ঢাকা, শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ ই-পেপার

সুদিন ফিরছে পর্যটন শিল্পে

ফাতেমা তুজ জোহরা :

২০২০-১০-২৫ ২৩:৪০:০৯ /

মহামারী করোনার ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটক মুখর হয়ে উঠছে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলো। কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গত কয়েকদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। সেন্টমার্টিন রাঙামাটি, বান্দরবানসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গেস্ট হাউস, হোটেল, মোটেলে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। ফলে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে দেশের পর্যটন শিল্পে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটন শিল্পে করোনার আঘাতে গভীর সংকট দেখা দিলেও, তার ৮০ শতাংশ উত্তরণ এরই মধ্যে ঘটেছে। পর্যটন নগরী ও সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটকদের জন্য খুলেছে গত ১৭ আগস্ট। এর আগেই খুলেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দেশের অন্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত : করোনায় স্থবির বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে আবারও বাড়ছে পর্যটকদের আনাগোনা। সৈকতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় চোখে পরার মতো। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা করোনার অস্বস্তি থেকে মুক্তি পেতে কক্সবাজারে ছুটে আসা। 

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। কয়েকদিন আগেও হাতে গোনা পর্যটক এই পয়েন্ট দিয়ে সৈকতে ঢুকতেন। কিন্তু এখন এই পয়েন্ট দিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সব বয়সী মানুষের ভিড়। সৈকতের বালিয়াড়ি, নীল জলরাশি ও পানিতে গোসলে মাতছেন তারা।

করোনার কারণে দীর্ঘ ৫ মাস পর গত ১৭ আগস্ট সৈকতসহ কক্সবাজারের পর্যটক কেন্দ্রগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকে বাড়তে থাকে পর্যটকের আগমন। আর সাপ্তাহিক ছুটিতে উপচে পড়া ভিড় সাগর তীরে।

পর্যটক আগমনের উপর নির্ভরশীল সৈকতের ফটোগ্রাফার, জেড স্ক্রি চালক ও হকাররা। দীর্ঘদিন পর হলেও সৈকতে পর্যটক বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে তাদের মধ্যে। সৈকতে পর্যটকের চাপ বাড়ায় ৩টি পয়েন্টে টহল ও টাওয়ার বসিয়ে সমুদ্র স্নানে নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।

পর্যটন ব্যবসার উপর নির্ভর করে কক্সবাজার গড়ে উঠেছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, ৫ শতাধিক রেস্তোরা, সহস্রাধিক বার্মিজ দোকান ও পর্যটকবাহী জাহাজ। এর সাথে জড়িত রয়েছেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত : বিশ্বের অন্যতম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দিনে দিনে পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ছে। বাড়ছে এখানকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কুয়াকাটার সঙ্গে সারাদেশের সড়ক ও নদীপথের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে। বাড়ছে কুয়াকাটা পর্যটনের সক্ষমতা।

প্রাণঘাতি মহামারী করোনা আতংকের মধ্যেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যেও সৈকতে উম্মাদনায় মেতে উঠেছে হাজার হাজার পর্যটক। আবাসিক হোটেলগুলোর বেশির ভাগ রুমই বুকিং রয়েছে। আগত পর্যটকদের সমুদ্রে গোসল ছুটোছুটি ও উম্মাদনায় মেতে ওঠে কুয়াকাটা সৈকত এলাকা। 

এছাড়া কুয়াকাটার লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইনদের তাঁতপল্লী, আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ দর্শনীয় স্পটগুলোতে পর্যটকদের দেখা গেছে। 

এ বছর পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ে। গত ১ জুলাই পর্যটনমুখী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে।

সেন্টমার্টিন : দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ থেকে জাহাজ যোগে দ্বীপে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা। স্বচ্ছ জলরাশি, প্রবাল পাথরের সারি সারি আর দ্বীপের কেয়া বন সব মিলিয়ে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি।

প্রাণঘাতী করোনার কারণে গত মার্চ থেকে পর্যটকশুন্য হয়ে পরে দেশের এই দর্শনীয় স্থানটি। গত ১ জুলাই থেকে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খোলার সিদ্ধান্তের পর ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে পর্যটক। কত কয়েকদিন বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতশত পর্যটক ভিড় করে সেন্টমার্টিনে। গেস্ট হাউস, হোটেল, মোটেলে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়ছে আগের মতো। করোনয় স্থবির সেন্টমার্টিনতার স্বরুপ আবার ফিরে পাচ্ছে।

রাঙামাটি: প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে পর্যটক আসতে শুরু করেছেন রাঙামাটিতে। হ্রদ, পাহাড় ও ঝরনার অপূর্ব মিতালি প্রকৃতির রানী এ জায়গাটি। এসব মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছরই জেলায় বাড়ছে পর্যটকের আনাগোনা। ঝরনা ধারার মতোই অসীম সৌন্দর্য উপকরণে প্রকৃতি অপরূপ সাজে সাজিয়েছে রাঙামাটিকে। শুধু প্রাকৃতিক উপকরণই নয় ১৯৬০ সালে তৈরি হওয়া কাপ্তাই হ্রদও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রকৃতির এই রূপ দেখতে প্রতি বছর দেশি-বিদেশি মিলিয়ে কমপক্ষে ৫ লাখ দর্শনার্থী আসেন।

আঁকাবাঁকা পথ থেকে ঝুলন্ত সেতু। লোকালয় কিংবা বিস্তীর্ণ পাহাড়ি সবুজ। পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা অপার সৌন্দর্য সববয়সী মানুষকে কাছে টানে। তাই করোনা ভীতিকে উপেক্ষা করে লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। ব্যবসায়ীদের আশাবাদ, অচিরেই জমজমাট হবে পর্যটনকেন্দ্রটি।

বান্দরবান: পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে পর্যটক সমাগম। তবে বেশিরভাগ পর্যটক মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এতে স্থানীয়দের মাঝে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ। পাঁচ মাস পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বান্দরবানের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। গাঢ় সবুজে পাহাড়ের মিলন মেলা, রোদ-বৃষ্টি অথবা মেঘের খেলা মুগ্ধ করে পর্যটকদের। কেউ যাচ্ছেন নীলাচলে, কেউবা হিম শীতল ঝর্ণায় ভিজতে ছুটছেন শৈলপ্রপাতে। আবার কেউ কেউ ভিড় করছেন নীলগিরি, মেঘলা অথবা চিম্বুকে।

করোনা সংক্রমণ রোধে পর্যটকদের স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা থাকলেও, তা মানা হচ্ছে না। অনেকেই মাস্ক ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছেন, থাকছে না সামাজিক দূরত্ব। পর্যটকরা স্বাস্থ্যবিধি না মানায় স্থানীয়দের মাঝে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাবু/প্রিন্স

এ জাতীয় আরো খবর

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে  গৃহীত

বাংলাদেশের উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলেশন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত

পাকিস্তানের নৃশংসতা ক্ষমা করা যায় না : প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের নৃশংসতা ক্ষমা করা যায় না : প্রধানমন্ত্রী

বস্ত্রখাতে সেবা সপ্তাহ শুরু ৬ ডিসেম্বর

বস্ত্রখাতে সেবা সপ্তাহ শুরু ৬ ডিসেম্বর

করোনা উপসর্গের অজুহাতে অফিসে অনুপস্থিত থাকা যাবে না

করোনা উপসর্গের অজুহাতে অফিসে অনুপস্থিত থাকা যাবে না

ডাস্টবিন থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

ডাস্টবিন থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

২ প্রতিষ্ঠানের  বিরুদ্ধে মামলা : বিএসটিআই

২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা : বিএসটিআই