পাথরঘাটায় যুবদল কর্মী নাসির হত্যায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে দায়ী করেছে স্থানীয় বিএনপি। হত্যা মামলায় পৌর শাখার সভাপতিসহ শিবিরের তিনজনকে আসামিও করা হয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, হতাকাণ্ডের নেপথ্যে শিবির নেতাদের ইন্ধন ছিল। জামায়াত অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
যুবদল নেতা নাসিরকে বুধবার দুপুরে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেওয়া হাসান গাজী, রাব্বি সিকদার ও ইব্রাহীম পাথরঘাটা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাব্বীর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা জামায়াতের সমাবেশে তাদের শিবিরকর্মী হিসেবে দেখা যায়।
যুবদল কর্মী নাসির হত্যাকে কেন্দ্র করে এখন পাথরঘাটা বিএনপি ও জামায়াত অনেকটা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইসমাইল সিকদারের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যাওয়া আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর অনেকে জামায়াত-শিবিরের প্রশ্রয়ে প্রকাশ্যে আসছেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনেককে শিবিরকর্মী পরিচয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, জামায়াত নেতারা আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীদের যারা আশ্রয় দিয়েছে, তাদেরও বিচার করতে হবে।
বিএনপির এ অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছে উপজেলা জামায়াত। বুধবার রাতেই এ নিয়ে পাথরঘাটা শহরের মুন্সীরহাট বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে বরগুনা জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শামিম আহম্মেদ বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে পাথরঘাটায় জামায়াত-বিএনপি সুসম্পর্কের মাধ্যমে রাজনীতি করছে। এ সম্পর্কে ফাটল ধরাতে তৃতীয় শক্তি ষড়যন্ত্র করছে।
নাসিরের বাবা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, বিএনপি করায় আমার ছেলে আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক নির্যাতন সয়েছে। যেই একটু ভালো থাকা শুরু করেছে, তখনই সন্ত্রাসীরা খুন করল। আমি এ হত্যার বিচার চাই।