ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১ ই-পেপার

আজ বরগুনা জেলা হানাদার মুক্ত দিবস

শাহ্ আলী,বরগুনা প্রতিনিধি

২০২০-১২-০৩ ২১:০১:৪৪ /

একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর। বরগুনার ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে বরগুনাবাসী হানাদার মুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষনের পর মুক্তিকামী সহস্রাধিক তরুণ বাঁশের লাঠি, গুটি কয়েক রাইফেল ও বন্দুক নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে। 

এরই মধ্যে পাকবাহিনী দুর্বল প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে পার্শ^বর্তী পটুয়াখালী জেলা দখল করে ফেলে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষয়-ক্ষতির ভয়ে বরগুনার মুক্তিযোদ্ধারা এলাকা ছেড়ে চলে যান। 

কেননা পাকবাহিনীর মোকাবেলা করার মতো তাদের কোনো অস্ত্র ছিল না। পাকবাহিনী বিনাবাধায় বরগুনা শহর দখল করে ফেলে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনার বিভিন্ন থানা ও তৎকালীন মহাকুমা সদরে পাকবাহিনী অবস্থান করে পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও নির্বিচারে গণহত্যা চালায়।

২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। সময়ের ব্যবধানে কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তিযোদ্ধারা শক্তি অর্জন করে মনোবল নিয়ে এলাকায় ফিরে আসেন। 

বরগুনা, বামনা, বদনীখালী ও আমতলীতে যুদ্ধের পরে পাকবাহিনীর সদস্যরা বরগুনা ট্রেজারি ও গণপূর্ত বিভাগের ডাকবাংলোয় অবস্থান নেয়। মুক্তিযুদ্ধে বরগুনা ছিল নবম সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অধীন। 

মুক্তিযোদ্ধা হেড কোয়ার্টারের নির্দেশ পেয়ে বুকাবুনিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ৭১ এর ২ ডিসেম্বর বরগুনা বেতাগী থানার বদনীখালী বাজারে আসেন। রাত তিনটার দিকে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সত্তার খানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা নৌকা যোগে বরগুনার খাকদোন নদীর পোটকাখালী স্থানে অবস্থান নেন। 

সংকেত পেয়ে ভোর রাতে তারা কিনারে উঠে আসেন। তারা দলে ছিলেন মাত্র ২১ জন। যাদের মধ্যে ১০ জন বরগুনার ও বাকী ১১ জন ঝালকাঠির। কারাগার, ওয়াবদা কলনী, জেলা স্কুল, সদর থানা, ওয়ারলেস ষ্টেশন, এসডিও’র বাসাসহ বরগুনা শহরকে কয়েকটি উপ-বিভাগে ভাগ করা হয়। 

মুক্তিযোদ্ধারা যে যার অস্ত্র নিয়ে অবস্থান অনুযায়ী শীতের সকালে ফজরের আজানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেন। আজান শুরুর সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে ফায়ার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে সাগরপাড়ি খেলাঘর গতকাল বৃহস্পতিবার র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। তাদের সাথে বরগুনা প্রেসক্লাব সাংবাদিকরা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।

বাবু/জেআর

এ জাতীয় আরো খবর

পর্যটনের সম্ভাবনাময় গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি

পর্যটনের সম্ভাবনাময় গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি

চিরিরবন্দরে বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলি চাষ সারা জাগিয়েছে

চিরিরবন্দরে বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলি চাষ সারা জাগিয়েছে

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে চরবাংলার মানুষ

প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে চরবাংলার মানুষ

গরুর বদলে স্ত্রী-সন্তানকে দিয়ে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক

গরুর বদলে স্ত্রী-সন্তানকে দিয়ে জমিতে মই দিচ্ছেন কৃষক

বারোমাসি আম চাষে কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুলের সাফল্য

বারোমাসি আম চাষে কৃষি উদ্যোক্তা সিরাজুলের সাফল্য

ভাগ্য ফেরেনি রাজার কাঠ মিস্ত্রির

ভাগ্য ফেরেনি রাজার কাঠ মিস্ত্রির