রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে শেরপুরে খোলা স্কুল, অতঃপর...

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাবাংলা

রাষ্ট্র ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও শেরপুর জেলা শহরের বটতলা এলাকায় একটি

2025-12-31T21:23:23+00:00
2025-12-31T21:23:23+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে শেরপুরে খোলা স্কুল, অতঃপর...
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৯:২৩ পিএম   (ভিজিট : ১৫৫)
X

রাষ্ট্র ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও শেরপুর জেলা শহরের বটতলা এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ‘জিদনি মডেল স্কুল’-এর পরিচালক শিক্ষক আল আমিন (সুহেল)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্র ঘোষিত ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও ‘জিদনি মডেল স্কুল’ খোলা রাখা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীরা স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে প্রতিবাদ জানালে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর। তারা জানান, অভিযুক্ত আল আমিন (সুহেল) একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অথচ সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো লাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আইনগত সুযোগ নেই -যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী স্কুলটির সামনে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

শেরপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য একে এম আনাছ বলেন, “জাতীয় শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননার শামিল।”

শেরপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক বাপ্পি চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “গত ২০ তারিখে শহীদ ওসমান হাদীর মৃত্যুর কারণে সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসেও অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো কিছুকে তোয়াক্কা না করে স্কুল খোলা রেখেছিলেন। এটি রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতি চরম অবজ্ঞা।”

পৌর যুবদলের কর্মী ফাহিম মোর্শেদ বাধন বলেন, “একজন সরকারি শিক্ষক হয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কীভাবে সম্ভব -তা তদন্ত করে স্পষ্ট করা জরুরি।”

ছাত্রদলের কর্মী আরিফুল ইসলাম নিবিড় বলেন, “সারা দেশ যখন জাতীয় শোক দিবস পালন করছে, তখন সংশ্লিষ্টরা তা উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে নির্দেশ অমান্য করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘জিদনি মডেল স্কুল’-এর পরিচালক আল আমিন (সুহেল) পূর্বনির্ধারিত বাৎসরিক ফলাফল প্রকাশের অজুহাতে জাতীয় শোক দিবসে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ফলাফল সংগ্রহের জন্য উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মাহবুবা হক বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন- সরকার ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা কি প্রশাসনিক নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন নয়? একজন সরকারি শিক্ষক কীভাবে একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হন? তদন্ত কি কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে?






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy