ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ ই-পেপার

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২০২০-১১-২০ ১৯:৪৪:৩৭ /

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি তথা জলবায়ু সংকট থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে বিশ্বনেতাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বর্তমান ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী এ শতাব্দীর শেষের দিকে তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে। সারাবিশ্বকে একত্রিত হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক কোনো পদক্ষেপ না নিলে পৃথিবী বেঁচে থাকার পক্ষে পুরোপুরি অনুপযুক্ত হয়ে পড়বে। কেবল বিশ্বব্যাপী সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই আমরা আসন্ন সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি এবং এ গ্রহকে বাঁচানোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় আগামীকাল নয়, আজ।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ইউএনএফসিসিসি রেস টু জিরো ডায়ালগের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলে ‘নেট-জিরো লক্ষ্য পূরণে রূপান্তরকালীন নেতৃত্ব’ শীর্ষক সমাপ্তি অধিবেশন রেকর্ডেড ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন ও মূল্যবান সম্পদ বাঁচাতে বিশ্ব নেতৃত্বকে অবশ্যই কার্বন নিঃসরণ কমাতে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা যদি আমাদের গ্রহ ও নিজেদের বাঁচাতে চাই, তবে সব সরকারকে যথাসাধ্য উচ্চাভিলাষ বাড়াতে হবে। নিচের একশটি দেশ মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন করে, যেখানে জি-২০ দেশগুলো মোট কার্বন নিঃসরণের তিন-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্বনেতৃত্বের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের প্রত্যাশা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এ দেশগুলোর নেতৃত্বের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ আশা করি। মা ধরিত্রীর সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি রক্ষায় ‘জলবায়ু সহসশীলতা দিবস’ নামে একটি আন্তর্জাতিক দিবসের নামকরণ করারও আহ্বান জানাই।

এ সংক্রান্ত আরও করণীয় তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আমরা প্রতিবছর প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আহ্বান জানাই। বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাই— রেয়াতি অর্থায়ন, ঋণ মওকুফ ও সবার প্রযুক্তিতে অ্যাকসেসের নিশ্চয়তা দেওয়ার।

প্রধানমন্ত্রী মত দেন, প্যারিস চুক্তির কঠোর বাস্তবায়নই এ ক্ষেত্রে একমাত্র উপায়। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ‘লোকসান ও ক্ষয়ক্ষতির’ বিষয়টি অবশ্যই মূলধারাভুক্ত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের উচিত বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠতে না দেওয়া। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা অবশ্য এরই মধ্যে প্রাক-শিল্প স্তরের ওপরে প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ বছর বাংলাদেশ দু’টি ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি বারবার বন্যার কবলে পড়েছে, যা ফসল ও আবাসস্থলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে মানুষের জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এসব বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই ঘটছে, যা প্রকৃতিতে পরিবর্তন আনছে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এক চূড়ান্ত বাস্তবতা, তবে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু অরক্ষিত দেশগুলোর জন্য এটি আরও প্রকট। সমুদ্রপৃষ্ঠের এমনকি আর আধা মিটার বৃদ্ধি অনেক জলবায়ু অরক্ষিত দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনা করে আমাদের জাতীয় সংসদ একটি ‘প্ল্যানেটারি ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে এবং বিশ্বকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। আমরা বিশ্ব-নেতৃত্বের বাকি অংশ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো ৪৮ সদস্যের জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরামের নেতৃত্বের জন্য নির্বাচিত হয়ে আমরা সম্মানিত হয়েছি। গত মাসে সিভিএফের পক্ষে আমি প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক নেতার প্রতি তাদের এনডিসিকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাত নাগাদ বাড়ানোর আহ্বান জানাতে ‘মিডনাইট সার্ভাইভাল ডেডলাইন ফর দ্য ক্লাইমেট’ চালু করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এ বছর আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে, যিনি অনেক আগেই আমাদের জনগণের জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের হুমকির বিষয়টি চিহ্নিত করে গেছেন। এসব হুমকি কাটিয়ে উঠতে এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। আমরাও তার জন্মশতবার্ষিকীর গুরুত্বপূর্ণ এই বছরে আমাদের অভিন্ন ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি নতুন পথরেখা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্পদ সংস্থানে সহায়তায় একটি জাতীয় ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করতে একটি কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাসস।


বাবু/ফাতেমা

এ জাতীয় আরো খবর

‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করবে বাংলাদেশ

‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ আয়োজন করবে বাংলাদেশ

সাংবাদিকের গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই

সাংবাদিকের গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই

মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের মানববন্ধন

মুক্তিযোদ্ধা যুব কমান্ডের মানববন্ধন

মাঠ প্রশাসনের কর্মীদের জন্য সুখবর

মাঠ প্রশাসনের কর্মীদের জন্য সুখবর

নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে ব্যয় বাড়ছে ৭৪১ কোটি টাকা

নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণে ব্যয় বাড়ছে ৭৪১ কোটি টাকা

বিজয়ের মাসে ট্যুরিজম বোর্ডের বিশেষ প্রচারণা

বিজয়ের মাসে ট্যুরিজম বোর্ডের বিশেষ প্রচারণা