ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ ই-পেপার

সড়ক উন্নয়নে ‘পরামর্শক খরচ’ প্রস্তাব ৮ কোটি টাকা!

বুলেটিন প্রতিবেদক :

২০২০-১১-২০ ১৯:০১:৫২ /

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগর পাড়া থেকে বিলাইছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার সংযোগ সড়ক উন্নয়ন করা হবে। সড়কের এ উন্নয়নে পরামর্শ নেয়ার জন্য আট কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত ‘রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার রাইখালি ইউনিয়নের কারিগর পাড়া হতে রাঙ্গামাটি জেলার সহিত বিলাইছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার সংযোগ সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পটির প্রস্তাব করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

পরামর্শক সেবায় আট কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পিইসি সভা। পিইসি সভার বক্তব্য, ‘এলজিইডির নিজস্ব জনবলকে প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিয়ে কনসালট্যান্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন। তাই কনসালট্যান্সির পরিমাণ যেটুকু একান্ত প্রয়োজন সেটুকু রেখে কম গুরুত্বপূর্ণ কনসালট্যান্সি বাদ দিতে হবে। তাছাড়া পরামর্শকের ধরন, সংখ্যা, জনমাস, সম্মানির পরিমাণ ইত্যাদির বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন ও টার্মস অব রেফারেন্স ডিপিপিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।’

সূত্র বলছে, প্রকল্পটির খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ৪৪ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার উপজেলা/গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, ৯০২ মিটার সড়কে ব্রিজ নির্মাণ, ২২০ মিটার সড়কে কালভার্ট নির্মাণ, ২৫ কিলোমিটার সড়ক সুরক্ষা কাজ এবং ২১ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে।

এলজিইডি বলছে, পার্বত্যাঞ্চলের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। কাপ্তাই ও বিলাইছড়ি পর্যটনের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এর মধ্যে বিলাইছড়ি পানিবেষ্টিত। ফলে উপজেলাটির সঙ্গে রাঙ্গামাটি জেলার মূল ভূখণ্ডের সরাসরি কোনো সড়ক যোগাযোগ নেই। উপজেলাটির সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক ও জনপথ অধিদফতর হাইওয়েরও কোনো সংযোগ নেই। এ এলাকার জনগণকে জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য নৌপথে যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াত ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও টেকসই অবকাঠামোর অভাবে বিলাইছড়ির জনগণ শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। সড়কটি উন্নয়ন হলে বিলাইছড়ি উপজেলার সাথে সড়কপথে রাঙ্গামাটি জেলার মূল ভূখণ্ড এবং সওজ অধিদফতরের হাইওয়ের যোগাযোগে আমূল পরিবর্তন আসবে।

পিইসি সভার আরো যত সুপারিশ :

সূত্র বলছে, প্রকল্পের আওতায় উপজেলা/গ্রামীণ সড়কে ৯০২ মিটার ব্রিজের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ব্রিজ ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের। এগুলোর জন্য হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করা আবশ্যক হলেও এ ধরনের সমীক্ষা না করেই প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল সমীক্ষা করে এগুলো নির্মাণ করতে হবে। তাছাড়া সমীক্ষা সম্পন্ন হলে অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ ও মূল্য ডিপিপিতে উল্লেখ আবশ্যক। ৪৪ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার উপজেলা/গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রতি কিলোমিটার একক ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি টাকা, এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ বাবদ তিন কোটি ২০ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাহাড়ি সড়কের ক্ষেত্রে সড়কের বাঁকে বৃক্ষরোপণ নিরুৎসাহিত করা হয়। প্রকল্প এলাকা বৃক্ষশোভিত হওয়ায় বৃক্ষরোপণ অঙ্গটি বাদ যেতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত একটি জিপ, একটি পিকআপ, চারটি মোটরসাইকেল, তিনটি রোলার, তিনটি এক্সকেভেটর ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই জেলা/উপজেলার জন্য বিভিন্ন প্রকল্প থেকে যানবাহন ক্রয় করা হয়। তাই প্রকল্প এলাকাভুক্ত জেলা/উপজেলাগুলোতে যানবাহনের প্রাপ্যতা ও বিদ্যমান যানবাহনের চিত্র পিইসি সভায় উপস্থাপন করতে হবে এবং তার আলোকে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে যানবাহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রকল্পের আওতায় ২১ একর ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ১০ কোটি টাকা (প্রতি একর ৪৭ লাখ ৬২ হাজার) প্রস্তাব করা হয়েছে। কৃষি জমি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ যথাসম্ভব কমানো যেতে পারে। তাছাড়া ভূমির মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রত্যয়ন ডিপিপিতে সংযোজন করতে হবে।

১৩ জন জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে প্রকল্পে এবং আউটসোর্সিং বাবদ এক কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু জনবলের বিষয়ে অর্থ বিভাগের জনবল কমিটির কোনো সুপারিশ ডিপিপিতে সংযুক্ত করা হয়নি। জনবল কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জনবলের সংখ্যা ও ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ভ্রমণ ব্যয় ৩০ লাখ, টেস্টিং ফি ৬০ লাখ, অনুলিপি ব্যয় ৩০ লাখ, পেট্রল-তেল-লুব্রিকেন্ট ৫০ লাখ, কম্পিউটার সামগ্রী ৩০ লাখ, মুদ্রণ ও বাঁধাই ৫০ লাখ, সার্ভে ও পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য এক কোটি, সম্মানি ভাতার জন্য ১৫ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কাজের ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি সভায় উপস্থাপনসহ যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় মেরামত সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন খাতে এক কোটি ১০ লাখ টাকা এবং অন্য বিবিধ ব্যয় ৩০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব খাতের খরচ যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিভিন্ন আইটেমে কাজের পরিমাণ থোক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো সুনির্দিষ্ট পরিমাণে উল্লেখ করতে বলেছে পিইসি সভা।


বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ল

এক দশকে করদাতার সংখ্যা বেড়েছে ৩৫৭ শতাংশ

এক দশকে করদাতার সংখ্যা বেড়েছে ৩৫৭ শতাংশ

রবির শেয়ারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের ১০২৩ শতাংশ আবেদন

রবির শেয়ারে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের ১০২৩ শতাংশ আবেদন

বসুন্ধরায় ইসলামী ব্যাংকের সিআরএম বুথ উদ্বোধন

বসুন্ধরায় ইসলামী ব্যাংকের সিআরএম বুথ উদ্বোধন

আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ছে না

আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ছে না

সাত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

সাত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত