩০ /

কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন, ‘কে রোধে তাহার বজ্র কণ্ঠবাণী? গণসূর্যে মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতাখানি।’ পৃথিবীর ইতিহাসে খুবই কম এমন মহাপুরুষের আবির্ভাব ঘটে যাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সে দেশের মানুষের সৌভাগ্যের দ্বার উন্মোচন করে দেয়। তারা পরাধীন দেশবাসীর জীবনে মুক্তি এনে দেন, দুর্যোগের ঘনঘটা দূর করে তাদের হাতে স্বাধীনতার সূর্য পতাকা উপহার দেন। আমাদের দেশের এরূপ একজন সংগ্রামী পুরুষের কথা আমাদের চেতনায় মিশে আছে, মিশে আছে আমাদের রক্ত কণিকায়। তিনি হলেন বাঙালি জাতির আলোর দিশারি, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ঘিরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীদের মনোভাব তুলে ধরেছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন।

‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব’
শরিফুল ইসলাম নিলয়

ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে ৫৪ বছর জীবনে ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় ১৯৪৭ পরবর্তী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ছিল শোষিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। সেসকল বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, সাধারন জনগনের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। আর যেকারণে তাকে দীর্ঘসময় কারাগারে পার করতে হয়েছে, মিথ্যা যড়যন্ত্র মামলায় মৃত্যুকেও কর্ণপাত করেননি। যার কণ্ঠদীপ্ত আহ্বানেই অস্ত্রহীন মানুষও যুদ্ধে নেমেছে, দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিল এদেশের স্বাধীনতা। পৃথিবীর বুকে জন্ম নিয়েছিল একখণ্ড স্বাধীন ‘বাংলাদেশ’।

একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ও ৭ কোটি সর্বস্ব হারানো জনগণকে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশপ্রেম ও সৎ সাহস নিয়ে যখন ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়নের পথে তখনই একদল স্বাধীনতাবিরোধী-কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে স্বপরিবারে জীবন দিতে হয়েছে এই মহামানবকে। প্রশ্ন হল, আসলেই কি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু হয়েছিল??? বঙ্গবন্ধু হলো সেই নাম যা আমাদের অস্তিত্বকে স্মরণ করিয়ে বঙ্গবন্ধু হলো সেই অনুপ্রেরণা যা বিশ্বের সকল শোষিত-বঞ্চিত মানুষের স্বপ্নের পথপ্রদর্শক।  এমন চেতনাবোধের মৃত্যু কখনোই সম্ভব নয়। এরা যুগে যুগে আদর্শ হয়ে মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখাবে। বঙ্গবন্ধুকে হারাবার এই শোকাবহ দিনে বঙ্গবন্ধুকে প্রতিদিন স্মরণ করার একটা সিদ্ধান্ত যদি আমরা নিই, বাংলাদেশ তার রাজনীতি, অর্থনীতি, প্রতিদিনের জীবনযাপনে এমন এক নৈতিক ও প্রায়োগিক শক্তি খুঁজে পাবে যা দিয়ে ভবিষ্যৎ আমাদের হাতেই ধরা দেবে। লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সোনার বাংলা গড়তে হবে
মুনিরা শরীফ সুপ্তি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবুর রহমান একে অপরের পরিপূরক। যিনি  সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন বাংলার মানুষকে মুক্তি দিতে। সোনার বাংলা গড়তে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেন নি তিনি। তার  অসাধারণ নেতৃত্বের গুনেই স্বাধীন বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নাম শুনলেই আমাদের চোখে ভাসে  এক অকুতোভয়, নির্ভীক সৈনিকের নাম। যিনি সমগ্র বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণার কেন্দ্রস্থল। বাঙালি জাতির জন্য পথচলার সাহস জোগায় বঙ্গবন্ধুর বীরত্ব গাঁথা ইতিহাস। বাংলার মানুষের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাভোগ করেছেন জাতির পিতা। তার এই সংগ্রামী জীবন থেকে অনেক কিছুই ধারণ করার আছে আমাদের। বঙ্গবন্ধু যেমন আমাদের মুক্তির স্বাদ দিয়েছেন তেমনি সব সময় স্বপ্ন দেখতেন শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ার। তাই তার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করতে হবে আমাদের। এবারের  আগষ্ট মাসের প্রতিপাদ্য হোক- শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলা। লেখক : শিক্ষার্থী,  সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

মুজিব আর্দশ শুধু মুখে নয়, নিজ কর্মে হোক তার পরিচয়
আ. রাজ্জাক খান

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাঙালির মুক্তির সাথে যে নামটা সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পৃথিবীর বুকে যে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র আজ মানচিত্রে জ্বলজ্বল করে, সেই রাষ্ট্রের গঠনে সবথেকে বড় অবদান শেখ মুজিবুরের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  জন্মগ্রহণ করেন ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ অবিভক্ত ভারতবর্ষে বাংলা প্রদেশের গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।  যে দেশকে স্বাধীন করার জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন সেই দেশেরই একদল সেনা কর্মকর্তার হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডি রাষ্ট্রপতি ভবনে বঙ্গবন্ধু তার সম্পূর্ণ পরিবারসহ নিহত হন।
সমাজতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সকল ধরনের অত্যাচার ও স্বৈরাচার বিরোধী। তিনি আজীবন গরিব-দুঃখী ও মেহনতী মানুষের অধিকার আদায়েও ছিলেন সচেতন। মতাদর্শগতভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন; যা সম্মিলিতভাবে মুজিববাদ নামে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান সমাজে আমরা দেখতে পাই -কতিপয় স্বার্থান্বেশী ও মুখোশ পরিহিত কিছু লোক নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য মুজিব আর্দশকে বিকৃত করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মুজিব চেয়েছিলেনÑ একটি শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাই সমাজের বেশিরভাগ উচ্চবৃত্ত মানুষ কোন না কোনভাবে সমাজের নিম্নশ্রেণির মানুষদের শোষণ করেই যাচ্ছে। তাই যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়ে ছিলেন তা তখনি পূরণ হবে যখন মুজিব আর্দশকে শুধু মুখে নয়, প্রতিটা মানুষের কর্মে ধারণ করবে। লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

 

বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং খুনের ইন্ধনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই
সুমাইয়া আখতার তারিন

বাঙালি জাতির মুক্তির কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু জীবনের বেশির ভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন শুধু মাত্র দেশের জনসাধারণের স্বার্থে। তার এই আত্নত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আজকের এই সুজলা-সুফলা, স্বাধীন বাংলাদেশকে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় ১৫ আগস্ট শোক দিবস। ওইদিন হায়েনারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।  তবে ঘাতকদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত নিরলসভাবে ছুটে চলেছেন। তার হাত ধরে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

শোক দিবসে আমার প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং খুনের ইন্ধনদাতাদের  সর্বোচ্চ শাস্তি সেইসাথে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বুনো উল্লাস করা একাত্তরের পরাজিত প্রেতাত্মাদের এদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করা। লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

বিজয়ের প্রথমদিনে সেন্টমার্টিন যাত্রা করল বিশেষ প্যাকেজ গ্রীন লাইন

বিজয়ের প্রথমদিনে সেন্টমার্টিন যাত্রা করল বিশেষ প্যাকেজ গ্রীন লাইন

বুবু তুমি কেঁদো না

বুবু তুমি কেঁদো না

গাছের ফেরিওয়ালা প্রভাতের দল

গাছের ফেরিওয়ালা প্রভাতের দল

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