ঢাকা, রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

কম্পিউটার অপারেটর থেকে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক!

বুলেটিন প্রতিবেদক:

২০২১-০৯-১৪ ১৭:০৩:২০ /

দৈনিক ১৩০ টাকা চুক্তিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চাকরি নেন নুরুল ইসলাম নামের এক যুবক। চুক্তিভিত্তিক এই বেতনে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন তিনি। এরপর চাকরি ছেড়ে দিয়ে একে একে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান চালু করে মাত্র ২০ বছরে ৪৬০ কোটি টাকার অধিক সম্পদের মালিক বনে যান বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম।

মাত্র ২০ বছরে কীভাবে নুরুল ইসলাম এতো সম্পদের মালিক হলেন? সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর উদঘাটিত হয়েছে সেই তথ্য।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নুরুল ইসলামের সম্পদের পাহাড় গড়ার তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের জাল নোট, ৩ লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের মুদ্রা, ৪ হাজার ৪০০ ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন নুরুল ইসলাম (৪১)। চাকরির সুবাদে বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে নুরুল ইসলামের। একপর্যায়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এরপর দালালি, পণ্য খালাস, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই কম্পিউটার অপারেটর।

র‌্যাব কমান্ডার বলেন, ১৩০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় ৪৬০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান তিনি। এই টাকা দিয়ে তিনি সাভারে একটি রিসোর্ট ও বন্দরে একটি জাহাজ কিনতে চেয়েছিলেন। এছাড়াও দালালিসহ অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের মাধ্যমে এরইমধ্যে ঢাকায় তার ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট রয়েছে। এছাড়া তার সাভার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে সর্বমোট ৩৭টি প্লট, বাগানবাড়ি ও বাড়ি রয়েছে। তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, তার সিন্ডিকেটের ১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে। এই সিন্ডিকেটটি পণ্য খালাস, পরিবহন সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ মালামাল খালাসে সক্রিয় ছিলো। এছাড়া কাঠ, শুঁটকি, আচার, মাছের আড়ালে ইয়াবাসহ অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতো। চক্রটি টেকনাফ বন্দর, ট্রাক স্ট্যান্ড, বন্দর লেবার ও জাহাজের আগমন-বহির্গমন নিয়ন্ত্রণ করতো।

খন্দকার আল মঈন বলেন, অবৈধ আয়ের উৎসকে ধামাচাপা দিতে তিনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন। এর মধ্যে এমএস আল নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, এমএস মিফতাউল এন্টারপ্রাইজ, এমএস আলকা এন্টারপ্রাইজ, আলকা রিয়েল স্টেট লিমিটেড এবং এমএস কানিজ এন্টারপ্রাইজ অন্যতম। তার নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ১৯টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

নুরুল ইসলামের সঙ্গে আর কারা জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, কম্পিউটার অপারেটর থাকাকালে বন্দরের বেশিরভাগ লোক তাকে চিনতেন এবং সবার সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক ছিলো। এই কারণে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজ করতে সুবিধা হতো। এক-দু'জন ব্যক্তি নয়, অনেকেই তার কাজে সহযোগিতা করেছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কারও নাম বলেননি, পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে নাম জানা যাবে।

বাবু/পলাশ

এ জাতীয় আরো খবর

ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় বেড়েছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা

ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় বেড়েছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা

প্রধানমন্ত্রীর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে

প্রধানমন্ত্রীর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে

১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

১ অক্টোবর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

ফাইজারের আরও ২৫ লাখ টিকা আসছে সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ফের টিকার ক্যাম্পেইন

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ফের টিকার ক্যাম্পেইন

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিমানবন্দরে পুরোদমে আরটি-পিসিআর টেস্ট

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিমানবন্দরে পুরোদমে আরটি-পিসিআর টেস্ট