
X
ছবি: প্রতিনিধি
রাজারহাটে নির্মিত হয়েছে নতুন পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। দৃষ্টিনন্দন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও উদ্বোধনের পর এখনও চালু হয়নি। কার্যক্রম চালুর অপেক্ষায় থাকা এ ভবন নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত চালু হলে এটি উপজেলায় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশে সরকার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ ও পুরোনো লাইব্রেরির আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালে উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে নির্মাণাধীন ৪৪টি পাবলিক লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়, যা স্থানীয় পর্যায়ে পাঠাগার সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ।
রাজারহাটের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, নতুন লাইব্রেরিটির কার্যক্রম চালু হলে বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধন, মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির বই পড়ার সুযোগ পাবো। জাতীয় দৈনিক, সাময়িকী ও রেফারেন্স বই ব্যবহারের সুযোগ সাহিত্যচর্চা, বিতর্ক, বইপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সেমিনারে অংশ নিতে পারবো।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করলেই হবে না। পর্যাপ্ত নতুন বই, প্রশিক্ষিত গ্রন্থাগারিক, নিয়মিত পত্রিকা, পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবনটি ব্যবহারহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের মতে, রাজারহাটের নতুন পাবলিক লাইব্রেরি দ্রুত চালু হলে এটি শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগই বাড়াবে না, বরং উপজেলায় জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।
রাজারহাট কারিগরি বাণিজ্যিক কলেজের অধ্যক্ষ,আবুল হোসেন বলেন, লাইব্রেরি কেবল বই রাখার স্থান নয়; এটি একটি উপজেলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। যেখানে নিয়মিত পাঠচক্র, বইমেলা, লেখক-আলোচনা ও শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার কার্যক্রম পরিচালিত হলে তরুণ প্রজন্ম বইমুখী হবে।
এবিষয়ে, রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ্ তানজিলা তাসনিম বলেন, অতি শীঘ্রই পাবলিক লাইব্রেরিটির কার্যক্রম শুরু করা হবে। লাইব্রেরিটির দেখভাল-তদারকির জন্য জনবল প্রয়োজন।জনবল না থাকায় কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে আশার বিষয় হলো,অতি দ্রুতই আমরা কার্যক্রম চালু করবো।সাথে শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সব রকমের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।