
X
মোঃ সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, তিনি আজ বিকালে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পদ শূন্য হলে কী হবে?
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন। ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলেও সাংবিধানিক কোনো শূন্যতা সৃষ্টি হবে না।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও সংসদবিষয়ক গবেষক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কোনো বিরতি ঘটবে না।
বাংলাদেশে এর আগেও এমন নজির রয়েছে। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেন।
কত দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে তা পূরণের জন্য নির্বাচন করতে হবে। এটি সর্বোচ্চ সময়সীমা; তার আগেও নির্বাচন হতে পারে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সংবিধানের ১১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের তারিখ উল্লেখ থাকবে।
রাষ্ট্রপতি কীভাবে নির্বাচিত হন?
সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রার্থী নিজে সংসদ সদস্য না হলেও চলবে, তবে তার মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে।
মনোনয়ন যাচাইয়ের পর যদি একজন বৈধ প্রার্থী থাকেন, তাহলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গোপন নয়; ব্যালটপত্রে ভোটদাতা সংসদ সদস্য নিজের নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলটির সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদ কত হবে?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পদত্যাগ না করলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে।
তবে সংবিধানের ৫০(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, তিনি যদি পদত্যাগ করেন, তাহলে নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি তার অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণ করবেন না। বরং দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে নতুন করে পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শুরু হবে।