ঢাকা, শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

নিজস্ব প্রতিবেদক :

২০২১-০৯-১৮ ২০:৩০:২৯ /

‘মা এই ছবিটা কার? মামুনি উনি হচ্ছেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উনি কি আমার নানা ভাই? আমার মেয়ে জুয়াইরা মজিদ নুসাইবা। ৪ বছর হয়ে আরো আট মাস। সারাক্ষণ কথার ঝুড়ি তার মুখে। নানা রকম প্রশ্ন করে আমাকে ব্যস্ত রাখাই যেনো ওর কাজ। সঙ্গত কারণেই বয়স্ক কাউকে দেখলেই মেয়েটি তার নানা ভাইর মতো মনে করে।

ওর বাংলা বই এর প্রথম পৃষ্ঠাতেই বঙ্গবন্ধুর ছবি। সব জায়গাতেই বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখে ওর চোখ আটকে যায়; আর আমাকে কথার জালে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। আমাকেও খুব ধৈর্যের সাথে ওর সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। একদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি একসাথে নিউজ ফিডে দেখে সেই চিৎকার, ‘মা মা দেখো বঙ্গবন্ধুর পাশে উনি কে?’  মেয়েটির উত্তরে বললাম, ‘উনি হচ্ছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে...।’ আচ্ছা মা তাহলে কি উনি আমার মা? কী বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। সম্পর্কগুলো এতো ভালো মেলাতে পারে যে ওর বোঝাপড়ার জায়গাটাতে হাত দিতে চাইছিলাম না। শুধু বললাম মায়ের মতোই। ওনার অনেক দ্বায়িত্ব ঠিক মায়ের মতো। আমি যখন তেমার কখন কী প্রয়োজন সেটা বুঝতে পারি ঠিক তেমনি উনিও আমাদের দেশের কখন কি লাগবে কীভাবে করতে হবে, সব তাকে খেয়াল রাখতে হয় মা। চুপচাপ সব কথা শুনে এখন তার বায়না প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে যাবে। কী করি? একদিনতো উপায়ান্তর না দেখে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর গিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে নিয়ে গেলাম কোনো কারণে ঐ দিন বন্ধ ছিল ঢুকতে পারিনি। কী আর করা... একটু ঘুরে ফিরে আসলাম বাসায়...। এরপর প্রায়ই লেকে যেতে হয় বঙ্গবন্ধুর কথা, প্রধানমন্ত্রীর কথা তাকে শুনাতে হয় পালা করে প্রায় প্রতিদিন। এই একই কথা মা কেনো আমাদের জাতির পিতাকে ওরা মেরে ফেলেছে, ওদেরকে আমি অনেক বকা দিবো, শাস্তি দিবো একা একাই এ কথায় আবেগ জড়ানো কন্ঠে বলে যায়; আর আমি অবাক হয়ে ভাবতে থাকি এতোটুকু একটি শিশু যে জানে না কোনো রাজনীতির মারপ্যাঁচ কোথা থেকে আসলো তার মনে এতো ভালোবাসা, এতো শ্রদ্ধাবোধ...। ওর বয়সের ওনেক শিশুর সাথেই কথা হয় অনেকেই চেনে না পর্যন্ত। আর আমার মেয়ের মাথায় হাজারো কথার ডালপালার ছড়াছড়ি।

