ঢাকা, রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১ ই-পেপার

পর্যটনের সম্ভাবনাময় গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি

মো:জাকির হোসেন, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

২০২১-০১-১২ ১৪:০১:২৩ /

পর্যটনের সম্ভাবনাময় একটি জমিদার বাড়ি হলো কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িটি। জমিদারের বংশধর শ্রী মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী এ বাড়িটিতে বসবাস করায় এটি এলাকায় মানব বাবুর বাড়ি হিসেবেই বেশ পরিচিত। যা দেখতে অসংখ্য দর্শনার্থী ছুটে আসেন। 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দীননাথ চক্রবর্তীর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন ব্রাহ্মণ গোত্রের জনৈক শাস্ত্রীয় পণ্ডিত। তাঁরা ১৬ শতকের দিক থেকে বর্তমান জমিদার বাড়ি থেকে দক্ষিণে শিব মন্দিরে বসতি শুরু করেন। ১৮ শতকের শেষ দিকে দীননাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে বর্তমান এ বাড়িটির যাত্রা শুরু হয়। 

তিনিই ইংরেজদের কাছ থেকে হোসেনশাহী পরগণার কিছু অংশ কিনে প্রথম জমিদারি শুরু করেন। পরবর্তীতে বাবু অতুল চক্রবর্তী ‘পত্তনি’ সূত্রে আঠারো বাড়ির জমিদার জ্ঞানদা সুন্দরী চৌধুরাণীর কাছ থেকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির অন্তর্ভুক্ত করেন। 

ইংরেজ শাসনামলে এই এলাকার মানুষ শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সাধনায় বিশেষ উন্নতি লাভ করেছিল। প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন এই জমিদার বাড়িটি অষ্টাদশ শতকের গ্রীক স্থাপত্য শৈলীর অপূর্ব নির্দশন অনুযায়ী নির্মিত। কারুকার্যময় বাড়িটিতে রয়েছে কাচারিঘর, নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির। 

যা ঘিরে রয়েছে চারদিকে সুউচ্চ প্রাচীর; বাড়ির সামনে রয়েছে সবুজে ঘেরা বিশাল বাগান ও পুকুর যা ৯.৮৫ একর নিয়ে জায়গায় অবস্থিত। এছাড়াও বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দুরে রয়েছে সুবিশাল জলরাশির নয়নাবিরাম মাছ চাষাবাদের ব্যবস্থা; যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 

সেখান গিয়ে কথা হয় শ্রী মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সাথে। তিনি জানান, বৃটিশ শাসনামলে তৎকালীন কলকাতার কাঞ্জপুঞ্জ থেকে রাজা আদিশূরের সময়ে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার দীননাথ চক্রবর্তীর পূর্বপৃরুষ ছিলেন ব্রাহ্মণ গোত্রের শ্রী ভূপতিনাথ চক্রবর্তী চৌধুরী। 

যিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় পণ্ডিত, তিনি পূজা পালনের জন্য পুরোহিত ব্রাহ্মণ হিসেবে ধর্মকর্ম করতে এখানে বসতি স্থাপন করেন। পরে বৃটিশদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকার বিনিময়ে জমিদারির কিছু অংশ কিনে নেন। বৃটিশরা তখন স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা চালু করেন। এরই অংশ হিসেবে জমিদারগণ খাজনা আদায় করে তা নিয়মিত পরিশোধ করে জমিদারি টিকিয়ে রাখতেন। 

তখন বৃটিশদের সূর্যাস্ত আইনের কারণে তিন বছরের বেশি সময়ের খাজনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে জমিদারি বিলুপ্ত হয়ে যেত। যে কারণে জমিদাররা বাধ্য হয়ে খাজনা আদায়ে প্রজাদেরকে অত্যাচার-নির্যাতন করে হলেও খাজনা আদায়ে বাধ্য হতেন। সে সময়ে জমি চাষের জন্য কোনো লোকবলও পাওয়া যেত না। ওই সময়ে গরু নিয়ে জমি দিয়ে লাঙল-জোয়াল নিয়ে হেঁটে গেলেও তাকে জমি চাষে বাধ্য করা হত। 

বৃটিশদের এ সকল অত্যাচারের কারণেই জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি হয়। কাজেই এখন আর কেহ জমিদার নাই। 

 

এ জাতীয় আরো খবর

খানসামায় বিষমুক্ত ব্রকলি চাষে কৃষক লাভবান

খানসামায় বিষমুক্ত ব্রকলি চাষে কৃষক লাভবান

ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুদ্দুস পরিবার

ঘরের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুদ্দুস পরিবার

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি ঘর

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈরি ঘর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতের প্রকোপে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শীতের প্রকোপে নাকাল হয়ে পড়েছে জনজীবন

গলাচিপায় তিন নারীর অসহায় জীবনযাপন

গলাচিপায় তিন নারীর অসহায় জীবনযাপন

রায়পুরায় স্থানীয় উদ্যোগে দৃষ্টি নন্দন কাঠের সেতু তৈরি

রায়পুরায় স্থানীয় উদ্যোগে দৃষ্টি নন্দন কাঠের সেতু তৈরি