প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২২ পিএম (ভিজিট : ৪)

X
সংগৃহীত ছবি
মশাবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৬ লাখ পুরুষ এশিয়ান টাইগার মশা ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ওলবাকিয়া’ নামের একটি প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া বহনকারী এসব পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না। তাদের মাধ্যমে স্ত্রী মশার বংশবিস্তার বন্ধ করে মশার সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হবে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মশা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘বি সেফ মসকুইটো কন্ট্রোল’-এর প্রতিষ্ঠাতা টড মন্টগোমারি এ উদ্যোগ নিয়েছেন। গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় প্রায় ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে এ কর্মসূচিতে ২৫ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। প্রত্যেক গ্রাহককে টানা ১৬ সপ্তাহ ধরে প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ৫০০টি করে পুরুষ মশা সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া বহনকারী পুরুষ মশা যখন ব্যাকটেরিয়াবিহীন স্ত্রী মশার সঙ্গে মিলিত হয়, তখন ওই স্ত্রী মশার ডিম থেকে নতুন মশা জন্ম নেয় না। ফলে কয়েক প্রজন্মের মধ্যে মশার সংখ্যা কমে আসতে পারে।
টড মন্টগোমারি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় উষ্ণ ও আর্দ্র দিনের সংখ্যা বাড়ছে। এতে রোগবাহী মশার প্রজনন ও সক্রিয় থাকার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প খুঁজে বের করা জরুরি।
এই কর্মসূচিতে মূলত এশিয়ান টাইগার মশাকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় প্রজাতি না হলেও এই মশা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। উত্তর ভার্জিনিয়ায় স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মন্টগোমারির উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো মশা নিয়ন্ত্রণে কীটনাশকের ব্যবহার কমানো। তাঁর কয়েকজন গ্রাহক পরিবার ও পোষা প্রাণীর ওপর রাসায়নিক কীটনাশকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন। এ কারণে তাঁরা বিকল্প হিসেবে ওলবাকিয়া পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।
তবে এই প্রযুক্তি নতুন নয়। সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সাল থেকে ‘প্রজেক্ট ওলবাকিয়া’র আওতায় বড় পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটির বেশি পুরুষ মশা ছাড়ার কর্মসূচি রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ওলবাকিয়াযুক্ত মশা ব্যবহারের মাধ্যমে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ফলে মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই জৈবিক পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।