কয়েকদিন ধরেই আমার মাথায় একটি কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। আমার মেয়ের এই শিশুসুলভ কথায় যে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টান, আমি খুঁজে পেয়েছি তা আমরা সচেতন নাগরিক হয়েও অনেক সময় পরে।  তাহলে এতোসব স্বার্থের ভিড়ে আমার মেয়ের বিশুদ্ধ কোমলপ্রাণের এই ভালোবাসা কি তবে নিভৃতেই রয়ে যাবে? আমি কোনো গণমাধ্যমে এই নিয়ে কোনো আলাপ কিংবা স্ট্যাটাস দেইনি। ভয়ে... যদি এর মধ্যে অন্য কোনো গল্প সাজিয়ে আমার মেয়ের ভালোবাসার অন্য মানে বের করে.... কিন্তু ইচ্ছে ছিলো খুব একদিন যদি সত্যি আমার মেয়ের এই ইচ্ছেটা আমি পূরণ করতে পারতাম! ভাবতে না ভাবতেই একদিন দেখলাম কোনো এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী একটি শিশুর সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোনে কথা বলেছেন। আমি যেন স্বপ্ন দেখলাম এটা কী করে সম্ভব। আমি ভাবলাম আর অমনি একটি শিশুর ইচ্ছে পূরণ। আমার চোখ জল জল করছে একটু আশার আলো খুঁজে পেলাম। হ্যাঁ তবে একদিন আমার মেয়েও দেখা পাবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। এটা ভাবতে না ভাবতেই কোরবানির ঈদের আগের দিন নুসাইবার বাবার মোবাইলে একটা কল আসে। কলটা ধরতেই শুনতে পাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠ। আমি জাস্ট বসা থেকে দাঁড়িয়ে যাই কী হচ্ছে বোঝার জন্য। পরে ওর বাবা আমাকে আশ্বস্ত করে যে এইটা শুভেচ্ছাবাণী সবার ফোনেই যায় রেকর্ড করা ভয়েস।

আমার মেয়ের সে কী চিৎকার। ও কথা বলবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে, ওকে কেন ফোনটা দেওয়া হোলো না কান্নায় বুক ভাসিয়ে দিলো আমার মেয়ে। ওকে অনেক করে বোঝানো হলো এটি একটি রেকর্ড করা কলমাত্র। খুব মন খারাপ আমার মেয়ের, ওকে কেন ফোন দিলো না।

আজ-কাল আমার মেয়ের মতো আমার মাথাতে একটি কথাই ঘুরপাক খায়। তবে কী দেখা পাবো না? আমার মেয়ের এই ছোট্ট হৃদয়ের ভালোবাসা দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য। যে ভালোবাসায় নেই কোনো চাওয়া নেই কোন মিথ্যে আবেগ। শুধু ওনাকে কাছ থেকে একটু দেখা আর তাঁর কাছে বলা যে এই প্রজন্ম এখনো নতুন করে নতুনভাবে দেশের নেতাকে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসতে শিখছে ভালোবাসতে জানে। আমারা আমাদের দেশ, দেশের মাটি আর শিকড়কে ভুলতে পারি না; পারি না তাদের বিসর্জনকে অস্বীকার করতে।

আমার আজকের লেখাটির একটাই উদ্যেশ্য তা হলো আমরা যারা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা দিচ্ছি তাতে যেনো আমাদের দেশের ইতিকথা এবং সেই সকল মহামানবদের কথা শেখাই যাদের জন্য আজকের আমরা।

আমি জানি না আমার অপরিপক্ক হাতের অগোছালো লেখাটি কোনদিন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখবেন কি-না? আমার মেয়ের নানা ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ভালোবাসার গল্প প্রধানমন্ত্রী খুব কাছ থেকে শুনতে পারবে কি-না? তবে আমি আশা রাখি!! আশাতো রাখতেই পারি তাই না, এই দেশের একজন নাগরিক হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে একটু দেখা আর দু’ফোটা চোখের জলের না বলা ভালোবাসা, শ্রদ্ধায় মোড়ানো গর্বিত বাঙালি হওয়ার যে আনন্দ একি কেবল বলে প্রকাশ করার মতো কোনো অনুভূতি?

বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

বুবু তুমি কেঁদো না

বুবু তুমি কেঁদো না

গাছের ফেরিওয়ালা প্রভাতের দল

গাছের ফেরিওয়ালা প্রভাতের দল

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

আশ্রয়হীন শিশুদের নিরাপদ আশ্রয় ‘ডিআইএসএস’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমার নানা ভাই...

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ

ত্রিশ বছরেও সংস্কার হয়নি সেতু বন্ধনের ব্রীজ

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে  পেশাজীবী নারীদের ভাবনা

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পেশাজীবী নারীদের ভাবনা