ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ ই-পেপার

আকস্মিক রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ

রাশিদুল রাশেদ

২০২১-০১-০৫ ১৪:৫০:৪২ /

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতীয় নেতা হিসেবে সমধিক পরিচিত, স্বাধীনতার সময় মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুইবারের সফল সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর অন্যতম সদস্য, বাংলার মুকুটহীন সম্রাট, বাংলার সিদ্ধার্থ, সততার প্রকৃষ্ট উদাহরণ, সৎ রাজনীতির যোগ্য বরপুত্র হিসেবে এই বাংলার ইতিহাসে খ্যাত ও নির্লোভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে পরম পরিচিত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। যিনি সৎ ও নির্লোভ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার আপামর জনগণের হৃদয়ে স্থান দখল করে নিয়েছেন। তিনি বাংলার রাজনীতিতে এক অনুকরণীয় মাইলফলকের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। 

একজন সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে কীভাবে তিনি সাধারণ মানুষকে তার রাজনৈতিক মননে ধারণ করতেন- তা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নির্মোহ দৃষ্টি দিরে দেখতে পাই। তার অন্যতম জ্বলন্ত উদাহরণ তিনি নিজেই। একজন অসৎ কপটচারী প্রেমিক হয়েও তাঁকে মনের গভীরে প্রোথিত করেছেন। কেননা সততার প্রকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করলে সততা নিজেই সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা তৈরি করে, যা খুব প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে।

কেউ বাধা দিলেও কোনো লাভ নেই, সততা নিজেই প্রাকৃতিকভাবে শ্রদ্ধা তৈরি করে ও শ্রদ্ধা জাগরিত করে। যেটা ইতোমধ্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। সততার পরিচয় কীভাবে হয়- তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তড়িৎ গতির প্রচারমাধ্যম, ছাপা প্রচার মাধ্যমসহ দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একজন সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

নামাজে জানাজাতে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ কিংবা সংসদ চত্বরে যে লোকসমাগম, তা যতটা আলাদা উদাহরণ, তার থেকে বড় উদাহরণ ১৮ কোটি মানুষের হৃদপি-কে নাড়িয়ে দেওয়া। তাঁর মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছেন সমস্ত স্তরের মানুষের হৃদপি-কে। কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ নয় শুধু, তাকে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় নামাজে জানাজা দেওয়ার সুযোগ হতো, তাহলে প্রত্যেক জেলাতেই কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহের নামাজে জানাজার মতো লোকসমাগম ঘটত এবং শ্রদ্ধা জানাতো বটে।

বাংলাদেশে এমন একজন নির্ভীক ও নির্লোভ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে আর কেউ তাঁর কাছাকাছি জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি। যে বা যারা তাঁকে হিংসা করে, তারাও তার সততা ও নির্লোভ ব্যক্তিত্বকে ভয় পেয়েছে। পাশাপাশি তাঁর আজকের এ জনপ্রিয়তার প্রতিহিংসার আগুনে পুড়ে লাল রঙের আভা তৈরি করছে তাদের ভেতরে। মানুষের যোগ্যতা, সততা আর মর্যাদা কৃত্রিম কোনো কিছুতে তৈরি হয় না। 

এগুলো প্রাকৃতিকভাবে কালেভদ্রে কিছু মানুষের সঙ্গে থাকে। অর্থ-বিত্ত একজনকে অতিমানব হিসেবে পরিচিত করায় না কখনো। তাই একজন বিত্তবান বৈষয়িক সাফল্য পেতে পারেন, কিন্তু সততার মর্যাদাপূর্ণ হতে দেখা যায় না। ক্ষমতাধর তার ক্ষমতার মাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ হতে চেষ্টা করলেও লাভ নেই, কেননা সততার পরিচয় যদি বা ক্ষমতা ব্যবহারে না থাকে কিংবা ক্ষমতা অর্জনে। যার হাতে ক্ষমতা আছে কিন্তু অপব্যবহার করেনি এবং যিনি ক্ষমতাকে অমর্যাদাকর করেনি অপব্যবহারের মাধ্যমে, তিনিই ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

রাজনীতির অর্থ দেশসেবা বা জনসেবা, সেটা পুরোপুরিভাবে তিনি ধারণ ও পোষণ করতেন। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি তিনি মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন এবং তা কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। এটা তার মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ। এজন্য তিনি নিজেই সমস্ত রাজনীতিবিদদের ইঙ্গিত করে বলেছিলেন- ‘রাজনীতি করলে দুর্নীতি ছাড়ুন, আর দুর্নীতি করলে রাজনীতি ছাড়ুন।’ 

এখন সময় এসেছে রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করার। সেক্ষেত্রে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আইকন হতে পারে রাষ্ট্রের কাছে, সমাজের কাছে ও ব্যক্তি মানুষের কাছে। বিশেষত দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের জন্য। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম- হিমালয়ের চেয়ে বেশি উঁচু এক রাজনৈতিক পর্বতের নাম।

এক কথায় তিনি ছিলেন রাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক আকস্মিক রাজনীতিবিদ। এই আকস্মিক রাজনীতিবিদ সাধারণ মানুষের অন্তরে ঢুকেছেন। সুতরাং নির্দিষ্ট কেউ বা কোনো সংস্থা বা দল তাকে শ্রদ্ধা করতে হবে, তেমন কোনো কথা নেই। বরং যারা করেনি, তারা সরাসরি প্রমাণ করেছেন যে, কৃতজ্ঞতাবোধ রাষ্ট্রের ক্ষমতার বলয় হতে বিলুপ্ত হয়েছে। সাধারণের মাঝে অতি অসাধারণ হয়ে গণমানুষের হৃদয়ে চির অম্লান হয়ে থাকবে একটি নাম- তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

লেখক : কবি, লেখক ও রাজনীতিবিদ

বাবু/জেআর

এ জাতীয় আরো খবর

আকস্মিক রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ

আকস্মিক রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফ

ঘুষ অসাধ্য সাধনের একটি মুখপাত্র

ঘুষ অসাধ্য সাধনের একটি মুখপাত্র

বাঙালি সত্তাই বাঙালি জাতির মূলমন্ত্র

বাঙালি সত্তাই বাঙালি জাতির মূলমন্ত্র

উন্নয়নের স্রোতধারায় বদলে যাওয়া এক নগরী

উন্নয়নের স্রোতধারায় বদলে যাওয়া এক নগরী

দূরবীনে দূরের জানালা

দূরবীনে দূরের জানালা

করোনারোধে ঢাকার ৪৯ এলাকা লকডাউন হচ্ছে

করোনারোধে ঢাকার ৪৯ এলাকা লকডাউন হচ্ছে